বিশিষ্ট মহিলা ছাহাবী হযরত আসমা বিনতু আবী বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা
বিলাদত শরীফ: ৫৯৬ খ্রি: বিছাল শরীফ: ৭৩ হিজরী (৬৯৫ খ্রি:) বয়স মুবারক: ১০০ বছর।
, ১০ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০২ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ১৬ পৌষ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) মহিলাদের পাতা
পরিচিতি:
তিনি এমন একজন মহিলা ছাহাবী, উনার পিতা, দাদা, বোন, স্বামী ও পুত্র সবাই ছিলেন বিশিষ্ট ছাহাবী। সুবহানাল্লাহ! উনার পিতা হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জীবনকালের সার্বক্ষণিক, সর্বশ্রেষ্ঠ ছাহাবী। হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের পর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ অর্থাৎ আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পরে উনার প্রথম খলীফা।
উনার মা কুতাইলা বিনতু আবদিল উজ্জা, উনার দাদা হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম উনার পিতা হযরত আবু কুহাফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার বোন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাওয়ারী (বিশেষ খাদিম) ও আশারায়ে মুবাশ্শারা (বেহেশতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন উনাদের একজন) হযরত যুবাইর ইবনু আওয়াম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার আহাল বা স্বামী। এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে শহীদ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পুত্র। এই হলো হযরত আসমা বিনতু আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার সংক্ষিপ্ত পরিচয়।
হিজরতের ২৭ বৎসর পূর্বে তিনি মক্কা শরীফে বিলাদত শরীফ লাভ করেন। ইসলাম উনার আবির্ভাবের সময় তিনি বুদ্ধি বিবেচনার বয়সে পৌঁছেছিলেন। তিনি প্রাথমিক যুগে ইসলাম গ্রহণকারীগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। উনার মা ইসলাম গ্রহণ করেননি। এজন্য হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি তাকে তালাক দিয়েছিলেন।
যাতুন নিত্বাকাইন:
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হিজরতের জন্য হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার গৃহে আগমন করলে হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাদের ছফরের জন্য খাদ্যদ্রব্য ও পানীয় প্রস্তুত করলেন।
কিন্তু যখন দেখলেন যে, উনার নিতাক (কোমরবন্ধ) ব্যতীত ইহা বেঁধে দেয়ার মত আর কোন জিনিষ নেই তখন হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশ মত নিতাকটি ছিঁড়ে দুই টুকরা করে ফেললেন। উনার এক টুকরা দ্বারা খাদ্যের পুটলি এবং অন্য টুকরা দ্বারা মশকের মুখ বেঁধে দিলেন। এই কারণেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে “যাতুন নিত্বাকাইন” (দুই কোমরবন্ধের অধিকারিণী) বলে আখ্যায়িত করেন।
হিজরত ও মুহাজিরদের প্রথম সন্তান:
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ও হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনারা মদীনা শরীফ পৌঁছে নতুন স্থানে প্রাথমিক সমস্যা কাটিয়ে একটু স্থির হওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেন যে, মক্কা শরীফ থেকে মহিলাদের আনার ব্যবস্থা করতে হবে। উল্লেখ্য যে, হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার আহাল বা স্বামী হযরত যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্বেই মদীনা শরীফে পৌঁছে গিয়েছিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত যায়েদ বিন হারিছা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও স্বীয় গোলাম হযরত রাফি‘ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে মক্কা শরীফে পাঠালেন। আর এদিকে হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার ছেলে হযরত আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মা, দুই বোন হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা ও হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম এবং পরিবারের কয়েকজন মহিলাকে নিয়ে মদীনা শরীফের পথ ধরেন। হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তখন আসন্ন সন্তান সম্ভাবা মহিলা। মদীনা শরীফের কুবা পল্লীতে পৌঁছার পর গর্ভস্থ সন্তান হযরত আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বিলাদত শরীফ লাভ হয়। (তাবাকাত, উসুদুল গাবা)
তিনি ছিলেন মদীনা শরীফে মুহাজিরদের পরিবারে বিলাদত প্রাপ্ত প্রথম শিশু। পরবর্তীকালে হযরত আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলতেন, আমি আমার মায়ের পেটে থাকতেই হিজরত করেছি। তিনি আরো বলতেন, আমার মা আমাকে পেটে নিয়ে হিজরত করেছেন। তিনি যত ক্লান্তি ও ক্ষুধার কষ্ট সহ্য করেছেন, তার সবই ‘আমিও সহ্য করেছি। সুবহানাল্লাহ! (ইছাবা)
পারিবারিক জীবন:
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ফুফাত ভাই হযরত যুবাইর বিন আওওয়াম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সাথে হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার বিবাহ হয়। হিজরতের পর তিনি মদীনা শরীফে চলে আসলে এখানেই পারিবারিক জীবন যাপন করতে থাকেন। কিন্তু হযরত যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সংসার ছিল হিসাবী সংসার। সাংসারিক কাজে সাহায্যের জন্য কোন গোলাম-বাঁদী ছিল না। থাকার মধ্যে ছিল একটি ঘোড়া ও একটি উট। এইগুলির দেখাশুনা করতে হতো হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাকেই। হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি বলেন, আমি একবার সেই ভূখ-ে ছিলাম, যা বনু নাদ্বীরের ভূমি থেকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আবূ সালামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত যুবাইর বিন আওওয়াম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদেরকে দান করেছিলেন। হযরত যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে (সম্ভবতঃ কোন জিহাদে) চলে গেলেন। আমাদের এক প্রতিবেশী ছিল। সে একটি ছাগল জবাই করল। ইহা রান্না করা হলে, আমি এর ঘ্রাণ পেলাম। এই ঘ্রাণ আমার নিকট খুব চমৎকার বোধ হলো, কারণ আমি তখন সন্তান সম্ভাবা ছিলাম। আমার মেয়ে খাদীজা আমার পেটে ছিলেন। সেজন্য রান্না করা গোশতের ঘ্রাণ তীব্রভাবে অনুভব করলাম। সুতরাং আমি সেই প্রতিবেশী মহিলার নিকট বাতিতে আগুন ধরানোর অজুহাতে গেলাম, যেন সে উহা থেকে কিছু খেতে দেয়। কিন্তু মহিলা আমার উদ্দেশ্য বুঝতে পারেনি। অতঃপর আমি ঘরে ফিরে আসলাম এবং মহান আল্লাহ পাক উনাকে স্মরণ করতে লাগলাম। অতঃপর সেই মহিলার স্বামী ঘরে এসে জিজ্ঞাসা করল, বাইরে থেকে কেউ কি এসেছিলেন? সে বলল, হাঁ, একজন আরবী মহিলা বাতিতে আগুন ধরানোর জন্য এসেছিলেন। তখন সে বলল, আমি এ গোশত খাব না, যে পর্যন্ত না তুমি এখান থেকে কিছু গোশত উক্ত মহিলার নিকট না পাঠাও। অগত্যা সে আমার নিকট এক পাত্র রান্না করা গোশত প্রেরণ করল। সে সময় আমার নিকট এই খাদ্য অপেক্ষা অধিকতর আশ্চর্যজনক কোন বস্তু পৃথিবীতে ছিল না। (হায়ছামী, তাবারানী, হায়াতুছ ছাহাবা)
হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি এক সময় উনার আহাল বা স্বামীর থেকে জুদা হয়ে যান। আহাল থেকে জুদা হওয়ার পর তিনি উনার পুত্র হযরত আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট চলে আসেন এবং শেষ জীবন পর্যন্ত উনার সঙ্গেই থাকেন। হযরত আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার মাতার অত্যন্ত খেদমত গুজার ছিলেন। তিনি উনার আহাল বা স্বামী থেকে জুদা হওয়ার পরও উনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। উষ্ট্রের যুদ্ধে উনার আহাল বা স্বামী শহীদ হলে তিনি উনার জন্য দুঃখিত ও শোকাভিভূত হয়েছিলেন।
পুত্রের শাহাদাতে উৎসাহ দান:
উনার জীবনের সবচেয়ে দুঃখপূর্ণ ঘটনা হল, উনার পুত্র হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার শাহাদাত। মারওয়ানের সময় উমাইয়া রাজত্ব কেবল সিরিয়াতে সীমাবদ্ধ ছিল। সিরিয়ার বাইরে ইসলামী বিশ্ব ছিল হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার আয়ত্বাধীন। কিন্তু আবদুল মালেক সিংহাসনে আরোহণ করে একের পর এক তাদের হারানো এলাকা পূনরুদ্ধার করতে লাগলো। হাজ্জাজ বিন ইউসুফ বিজয়ের সাথে অগ্রসর হচ্ছিল। হিজরী ৭৩ সনে তার হাতে মক্কা শরীফ অবরোধ যখন এমন কঠোরতার পর্যায়ে পৌঁছল যে, হযরত আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সঙ্গী-সাথীগণ উনাকে ত্যাগ করে হাজ্জাজের নিকট নিরাপত্তার আশ্রয় প্রার্থনা করতে লাগল। তখন হযরত আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার মাতার নিকট গিয়ে বললেন, মাত্র কয়েকজন সঙ্গী আমার নিকট রয়েছে। এমতাবস্থায় আমি আত্মসমর্পন করলে তাদের নিরাপত্তা লাভ করা যাবে। হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বললেন, আপনি যে রাজত্ব ও ক্ষমতা লাভ করেছেন তা যদি দুনিয়ার জন্য করে থাকেন, তবে আপনার চেয়ে নিকৃষ্ট আর কোন মানুষ নেই। তিনি বললেন, আমি যা করেছি দ্বীনের জন্যই করেছি, কিন্তু আমার আশঙ্কা হচ্ছে যে, আমি শহীদ হলে সিরিয়াবাসী আমার লাশের অবমাননা করবে। হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি বললেন, কোন ক্ষতি নেই, সঠিক দ্বীনের উপর কায়িম থাকুন। শহীদ হওয়ার পর মানুষের ভয়ের কিছু নেই। কারণ, জবেহ করা ছাগলের চামড়া তোলার সময় সে কষ্ট পায় না।
একথা শুনে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মুখ মন্ডলের দীপ্তি আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠল। তিনি বললেন, আমার কল্যানময়ী মা, আপনার সুমহান মর্যাদা আরো কল্যানময় হোক। এ সংকটময় মুহূর্তে আপনার মুখ থেকে কেবলমাত্র এ কথাগুলি শোনার জন্য আমি আপনার খিদমতে হাজির হয়েছিলাম। মহান আল্লাহ পাক তিনি জানেন, আমি ভীত হইনি, আমি দুর্বল হইনি। তিনিই সাক্ষী, আমি যে জন্য জিহাদ করছি, তা কোন জাগতিক সুখ সম্পদ ও মর্যাদার প্রতি লোভ-লালসা ও মুহব্বতের কারণে নয়। বরং এ জিহাদ হারামকে হালাল ঘোষণা করার প্রতি আমার ঘৃণা ও বিদ্বেষের কারণেই। আমি শহীদ হলে আমার জন্য কোন দুঃখ করবেন না এবং আপনার সবকিছুই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরতী হাত মুবারকে সোপর্দ করবেন।
হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বললেন, যদি আপনি অসত্য ও অন্যায়ের উপর শহীদ হন, তাহলে আমি ব্যথিত হব।
হযরত আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, আম্মা! আপনি বিশ্বাস রাখুন, আপনার এ সন্তান কখনও অন্যায় অশ্লীল কাজ করেননি, মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুম-আহকাম লঙ্ঘন করেননি, কারো বিশ্বাস ভঙ্গ করেননি, কোন মুসলমান বা জিম্মীর উপর জুলুম করেননি এবং মহান আল্লাহ পাক উনার রেজামন্দী সন্তুষ্টি মুবারক অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর কোন কিছু এ দুনিয়ায় উনার কাছে নেই। এ কথাগুলি দ্বারা নিজকে পবিত্র ও নিষ্পাপ বলা আমার উদ্দেশ্য নয়। কারণ, আমার সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনিই বেশী ভাল জানেন। আপনার অন্তরে ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা সৃষ্টি হোক- এ জন্যই শুধু কথাগুলি বলছি।
জবাবে হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বললেন, সেই মহান আল্লাহ পাক উনার প্রশংসা, যিনি উনার ও আমার পছন্দনীয় কাজের উপর আপনাকে অটল রেখেছেন। আপনি আমার কাছে একটু এগিয়ে আসুন, শেষ বারের মত একটু আপনার শরীরের সুঘ্রান নেই এবং আপনাকে স্পর্শ করি। কারণ, এটাই আমার ও আপনার ইহজীবনের শেষ সাক্ষাৎ। অতঃপর হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি ছেলের মাথা, মুখ ও কাঁধে নিজের নাক ও মুখ ঠেকিয়ে ঘ্রান নিতে লাগলেন ও উনার শরীরে নিজের দু’টি হাতের পরশ বুলিয়ে দিলেন। হঠাৎ হযরত আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বর্মের প্রতি লক্ষ্য করে তিনি বললেন, আবদুল্লাহ! আপনি এ কি পরেছেন? তিনি বললেন, আম্মা! এতো আমার বর্ম। হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বললেন, বৎস! যারা শাহাদাতের আকাঙ্খী এটা তাদের পোষাক নয়। আপনি এটা খুলে ফেলুন। এটা হবে আপনার কর্মতৎপরতা, গতি ও চলাফেরার পক্ষেও সহজতর। তার পরিবর্তে আপনি লম্বা সেলোয়ার পরিধান করুন। তাহলে আপনাকে মাটিতে ফেলে দেয়া হলেও আপনার সতর অপ্রকাশিত থাকবে। মায়ের কথামত হযরত আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ম খুলে সেলোয়ার পরলেন এবং এ কথা বলতে বলতে হেরেম শরীফের দিকে যুদ্ধে যোগদানের উদ্দেশ্যে চলে গেলেন। যাওয়ার পূর্বে তিনি বললেন, আম্মা! আমার জন্য দোয়া করবেন। সাথে সাথে উনার মা হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার দু’টি হাত আকাশের দিকে তুলে পুত্রের জন্য দোয়া করলেন। সেদিন সূর্য অস্ত যাওয়ার আগেই হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি শাহাদাত লাভ করেন। শাহাদাত লাভের পূর্বে উনার জবান থেকে নিচের চরণ দু’টি উচ্চারিত হচ্ছিল-
أسماء إن قتلت لا تبكينى -- لم يبقى إلا حسبى و دينى و صارمٌ لانتْ به يمينى
(আমার মা হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা! আমি শহীদ হলে আমার জন্য কাঁদবেন না। আমার আভিজাত্য ও আমার দীনদারী ছাড়া আর অন্য কিছু অবশিষ্ট নেই। আর অবশিষ্ট আছে একখানি ধারালো তরবারি যা দিয়ে আঘাত করতে করতে আমার ডান হাত দুর্বল হয়ে গেছে।) (হায়াতুছ ছাহাবা)
সাহসিকতা ও পুত্রের জিসিম মুবারক দাফন:
হযরত আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে শহীদ করার পর হাজ্জাজ উনার জিসিম মুবারককে ৩ দিন পর্যন্ত লটকিয়ে রেখেছিল। হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি অতিশয় ধৈর্যের সাথে এই দৃশ্য দেখলেন। লটকানো জিসিম মুবারকের কাছে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত শান্তভাবে বললেন, এ সওয়ারীর এখনও ঘোড়া থেকে নামার সময় হলো না? জনতার ভীড় কমানোর উদ্দেশ্যে উনাকে নেয়ার জন্য হাজ্জাজ লোক পাঠায়। তিনি যেতে অস্বীকৃতি জানান। সে আবারো লোক মারফত বলে পাঠায়, এবার না আসলে উনার চুলের গোছা ধরে টেনে আনা হবে। নাঊযুবিল্লাহ! হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা হাজ্জাজের ভয়ে ভীত হলেন না। তিনি গেলেন না।
এবার হাজ্জাজ নিজেই আসল। উনাদের দু’জনের মধ্যে নিম্নরূপ কথাবার্তা হলো, হাজ্জাজ বলল, বলুন তো, আমি মহান আল্লাহ পাক উনার দুশমন ইবনে যুবায়েরের সাথে কেমন ব্যবহার করেছি? নাঊযুবিল্লাহ! হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বললেন, তুমি উনার দুনিয়া নষ্ট করতে চেয়েছ। আর উনার কারণে তোমার পরকাল নষ্ট হয়েছে। মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আমি “যাতুন নিত্বাকাইন”। আমি একটি নিত্বাক (কোমরবন্ধ) দিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাদের খাবার বেঁধেছি। আরেকটি নিত্বাক আমার কোমরেই আছে। মনে রেখ, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট থেকে আমি শুনেছি, ছাক্বীফ গোত্রে একজন মিথ্যাবাদী ভ- এবং একজন যালিম পয়দা হবে। মিথ্যাবাদীকে তো আগেই দেখেছি (আল-মুখতার), আর জালিম তুমিই। হাজ্জাজ এই হাদীছ শরীফ শুনে নীরব হয়ে যায়। (মুসলিম শরীফ)
অতঃপর জিসিম মুবারক উনার মাতার হস্তে সমর্পন করা হলে তিনি উনাকে মদীনা শরীফে দাফন করেন।
বিছাল শরীফ:
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার শাহাদাত মুবারকের কিছুদিনের মধ্যেই হিজরী ৭৩ সনে হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনিও পবিত্র বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন। তখন উনার বয়স মুবারক হয়েছিল ১০০ বৎসর। হযরত মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্না উনাদের মধ্যে তিনিই সর্বশেষে ওফাতপ্রাপ্ত হন। (সিয়ারু আলামিন নুবালা)
উনার স্বাস্থ্য অত্যন্ত ভাল ছিল। তিনি ১০০ বৎসর জীবিত ছিলেন। উনার বার্ধক্যজনিত বুদ্ধি বিভ্রম ঘটেনি। দাঁতও সবগুলি অটুট ছিল।
ফযীলত ও মর্যাদা:
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাকে “যাতুন নিত্বাকাইন” (দুই নিত্বাক বা কোমরবন্ধের অধিকারিণী) উপাধি দিয়েছিলেন, কারণ হিজরতের সময় তিনি উনার কোমর বন্ধকে দুই ভাগ করে একটি দিয়ে ছফরের জন্য খাদ্যদ্রব্যের থলের মুখ বেঁধে দিয়েছিলেন এবং অন্য অংশ দিয়ে পানির মশকের মুখ বেঁধে দিয়েছিলেন।
হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি ছিলেন তীক্ষè বুদ্ধিমতী। উনার বুদ্ধিমত্তার প্রকাশ ঘটেছিল বিভিন্ন সংকটের সময়। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাদের হিজরতের খবর পবিত্র মক্কা শরীফে ছড়িয়ে পড়লে পরদিন আবু জাহেল ও আরো কতিপয় কুরাইশ নেতা সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার বাড়ীতে আসে এবং হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাকে সামনে পেয়ে তারা উনাকে জিজ্ঞাসা করে, আপনার বাবা কোথায়? তিনি উত্তর দিলেন, তিনি এখন কোথায় আমি কি করে বলব? এ উত্তর শুনে নরাধম আবু জাহেল উনার গালে এমন জোরে থাপ্পড় দেয় যে, উনার কানের দুল দু’টি ছিটকে পড়ে যায় এবং তিনি মাটিতে পড়ে যান। নাঊযুবিল্লাহ!
হিজরতের সময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ও সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম ছাওর পর্বতের গুহায় অবস্থানকালে রাতের অন্ধকারে হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাদের জন্য খাবার ও পানীয় নিয়ে যেতেন।
উনার পিতা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি হিজরতের সময় যাবতীয় নগদ অর্থ সাথে নিয়ে যান। দাদা হযরত আবু কুহাফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (তখনও তিনি ইসলাম গ্রহণ করেননি) তা জানতে পেরে বললেন, তিনি জান ও মাল উভয় ধরনের কষ্ট দিয়ে গেলেন। হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি দাদাকে বললেন, না, তিনি অনেক সম্পদ রেখে গেছেন। এ কথা বলে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম যেখানে অর্থ-সম্পদ রাখতেন সেখানে পাথর রেখে দিলেন। অতঃপর তিনি হযরত আবু কুহাফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে ডেকে এনে বললেন, দেখুন, তিনি এসব রেখে গেছেন। তিনি কাপড়ে ঢাকা পাথরগুলির উপর হাত বুলিয়ে দেখে মনে করলেন এগুলি টাকা পয়সা। হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বলেন, আমি আমার দাদাকে সান্তনা দেয়ার জন্যই এরূপ করেছিলাম। নতুবা সেখানে পাথর ব্যতীত কোন টাকা পয়সা ছিল না।
হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা অত্যন্ত উদারচিত্ত, ধৈর্যশীলা ও অল্পে তুষ্ট স্বভাবের ছিলেন। হযরত যুবাইর বিন আওওয়াম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সঙ্গে যে সময় উনার শাদী মুবারক হয়, তখন হযরত যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু অনেক সম্পদশালী ছিলেন না। হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার কোন চাকর-বাকর ছিল না এবং একটি মাত্র ঘোড়া ছাড়া পরিবারের প্রয়োজন মিটানোর জন্য কোন বিশেষ সম্পদও ছিল না। তিনি আহাল বা স্বামীর সেবা করতেন, নিজ হাতে উনার ঘোড়াটির জন্য ভুষি পিষতেন এবং তার তত্ত্বাবধান করতেন। নিজের আহাল বা স্বামীর জমি হতে খেজুরের আঁটি কুড়িয়ে কুড়িয়ে নিজের মাথায় নিতেন এবং বহু পথ অতিক্রম করে বাড়ীতে ফিরতেন। জমিটি ছিল পোনে এক ফারসাখ দূরে। তিনি বলেন, একদিন আমি খেজুরের আঁটি মাথায় করে ঘরে ফিরছি, এমন সময় পথে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে দেখা। উনার সাথে তখন আরো কয়েকজন লোক ছিলেন। তিনি আমাকে ডাকলেন এবং উনার বাহনের পিঠে উঠে বসার জন্য বললেন। কিন্তু আমি লজ্জায় বাহনে উঠলাম না। বাড়ী ফিরে আমি এ ঘটনার কথা হযরত যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বললাম। এবার পিতা সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম আমার জন্য একটি চাকর দেন। সেই তখন ঘোড়ার দায়িত্ব গ্রহণ করে। সে যেন এ দায়িত্ব নিয়ে আমাকে মুক্তি দিল। (সিয়ারু আলামিন নুবালা, তাবাকাত)
মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে ধন-সম্পদ দান করেছিলেন। তিনি উহা দান করতে কুন্ঠা বোধ করেননি। তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার একটি তৃণভূমি লাভ করেন এবং উহা এক লক্ষ দিরহামে বিক্রয় করে সমুদয় অর্থ আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে বন্টন করে দেন। উনার পুত্র হযরত আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, আমি আমার মা হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা ও খালা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাদের থেকে অধিক দানশীলা কোন নারী দেখিনি। তবে উনাদের দু’জনের দানের নিয়ম পৃথক ছিল। আমার খালার স্বভাব ছিল, প্রথমত: তিনি বিভিন্ন জিনিষ একত্র করতেন। যখন দেখতেন যে যথেষ্ট পরিমাণ জমা হয়ে গেছে, তখন হঠাৎ করে তা সবই একদিন গরীব মিসকিনদেন মাঝে বিলিয়ে দিতেন। কিন্তু আমার মাতার স্বভাব ছিল ভিন্নরূপ। তিনি আগামীকাল পর্যন্ত কোন জিনিষ নিজের জন্য জমা করে রাখতেন না। (সিয়ারু আলামিন নুবালা)
শরীয়তের উপর উনার এরূপ প্রবল নিষ্ঠা ছিল যে, একবার উনার মাতা পবিত্র মদীনা শরীফে এসে কিছু সাহায্য প্রার্থনা করলে তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে হাজির হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন যে, তিনি উনার মুশরিক মাতাকে সাহায্য করতে পারবেন কিনা? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি আত্মীয়তার বন্ধন সূদৃঢ় করতে নিষেধ করেন না।
হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি বিনীত ও বিনম্রভাবে ইবাদতে মশগুল থাকতেন এবং একাগ্রচিত্তে পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করতেন। বিশেষ কোন আয়াত শরীফ পাঠের সময় বার বার তা আওড়াতে থাকতেন। উনার আহাল বা স্বামী বর্ণনা করেন, আমি একদিন হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার ঘরে প্রবেশ করে দেখি তিনি নামাযে দাঁড়িয়ে এই আয়াত শরীফ
فَمَنَّ اللهُ عَلَيْنَا وَ وَقَانَا عَذَابَ السَّعِيْرِ
(অতঃপর আমাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক তিনি অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন) পাঠ করলেন। তারপর পাঠ করলেন আউযুবিল্লাহ। আমি দাঁড়িয়ে থাকলাম, কিন্তু তিনি কাঁদছেন এবং আউযুবিল্লাহ পাঠ করছেন। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে আমি বাজারে গেলাম। কাজ সেরে আবার সেখানে ফিরে গিয়ে দেখলাম, তখনো তিনি কাঁদছেন, আর আউযুবিল্লাহ পাঠ করছেন। (হিলইয়াতুল আউলিয়া)
হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার থেকে ৫৬টি হাদীছ শরীফ বর্ণিত আছে। ১৩টি মুত্তাফাক আলাইহি, বুখারী শরীফে পাঁচটি ও মুসলিম শরীফে চারটি এককভাবে বর্ণিত হয়েছে। বহু বিশিষ্ট ছাহাবী উনার নিকট থেকে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন। (সিয়ারু আলামিন নুবালা)
সূত্র: তাবাকাত, উসুদুল গাবা, হায়াতুছ ছাহাবা, সিয়ারু আলামিন নুবালা, মুসলিম শরীফ, ইছাবা, অন্যান্য ইতিহাস গ্রন্থ।
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (৮)
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পুরুষ ও মহিলার নামাযের পার্থক্য
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দুনিয়ার চাকচিক্যে মোহগ্রস্ত হয়ে বদ আমল করার কারণে মানুষকে পরকালে পাকড়াও হতে হবে (১)
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
তালাকদাতা ও তালাকপ্রার্থিনী উভয়ের জন্য রয়েছে অসন্তুষ্টি (৪)
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাছ দোয়া মুবারক পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম পবিত্র যাকাত আদায়
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (৭)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












