বাতিল ফিরকা লা-মাযহাবী ও কথিত সালাফীদের কুফরী আকীদা উন্মোচন ও মুসলমানদের বিভ্রান্তির অপনোদন (১)
, ০৬ই রবিউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ৩১ রবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ১৫ আশ্বিন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
বাতিল ফিরক্বা লা-মাযহাবীদের “সালাফী” নাম ধারণ করা একটি জঘন্য প্রতারণা সালাফ (سلف) শব্দটি আরবী। এর অর্থ- পূর্বসূরী অনুসৃত ব্যক্তিত্ব। এখানে ‘সালাফ’ দ্বারা উদ্দেশ্য: হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, হযরত তাবিয়ীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম ও হযরত তাবে-তাবিয়ীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম। এই তিন যুগের অনুসৃত ব্যক্তিত্বগণকে পরিভাষায় ‘সালাফ’ বলা হয়। যাদেরকে আমরা সাধারণ ভাষায় “সলফে ছালেহীন” নামে সম্বোধন করি। হাফেয যাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিবরণ মতে এই তিন যুগের সমাপ্তি ঘটেছে হিজরী তৃতীয় শতাব্দীর সূচনালগ্নে। তিনি ‘মীযানুল ই’তিদাল’ গ্রন্থে লিখেছেন-
فان حد الفاصل عنده بين المتقدمين والمتأخرين رأس ثلاث مائة
অর্থ: পূর্ববর্তী ও পরবর্তীর মাঝে পার্থক্যকারী সীমান্ত হচ্ছে ‘তৃতীয় শতাব্দীর সূচনাযুগ’।
পবিত্র হাদীছ শরীফে এই তিন যুগের ব্যক্তিত্বদের (সালাফের) মর্যাদাও বর্ণিত হয়েছে। হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
خَيْرُكُمْ قَرْنِي ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ
অর্থাৎ সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত আমার যুগের উম্মত অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম। অতঃপর শ্রেষ্ঠ উম্মত উনাদের সাথে সংশ্লিষ্ট যুগের উম্মত তথা তাবিয়ীন। অতঃপর তাবিয়ীনের সাথে সংশ্লিষ্ট উম্মত তথা তাবে-তাবিয়ীন। (বুখারী শরীফ ২৬৫১)
আসল সালাফীর পরিচয়:
উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, হযরত তাবিয়ীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম ও হযরত তাবে-তাবেয়ীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম এই তিন যুগের অনুসৃত ব্যক্তিত্বগণকে ‘সালাফ’ বলা হয়। এই হিসেবে সালাফী অর্থ দাঁড়াবে- যারা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, হযরত তাবিয়ীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম ও হযরত তাবে-তাবেয়ীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম এই তিন যুগের অনুসৃত ব্যক্তিত্বদের অনুসরণ করেন। উনারাই প্রকৃত সালাফী।
তাছাড়া যারা আক্বীদার ক্ষেত্রে, বিশেষত: মহান আল্লাহ পাক উনার ছিফতসমূহের মাসআলায় ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অনুসরণ করতেন, তাদেরকেও “সালাফী” বলা হতো।
উল্লেখ্য, ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাবে-তাবেয়ীন” ছিলেন, কাজেই তিনি “ছলফে-ছালেহীন” উনার অন্তর্ভুক্ত। কাজেই যারা আক্বীদার ক্ষেত্রে উনার অনুসরণ করবে, তাদেরকে “সালাফী” বলা যুক্তিযুক্ত। পূর্বেকার যুগে সালাফী বলতে উনাদেরকেই বুঝানো হতো। উনারাই প্রকৃত সালাফী।
ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ফিকহের ন্যায় আকীদার ক্ষেত্রেও বিশিষ্ট ইমাম হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছিলেন। অর্থাৎ উনার থেকে দুটি ধারা প্রবাহিত হয়েছে। একটি হলো ফিকহের। অপরটি হলো: আক্বীদার। ফিকহের ক্ষেত্রে যারা ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অনুসারী তাদেরকে পরিভাষায় ‘হাম্বলী’ বলা হয়। আর যারা আক্বীদার ক্ষেত্রে উনার অনুসারী তাদেরকে পরিভাষায় ‘সালাফী’ বলা হয়। একারণে সাধারণত হাম্বলী মাযহাবের অনুসারীদেরকে ‘সালাফী’ বলা হয়ে থাকে।
মোটকথা, যারা আক্বীদার ক্ষেত্রে পূর্বসূরীদের অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, তাবিয়ীন ও তাবে-তাবেয়ীন বিশেষত: ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অনুসরণ করেন তাদেরকে পরিভাষায় ‘সালাফী’ বলা হয়।
প্রকৃত সালাফীদের আক্বীদা আর কথিত সালাফীদের আক্বীদা:
মহান আল্লাহ পাক উনার ছিফতসমূহের ক্ষেত্রে সালাফের নীতি ছিলো- উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার ছিফতগুলো পবিত্র কুরআন শরীফ-পবিত্র হাদীছ শরীফে যেভাবে উল্লেখ আছে, ঠিক সেভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য ছাবেত মানতেন। এতে কোন ধরণের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করতেন না। পূর্বযুগে সালাফী বলতে উনাদেরকেই বুঝানো হতো। এই দলটি হক্ব এবং আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের অন্তর্ভুক্ত। উনারাই প্রকৃত সালাফী। মহান আল্লাহ পাক উনার ছিফতসমূহ সম্পর্কে প্রকৃত সালাফীদের কতিপয় আক্বীদা নিম্নে উল্লেখ করা হলো-
পবিত্র কুরআন শরীফ মাখলূক্ব না গইরে মাখলূক্ব:
১। মহান আল্লাহ পাক উনার ছিফতসমূহ থেকে একটি ছিফত মুবারক হচ্ছে- কালামুল্লাহ শরীফ তথা পবিত্র কুরআন শরীফ। এক্ষেত্রে সে যুগের প্রকৃত সালাফীদের আক্বীদা ছিলো- মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম বা পবিত্র কুরআন শরীফ গইরে মাখলূক তথা অসৃষ্ট ও অনাদী। কোন ধরণের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ছাড়া এতটুকু বিশ্বাস করবে ও মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য ছাবেত মানবে। ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার রায়ও এমন ছিলো। প্রথম যুগ থেকে উনার যুগ পর্যন্ত সকল সলফে ছালেহীনের আক্বীদা এটাই ছিলো।
পক্ষান্তরে ভ্রান্ত মু’তাযিলা সম্প্রদায়ের আক্বীদা ছিলো- মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম বা পবিত্র কুরআন শরীফ মাখলুক্ব বা সৃষ্টি। নাউযুবিল্লাহ! শাসক মু’তাসিম বিল্লাহ “যে মু’তাযিলা আক্বীদায় বিশ্বাসী ছিলো” ক্ষমতায় আসীন হয়ে মুসলমানদেরকে পবিত্র কুরআন শরীফ মাখলুক বলতে বাধ্য করা শুরু করলো। তখন ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সলফের পক্ষে সাহসী ভূমিকা পালন করেন এবং বীরের মতো এই ফিৎনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। পরিণামে উনাকে কারাবরণও করতে হয়েছে। বেত্রাঘাতে রক্তাক্ত হয়েছিলো উনার জিসিম মুবারক। তথাপি তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনাকে মাখলুক বলে স্বীকার করেননি। সুবহানাল্লাহ!
(অসমাপ্ত) -০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
কোন মুসলমানের জন্য কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৬)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
যেখানে প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ক্বদরের রাত্রিতে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম যমীনে নাযিল হয়ে তিন ব্যক্তির উপর খাছ রহমত বর্ষণের দুআ করেন-
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আসমাউর রিজাল, জারাহ ওয়াত তা’দীল, উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
দুনিয়ার তাছীর বা ক্রিয়া থেকে প্রত্যেক ব্যক্তির সতর্ক থাকা আবশ্যক
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রোযা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












