বিবাহ-শাদীর গুরুত্ব-ফযীলত ও খাছ সুন্নতী তারতীব (২)
, ০৭ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
পূর্ব প্রকাশিতের পর
বিবাহ সংঘটিত হওয়ার শব্দাবলী:
যে কোনো ভাষায় বিবাহ করা বা দেওয়া বুঝায় এমন সব শব্দে বিবাহ সংঘটিত হবে। যেমন বলা,
(زَوَّجْتُ أَوْ نَكَحْتُ) আমি বিবাহ করলাম বা বিবাহ দিলাম।
অথবা বলা, (قَبِلْتُ هٰذَا النِّكَاحَ) আমি এ বিবাহ কবুল করলাম।
অথবা (تَزَوَّجْتُهَا) আমি তাকে বিবাহ করলাম, বা (تَزَوَّجْتُ) আমি বিবাহ করলাম।
অথবা (رَضِيْتُ) এ বিবাহে আমি রাজি আছি।
আরবী ভাষার শব্দ ব্যবহার করা মুস্তাহাব। তবে যাদের আরবী ভাষা জানা নেই তারা তাদের ভাষায় প্রস্তাবনা ও কবুল করলেই বিবাহ সংঘটিত হবে।
বিবাহের রুকনসমূহ:
বিবাহের রুকন দু’টি। তা হলো:
১- প্রস্তাব (اَلْإِيْـجَابُ): অলী অর্থাৎ অভিভাবক অথবা যিনি তার স্থলাভিষিক্ত হবেন তার পক্ষ থেকে বিবাহ করার বা বিবাহ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া।
২- কবুল (اَلْقُبُوْلُ): আহাল বা তার স্থলাভিষিক্ত থেকে বিবাহ কবুল করার শব্দ। যেমন বলা, (قَبِلْتُ) আমি বিবাহ কবুল করলাম বা (رَضِيْتُ هٰذَا النِّكَاحَ) এ বিবাহে আমি রাজি আছি বা শুধু কবুল করেছি বলা।
ইজাব অর্থাৎ প্রস্তাব কবুলের আগে হতে হবে, তবে কোনো আলামত থাকলে আগে কবুল বললেও হবে।
বিবাহের শর্তাবলী:
বিবাহের শর্ত চারটি। তা হচ্ছে:
১- আহাল-আহলিয়া নির্ধারিত হওয়া।
২- আহাল-আহলিয়া উভয়ের সম্মতি থাকা। অতএব, আহাল-আহলিয়া কাউকে জোর করে বিবাহ দেওয়া জায়েয নেই। বাকেরা (কুমারী) ও সাইয়্যিবাহ (অকুমারী) উভয়ের অনুমতি নিবে।
মাসয়ালা: বাকেরার (কুমারীর) চুপ থাকা সম্মতির লক্ষণ। আর সাইয়্যিবাহ্র (অকুমারীর) মৌখিক সম্মতি নিতে হবে। পাগল ও নির্বোধের ক্ষেত্রে এটি শর্ত নয়।
৩- অভিভাবক: অভিভাবক পুরুষ, স্বাধীন, বালিগ (প্রাপ্তবয়স্ক), আকেল (জ্ঞানবান), বিচক্ষণ ও ন্যায়পরায়ণ হওয়া শর্ত। বিবাহের ক্ষেত্রে মেয়ের বাবা তার অভিভাবক হওয়ার দিক থেকে সর্বাধিক যোগ্য, অতঃপর বাবার অসিয়তকৃত ব্যক্তি, অতঃপর তার দাদা, এভাবে উর্ধতন দাদারা, অতঃপর তার ছেলে ও নিম্নতম ছেলেরা, তার সহোদর ভাই, অতঃপর তার বৈমাত্রেয় ভাই, অতঃপর এসব ভাইয়ের ছেলেরা, অতঃপর, আপন চাচা, অতঃপর বৈমাত্রেয় চাচা, অতঃপর তাদের সন্তানেরা, অতঃপর বংশীয় নিকটাত্মীয়রা, অতঃপর খলীফাহ অভিভাবক হবেন।
৪- সাক্ষ্য: ন্যায়পরায়ণ, পুরুষ ও সম্মানিত শরীয়ত উনার বিধান প্রযোজ্য (প্রাপ্তবয়স্ক) এমন দু’জন সাক্ষ্যের সাক্ষী ছাড়া বিবাহ শুদ্ধ হবে না।
উল্লেখ্য আহাল-আহলিয়া উভয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার জন্য সম্মানিত শরীয়ত উনার নিষেধাজ্ঞামুক্ত থাকা অর্থাৎ যাদের সাথে বিবাহ হারাম তাদের অন্তর্ভুক্ত না হওয়া। (অসমাপ্ত)
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র যাকাত-ফিতরা, উশর আদায়ের হুকুম আহকাম ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতার ও সাহরীতে খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (হাব্বাতুস সাওদা) - ১
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত-সম্পৃক্ত থাকা সকলের জন্য আবশ্যক
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত সন্তুষ্টি মুবারক সকল নেয়ামতের মূল
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (৩)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (২)
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (১)
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












