বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কতিপয় ক্বওল শরীফসমূহ
, ০৬ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৯ খ্বমিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রি:, ০২ কার্তিক, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
১। ছাগল মানুষের চেয়ে সাবধান। কারণ, সে রাখালের ডাক শুনে ঘাস খাওয়া বন্ধ করে ও তার দিকে দৌড়ে আসে। পক্ষান্তরে মানুষ মহান আল্লাহ পাক উনার আহ্বান শুনে উনার দিকে দৌড়ে যায় না এবং পাপ কাজ থেকে বিরত হয় না।
২। অসৎ লোকের সংসর্গে থাকলে সে সৎলোকের প্রতি অসৎ ভাব জন্মিয়ে দেয়।
৩। যদি কেউ আমাকে মদ ও দুনিয়াদারীর প্রতি আহ্বান করে, তাহলে আমি দুনিয়াদারীকে অধিক অপছন্দ করব।
৪। যখন দেখব, তোমার মনে বিন্দুমাত্রও মহান আল্লাহ পাক উনার বিরোধিতা নেই তখনই আমি বুঝব, তুমি প্রকৃত মা‘রিফাত লাভ করেছ।
৫। অনন্ত সুখময় জান্নাত শুধুমাত্র কয়েকদিনের বাহ্যিক কিছু আনুষ্ঠানিকতা দ্বারা লাভ করা যায় না। বরং তা আন্তরিকতা ও রিয়াযত-মাশাক্কাত দ্বারা লাভ করতে হয়।
৬। জান্নাতীগণ সর্বপ্রথম যখন জান্নাতে প্রবেশ করবেন, তখন মহান আল্লাহ পাক উনার নূর মুবারক দর্শন করে উনারা শত শত বছর চেতনা হারিয়ে বিভোর হয়ে থাকবেন। উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার নূর মুবারকের তাজাল্লী দেখে ভয়ে ও আতঙ্কে অভিভূত হয়ে পড়বেন এবং উনার অপার সৌন্দর্য মুবারক প্রত্যক্ষ করে উনার তাওহীদে ডুবে থাকবেন।
৭। ইস্তেখারার বিষয়টি হচ্ছে আয়নার মত। তাতে তোমার ভাল-মন্দ কাজগুলি প্রতিফলিত ও সুস্পষ্ট হয়ে উঠে। যখন সৎচিন্তা মনে উদিত হবে তখন মনে করবে, তুমি সৎ পথে আছ। আর যখন মনে কু-চিন্তা জাগবে, তখন মনে করবে, তুমি অসৎ পথের পথিক হয়েছ।
৮। যার কথা নির্বোধের ন্যায় যুক্তিহীন, সে ব্যক্তি বিপদসদৃশ অর্থাৎ তার কথা তোমাকে বিপথে চালিত করতে পারে।
৯। নীরব চিন্তায় যার হৃদয় মহান আল্লাহ পাক উনার গোপন ভেদ না জানে, সে দুনিয়াদারি ও অলসতায় ডুবে আছে এবং যার দৃষ্টিতে মহান আল্লাহ পাক উনার গোপন ভেদের আভাস নেই, তার দৃষ্টি ধূলিতে আচ্ছন্ন, অর্থাৎ সত্যদৃষ্টি সে লাভ করেনি।
১০। তাওরাত শরীফে আছে, যে ব্যক্তি অল্পে তুষ্টি (قناعت) অভ্যাস করে, সে পরমুখাপেক্ষী নয়। যে ব্যক্তি মানুষের সংশ্রব থেকে মুক্ত হয়েছে সে ব্যক্তিই প্রকৃত তুষ্টি লাভ করেছে। যে ব্যক্তি নফ্স্কে বশ করেছে, সেই স্বাধীন। যে হিংসা ত্যাগ করেছে, সেই বন্ধুত্ব লাভের যোগ্য। যার হিংসা নেই, লোকে তাকে মুহব্বত করে ও তার বন্ধুত্ব কামনা করে। যে কিছুদিন (পার্থিব জীবনে) ধৈর্য ধারণ করতে পারে, সে অনন্তকাল (আখিরাতে) সুখে থাকার যোগ্যতা লাভ করে।
১১। হৃদয় কথা না বলা পর্যন্ত জ্ঞানী লোক চুপ করে থাকেন। যারা জ্ঞানী ও মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করেন উনারা হৃদয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার ইলহাম লাভ করেন। মহান আল্লাহ পাক উনার ইলহাম উনাদের জিহ্বায় উচ্চারিত হয় মাত্র।
১২। মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বতের বান্দার দু’টি লক্ষণ আছে- (১) যে যে বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার অসন্তুষ্টি রয়েছে, সেসব বিষয় থেকে তিনি ইন্দ্রিয়গুলোকে (চোখ) সংযত করে রাখেন। (২) যাতে মহান আল্লাহ পাক তিনি সন্তুষ্ট হন, সে চেষ্টায় তিনি সর্বদা রত থাকেন।
১৩। এক মুহূর্তকাল দুনিয়ার অনাসক্তি হাজার বছরের রোযা, নামাযের চেয়ে উত্তম।
১৪। যখন মনে করবে যে, তোমার মধ্যে প্রবঞ্চনা নেই, তখন পৃথিবীর যাবতীয় বস্তু অপেক্ষা নিজ প্রাণকে অধিক মুহব্বত করবে।
১৫। এমন কোন মহৎ ব্যক্তি বিলাদত শরীফ লাভ করেননি এবং ভবিষ্যতেও করবেন না, যিনি মুনাফিকদের প্রতারণার ভয়ে ভীত ও কম্পিত নন।
১৬। তিনিই প্রকৃত মু’মিন যিনি মহান আল্লাহ পাক উনার কসম করে বলতে পারেন যে, তিনি মু’মিন।
১৭। ধীর-স্থির ও অচঞ্চল ব্যক্তিই প্রকৃত মু’মিন। যা মনে আসে তা-ই করেন না এবং মুখে যা আসে তা-ই বলেন না।
১৮। তিন ব্যক্তির অসাক্ষাতে নিন্দা করলে গীবত হয় না: (১) লোভী, (২) ফাসিক (যে সর্বদা অসৎকার্যে লিপ্ত), (৩) অত্যাচারী শাসক বা নেতা।
১৯। পরনিন্দা বা গীবতের জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করা অবশ্য কর্তব্য। যার নিন্দা করা হয়েছে, তার নিকট ক্ষমা চেয়ে পরে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট ক্ষমাপ্রার্র্থী হতে হবে।
২০। দুনিয়াদার লোক তিনটি আক্ষেপ নিয়ে ইহধাম ত্যাগ করে: (১) ধন-সম্পদ পরিপূর্ণভাবে না পাওয়ার দুঃখ, (২) আশা অপূর্ণ থাকার দরুণ মনোকষ্ট, এবং (৩) পরকালের পাথেয় সঞ্চিত হয়নি বলে ভয়।
২১। যার বোঝা হালকা সে মুক্তি পায়। আর যার বোঝা ভারী সে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
২২। যারা দুনিয়াকে একটি আমানত বলে মনে করেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে ক্ষমা করবেন। যারা আমানতের মাল মালিককে (মহান আল্লাহ পাক উনাকে) ফেরত দিয়ে বোঝা হালকা করে তারা অনায়াসে পরকালের পথে রওয়ানা করবেন।
২৩। যে ব্যক্তি পৃথিবীর আবাসস্থল ভেঙ্গে তার ভগ্নস্তুপের উপর আখিরাতের বালাখানা নির্মান করে এবং দুনিয়ার মোহে আখিরাতের বালাখানা ধ্বংস না করে ও আখিরাতের গৃহকে ধ্বংস করে তার ভগ্নাবশেষের দ্বারা দুনিয়ার গৃহ নির্মান করতে মত্ত না হয়, আমার মতে সে-ই বুদ্ধিমান।
২৪। মহান আল্লাহ পাক উনাকে যিনি প্রকৃতভাবে চিনেছেন, তিনিই উনার সাথে মুহব্বত স্থাপন করেছেন। যে ব্যক্তি শুধু দুনিয়াকেই চিনেছে, সে মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে শত্রুতা করেছে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কোন মুসলমানের জন্য কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইখলাছই হচ্ছে সমস্ত ইবাদতের মূল। ইখলাছবিহীন ইবাদত প্রাণহীন প্রাণীর ন্যায়। প্রত্যেকের জন্য ইখলাছ অর্জন করা ফরযে আইন
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মানুষকে আমলের প্রতি নিরুৎসাহিত করতেই পবিত্র হাদীছ শরীফ নিয়ে মওজু-জয়ীফ ইত্যাদি অপপ্রচার করছে বাতিল ফিরক্বারা
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ফাদ্বায়িলে উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম (৩)
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
কাফির-মুশরিকদের বিরুদ্ধে মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় জিহাদ করা ফরজে আইন
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিধর্মী-অমুসলিমরা কখনো মুসলমানদের ভাই/বন্ধু নয়, বরং তারা মুসলমানদের চির শত্রু (৩য় পর্ব)
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
খাদিমু রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৬)
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (১১)
১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












