সুন্নত মুবারক তা’লীম
বিবাহের পূর্বে বরকে ও কনেকে দেখার সম্মানিত শরয়ী অর্থাৎ মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ
, ১১ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
বিবাহের উদ্দেশ্যে ছেলে বা মেয়েকে দেখার পবিত্র সুন্নতী তারতীব:
বিবাহের পূর্বে কনে দেখা খাছ সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি যে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত হবেন সেই বিষয়টি স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বিশেষভাবে মহাসম্মানিত স্বপ্ন মুবারকে মহসম্মানিত মহাপবিত্র নিসবাতুল আযীম শরীফ উনার পূর্বেই দেখানো হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيْقَةِ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُرِيْتُكِ فِي الْمَنَامِ مَرَّتَيْنِ إِذَا رَجُلٌ يَـحْمِلُكِ فِيْ سُرَقَةِ حَرِيْرٍ فَيَقُوْلُ هٰذِهٖ اِمْرَأَتُكَ. فَأَكْشِفُهَا فَإِذَا هِيَ أَنْتِ فَأَقُوْلُ إِنْ يَّكُنْ هٰذَا مِنْ عِنْدِ اللهِ يُـمْضِهٖ
অর্থ: সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বর্ণনা করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমাকে মহাসম্মানিত স্বপ্ন মুবারকে দু’বার আপনাকে দেখানো হয়েছে। এক ব্যক্তি (হযরত ফেরেশতা আলাইহিস সালাম) অতীব সুন্দর একখানা রেশমী কাপড় দ্বারা আপনাকে ভালোভাবে ঢেকে নিয়ে আমার কাছে হাজির হলেন। আমাকে বললেন, ইনি হচ্ছেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম। আমি আপনার মহাসম্মানিত চেহারা মুবারক থেকে মুবারক কাপড়টা একটু সরিয়ে দেখতে পেলাম সেটা আপনিই। তখন বললাম, নিশ্চয়ই ইহা মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে। কাজেই, তিনিই তার বাস্তবায়ন করবেন। সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ)
বিবাহের পূর্বে কনেকে দেখার মহাসম্মানিত নির্দেশ মুবারক:
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ خَطَبْتُ اِمْرَأَةً فَقَالَ لِيْ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: هَلْ نَظَرْتَ إِلَيْهَا؟ قُلْتُ لَا قَالَ فَانْظُرْ إِلَيْهَا فَإِنَّهٗ أَحْرٰى أَنْ يُّؤْدَمَ بَيْنَكُمَا
অর্থ: হযরত মুগীরা ইবনে শু’বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, আমি একদিন একজন নারীকে বিবাহের প্রস্তাব করলাম। তা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারকে জানালাম। তিনি আমাকে বললেন, আপনি কি উনাকে দেখেছেন? আমি বললাম, না। আমি এখনো উনাকে দেখিনি। তিনি আমাকে মহাসম্মানিত নির্দেশ মুবারক দিলেন, সেই মেয়েকে দেখে নিন। উনাকে দেখার কারণে আপনাদের উভয়ের মধ্যে মুহব্বত পয়দা হবে, মুহব্বত বৃদ্ধি পাবে। সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, নাসায়ী শরীফ, ইবনে মাযাহ শরীফ)
হযরত আবু হুরায়রাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, একদিন আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারকে বসা ছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি উনার মহাসম্মনিত খিদমত মুবারকে হাযির হলেন। সে ব্যক্তি বললেন, ইয়া রসূল্লাল্লাহ্, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
فَأَخْبَرَهٗ أَنَّهٗ تَزَوَّجَ اِمْرَأَةً مِّنَ الْأَنْصَارِ. فَقَالَ لَهٗ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَظَرْتَ إِلَيْهَا؟ قَالَ لَا قَالَ: فَاذْهَبْ فَانْظُرْ إِلَيْهَا فَإِنَّ فِـيْ أَعْيُنِ الْأَنْصَارِ شَيْئًا
অর্থ: আমি আনসারী একজন মেয়েকে বিবাহ করার প্রস্তাব দিয়েছি। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনি কি উনাকে দেখেছেন? তিনি বললেন, না। আমি উনাকে দেখিনি। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, বিবাহের পূর্বে উনাকে দেখে নিন। কেননা, আনসারীগণের (কোন কোন লোকের) চোখ ত্রুটিযুক্ত (লাল চোখ বিশিষ্ট) হয়ে থাকে। (মুসলিম শরীফ)
উল্লেখ্য যে, মানুষ মাত্রই কিছু না কিছু ত্রুটি থাকা স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে বিবাহের পূর্বে তা দেখে নিলে পরবর্তীতে ফিতনা-ফাসাদ মুক্ত থাকা সহজ ও সম্ভব হয়। আর আহাল-আহলিয়ার মাঝে মুহব্বতের কারণ হয়। মুহব্বত বৃদ্ধি পায়। মুহব্বত বৃদ্ধিতে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে না। অন্যথায় পরবর্তীকালে তা মনোমালিন্য সৃষ্টির কারণ হয়। এমনকি তা বিচ্ছেদের পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
বর্তমান সমাজে বিবাহের ক্ষেত্রে সমাজে কিছু বদ রসম ও ভুল পন্থা-পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে। যা সম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার খিলাফ। আবার অনেক ক্ষেত্রে বেপর্দা, বেহায়াপনা ও ফিৎনা-ফাসাদের সৃষ্টি হয়। মেয়েকে দেখতে যায় ছেলের বাবা, ছেলের ভাই, ছেলের নানা-দাদা, চাচা, দুলাভাই ইত্যাদি ব্যক্তিবর্গ। নাউযুবিল্লাহ! যা সম্পূর্ণরূপে নাজায়িয ও হারাম।
প্রকৃতপক্ষে সম্মানিত সুন্নত মুবারক এবং সম্মানিত শরীয়ত উনার হুকুম হচ্ছে, বিবাহের পূর্বে শুধুমাত্র ছেলেই দেখবে। আর মেয়ে দেখবে সেই ছেলেকে। তবে অন্য কোন মেয়ে কিংবা মহিলা প্রস্তাবিত মেয়েকে দেখতে পারবে। খোঁজ-খবর নিতে পারবে। তাতে কোন অসুবিধা নেই। আবার অন্য কোন পুরুষ প্রস্তাবিত ছেলেকে দেখতে পারবে। তাতেও কোন অসুবিধা নেই। তবে দেখার বিষয়টি হবে সর্বশেষ। আগে কথা-বার্তা হবে। অন্যান্য বিষয় দেখা-শোনা, খোঁজ-খবর নেয়ার বিষয়গুলি সুস্পষ্ট হবে। সেগুলো সঠিক বা পছন্দ হলে ছেলে বা মেয়ে দেখার বিষয়টি আসবে। কারণ, পর্দানশীন কোন মেয়েকে যদি কেউ দেখে, আর পছন্দ না করে তাহলে ঐ মেয়ের জন্য তা একটি বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে, কষ্টের কারণ হতে পারে।
কাজেই প্রথমত যে ছেলের জন্য মেয়েকে কিংবা মেয়ের জন্য ছেলেকে প্রস্তাব দেয়া হবে তার জীবন বৃত্তান্ত নেয়া যেতে পারে। সেখানে তার সম্পূর্ণ বৃত্তান্ত বা তথ্য এবং জানা ও শুনার প্রয়োজনীয় সবটাই সেখানে উল্লেখ থাকবে। সেই সূত্র ধরে বাড়ী-ঘর দেখা, আনুষাঙ্গিক খোঁজ-খবর নেয়া উচিত। সবশেষে ছেলে কিংবা মেয়েকে দেখা। যদি সকল তথ্য পুরোপরি মিলে যায়, পছন্দ হয় তাহলে বিবাহের জন্য দিন তারিখ ধার্য্য করা যেতে পারে।
যদি ছেলে মেয়েকে দেখতে যায়। তাহলে ছেলের সাথে তার মাহরাম কোন মেয়ে কিংবা মহিলা আছে কিনা সেটা লক্ষ্য রাখতে হবে। যদি না থাকে তাহলে প্রস্তাবিত মেয়ের সাথে মেয়ের মাহরাম পুরুষ থাকতে হবে। প্রস্তাবিত মেয়ে প্রস্তাবিত ছেলের সাথে সাক্ষাত করার সময় হালকা সাজ-গোছ করতে পারে। কিন্তু নিজের চেহারা-ছূরত পরিবর্তন হওয়ার মত সাজ-গোছ করবে না। তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে। সেক্ষেত্রে কোন ভনিতা বা প্রতারণারও আশ্রয় নিবেনা। কেননা, মিথ্যা, ছল-ছাতুরী ও প্রতারণার মধ্যে কোন বরকত নেই। আর বিবাহের মত অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বরকত শূণ্য হলে ফিতনা-ফাসাদ ও অশান্তি লেগেই থাকে। কখনো শান্তি বা ইতমিনান লাভ হয় না।
উল্লেখ্য যে, পবিত্র সুন্নত মুবারক পালনেই কামিয়াবী, পবিত্র সুন্নত মুবারক পালনে কল্যাণ, বরকত। পবিত্র সুন্নত মুবারক পালনে সুখ-শান্তি। আর তার বিপরীতে রয়েছে, ফিতনা-ফাসাদ, অশান্তি, দুরাচার, অনাচার, ধ্বংস ও ক্ষতি। কাজেই সকলের জন্য আবশ্যক হলো, প্রতিটি আমল মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী করা। মহান আল্লাহ পাক তিনি সকলকে সেই তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র যাকাত-ফিতরা, উশর আদায়ের হুকুম আহকাম ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতার ও সাহরীতে খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (হাব্বাতুস সাওদা) - ১
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত-সম্পৃক্ত থাকা সকলের জন্য আবশ্যক
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত সন্তুষ্টি মুবারক সকল নেয়ামতের মূল
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (৩)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (২)
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (১)
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












