বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৫)
, ০৯ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৯ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১৪ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
. ভূ-রাজনৈতিক আগ্রাসন এবং সন্ত্রাসী ইহুদীদের প্রতিপত্তি বিস্তার
“মুসলিম উম্মাহর এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড কতটা ভয়াবহ: একটি দ্বীনী সমঝ এবং ঈমানী দৃষ্টিভঙ্গি”
উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব:
ইহা কোনো কাল্পনিক তত্ত্ব নয়; বরং একটি তথ্যনির্ভর, বিশ্লেষণাত্মক ও ঐতিহাসিক অনুসন্ধান- যেখানে কর্পোরেট সাম্রাজ্যবাদের এক বাস্তব ও অন্ধকার চিত্র উন্মোচিত হয়েছে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রতিটি পদক্ষেপ, চুক্তি ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হয়েছে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে।
এই অধ্যায়ে পাঠক জানতে পারবেন-
১. কিভাবে “বিনিয়োগ” শব্দটি ধীরে ধীরে “দখল”-এ পরিণত হয়েছে!
২. কিভাবে বিশ্বের দক্ষিণের দেশগুলো নতুন অর্থনৈতিক দাসত্বে আবদ্ধ হয়েছে!
৩. কিভাবে “উন্নয়ন” নামের মুখোশের আড়ালে গণহত্যা ও নিপীড়নের স্থপতি হয়ে উঠেছে ডিপি ওয়ার্ল্ড!
৪. শতকরা ৯৮ ভাগ মুসলমানের এই বাংলাদেশের সমুদ্র বন্দর দুবাইভিত্তিক সন্ত্রাসী ইহুদী সংস্থা ডিপি ওয়ার্ল্ড বা অন্য কোনো অমুসলিম সংস্থাকে ইজারা দেয়া কতটুকু শরীয়তসম্মত! মহাপবিত্র কুরআন শরীফ ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ বা সুন্নাহ শরীফ অনুযায়ী কি করণীয় বা সমাধান কি? এবং
৫. করণীয় কর্তব্য সম্পাদনের পন্থাটা কি?
আজকের পৃথিবী অর্থনীতিনির্ভর, কিন্তু এই অর্থনীতির পেছনে যে মানবিক ও নৈতিক বিপর্যয় লুকিয়ে আছে, তা প্রকাশ করা জরুরি। ডিপি ওয়ার্ল্ড সেই বিপর্যয়ের প্রতীক- একটি কর্পোরেট সাম্রাজ্য, যার বন্দর ব্যবস্থাপনার ব্যবসায় সোনালী বিনিয়োগের পেছনে লুকিয়ে আছে গণহত্যার কালো ছায়া।
এই কিতাবের প্রতিটি পৃষ্ঠায় শুধু একটি কোম্পানির সমালোচনা নয়; বরং মানবতার প্রতি দায়বদ্ধ এক আহ্বান- যেখানে বলা হয়েছে-
“উন্নয়নের নামে যদি রক্ত ঝরে, তবে সেটা উন্নয়ন নয়- সেটা নতুন উপনিবেশ (Nwe Coloû)।” “উন্নয়নের মিথ্যা ডামাডোলে দেশের বন্দর কখনই বিদেশী উপনিবেশবাদী শত্রুদের হাতে ইজারা দেয়া যাবে না। এই চক্রান্ত প্রতিহত করতেই হবে।”
সারসংক্ষেপ:
ডিপি ওয়ার্ল্ড (DP World- Dubai Port World) হচ্ছে আরব আমিরাত (UAE)-ভিত্তিক বিশ্বের কথিত অন্যতম বৃহৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা (লজিস্টিকস) ও বন্দর পরিচালনাকারী সংস্থা (পোর্ট অপারেটর)। এটি কেবল একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি আরব আমিরাত (টঅঊ)-এর বৃহত্তর ভূ-অর্থনৈতিক চক্রান্ত পূরণের একটি প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। এই গবেষণা পত্রে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে সন্ত্রাসী ইসরায়েলের ষড়যন্ত্রমূলক সংযোগ, এর বিরুদ্ধে দেশে দেশে সৃষ্ট বিক্ষোভ ও বিতর্ক এবং কিভাবে এই ধরণের একটি বিদেশি সংস্থা অন্য একটি দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য গুরুতর হুমকিস্বরুপ- তার বিশদ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
আব্রাহাম চুক্তির (Abraham Accords) প্রেক্ষিতে সন্ত্রাসী ইসরায়েলের সাথে ডিপি ওয়ার্ল্ডের যৌথ উদ্যোগ, বিশেষ করে দুবাই-হাইফা করিডোরকে বৈশ্বিক বাণিজ্যের রুট রেড সি’র বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যা আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্র পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এই ধরনের অংশীদারিত্ব সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
অন্যদিকে, জিবুতিতে ডোরালেহ কনটেইনার টার্মিনাল চুক্তি বাতিল সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইনি সংঘাত একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করেছে। যদিও ডিপি ওয়ার্ল্ড বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলো, লন্ডন কোর্ট অফ ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন (খঈওঅ) জিবুতির সিদ্ধান্তকে একটি ‘সার্বভৌম সিদ্ধান্ত’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলো। এই নজির প্রমাণ করে যে একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা অবকাঠামোর ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা সম্ভব, যদিও তা দীর্ঘ এবং ব্যয়বহুল আইনি সংঘাতের ঝুঁকি বহন করে।
সর্বোপরি, এই গবেষণাটি দেখায় যে ২১ শতকে সার্বভৌমত্বের হুমকি কেবল সামরিক আক্রমণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ইহুদী বন্দরদস্যু ডিপি ওয়ার্ল্ডের কথিত উন্নত তথ্য-জালিকাভিত্তিক মঞ্চগুলোর (ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির) (যেমন: CARGOES Flo) মাধ্যমে সংগৃহীত ডেটা বা তথ্য-উপাত্তের এবং সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি এখন রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই ধরনের বিদেশী নিয়ন্ত্রণ ঠেকাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জিবুতির পদক্ষেপগুলি থেকে নছীহত হাছিলের সুপারিশ এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
(সংকলিত)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ব্যবসা করা হালাল ও সুন্নত আর সুদ হারাম
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৪)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
খলীফাতুল মুসলিমীন, খলীফায়ে ছানী, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সাথে সংশ্লিষ্ট কতিপয় নছীহতমূলক ঘটনা
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বেপর্দা সর্বপ্রকার অনিষ্ট ও ফিতনা-ফাসাদের মূল
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সত্যের মাপকাঠি
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৩)
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (৪)
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












