সুন্নত মুবারক তা’লীম
বিবাহের ক্ষেত্রে কুফু বা সমকক্ষতা রক্ষা করা পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
, ১৯ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৩ সাদিস, ১৩৯৩ শামসী সন , ১১ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২৬ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِيْ هُرَيْـرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تُـنْكَحُ الْمَرْأَةُ لِأَرْبَعٍ لِمَالِـهَا وَلِـحَسَبِهَا وَلِـجَمَالِـهَا وَلِدِيْنِهَا فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّيْنِ تَـرَبَتْ يَدَاكَ
অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, বিশেষ চারটি বৈশিষ্ট্যের দিকে লক্ষ্য করে মেয়েদের বিবাহ হয়ে থাকে। ‘(১) ধন-সম্পদ (২) বংশ মর্যাদা (৩) ছূরত বা সৌন্দর্য (৪) দ্বীনদারী বা পরহেযগারীতা। তবে তোমরা দ্বীনদারী বা পরহেযগারীতাকে প্রাধান্য দিবে। অন্যথায় তোমাদের হাত ধুলায় ধুসরিত হবে। অর্থাৎ তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহহি ওয়া সাল্লাম উনার সেই তা’লীম মুবারক গ্রহণ করেছেন। উনারা দ্বীনদারী বা পরহেযগারীতাকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। সুবহানাল্লাহ! ফলে উনারাই কামিয়াব ।
মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াত দ্বীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি শাদী মুবারক করার ফিকির করলেন। উনার জন্য একজন মেয়ে দেখা হলো। তিনি বিবাহের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এরই মধ্যে একজন বললেন, হুযূর! বেয়াদবী ক্ষমা চাই। আপনার জন্য যে মেয়ের আলাপ হচ্ছে উনার একজন বড় বোন আছেন। যিনি এত বেশি খুব ছূরত নয়। তবে তিনি আরো বেশি পরযেহগার ও আলিমা। ইলিম, আক্বল ও সমঝ এই মেয়ের চেয়ে অনেক বেশি। তিনি সর্বোচ্চ তাক্বওয়ার অধিকারিণী। যার জন্য উনার বিবাহ হয়নি। তবে উনার একটি চোখ দৃষ্টিশক্তি শূন্য। মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াত দ্বীন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, তাতে কোন অসুবিধা নেই। তোমরা ঐ মেয়ের জন্য প্রস্তাব পাঠাও।
মেয়ে পক্ষ বিষয়টি শুনে অত্যন্ত খুশি হলেন। মহান আল্লাহ পাক উনার প্রশংসা করলেন। শুকরিয়া আদায় করলেন। আর উনার সাথেই উনার শাদী মুবারক সুসম্পন্ন হলো। সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য যে, বংশের আলাদা তা’ছীর বা প্রভাব আছে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
خَيْـرُ نِسَاءٍ رَكِبْنَ الْإِبِلَ صَالِحُ نِسَاءِ قُـرَيْشٍ أَحْنَاهُ عَلٰى وَلَدِ فِيْ صِغَرِهٖ وَأَرْعَاهُ عَلٰى زَوْجٍ فِيْ ذَاتِ يَدِهٖ.
অর্থ: উটে চড়ে এমন মেয়ে অর্থাৎ আরবের মেয়েদেরর মধ্যে সর্বোত্তম মেয়ে হলেন সম্মানিত কুরাইশ বংশীয় মেয়েগণ। উনারা সন্তানদের প্রতি অত্যন্ত ¯েœহশীল, বিশেষতঃ ছোটকালে। আর আহালের (স্বামীর) মালের রক্ষণাবেক্ষনকারীনি যা উনাদের হাতে অর্থাৎ উনাদের জিম্মদারীতে থাকে। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)
বর্তমান সমাজে দেখা যায়, ছেলে এক আক্বীদাহর, মেয়ে আরেক আক্বীদাহর। অনেক পরিবার মেয়ের বাহ্যিক ছূরত দেখে ছেলেকে বিবাহ করায়, আবার অনেকে ছেলের বাহ্যিক ধন-সম্পদ, টাকা-ফয়সা দেখে মেয়েকে বিবাহ দেয়। তাদের উভয়ের ঈমান, আমল-আখলাক, আক্বীদাহ, তাক্বওয়া-পরেহেযগারীতার কোন খোঁজ খবর নেওয়া হয় না। ফলে, বিবাহের পর সংসারে ফিৎনা, অশান্তি দেখা দেয় এবং কোন কোন ক্ষেত্রে এই ফিৎনা তালাক পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। নাউযুবিল্লাহ!
কাজেই বিবাহের ক্ষেত্রে ছেলে-মেয়ে উভয়ের সমস্ত দিকগুলো ভালোভাবে দেখে-শুনে বিবাহ করা ও দেওয়াই মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত।
মহান আল্লাহ পাক তিনি সকলকে সর্বক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী আমল করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র যাকাত-ফিতরা, উশর আদায়ের হুকুম আহকাম ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতার ও সাহরীতে খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (হাব্বাতুস সাওদা) - ১
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত-সম্পৃক্ত থাকা সকলের জন্য আবশ্যক
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত সন্তুষ্টি মুবারক সকল নেয়ামতের মূল
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (৩)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (২)
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (১)
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












