বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৪)
, ৩রা রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৩ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ০৮ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
ক্স ভূ-রাজনৈতিক আগ্রাসন এবং সন্ত্রাসী ইহুদীদের প্রতিপত্তি বিস্তার
“মুসলিম উম্মাহর এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড কতটা ভয়াবহ: একটি দ্বীনী সমঝ এবং ঈমানী দৃষ্টিভঙ্গি”
“বাণিজ্যের নামে শোষণ ও রক্তপাত; উন্নয়নের নামে দখল”:
আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রহসনগুলোর একটি হলো-‘উন্নয়ন’ ও ‘বিনিয়োগ’-এর নামে ধ্বংসযজ্ঞের বৈধতা প্রতিষ্ঠা। বিশ শতকের শেষভাগ থেকে শুরু করে একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দুই দশক পর্যন্ত, পৃথিবীজুড়ে কর্পোরেট সাম্রাজ্যবাদের এক নতুন রূপ দেখা গেছে-যেখানে যুদ্ধের গোলা নয়, বরং চুক্তিপত্র, বন্দরের মালিকানা, ও বাণিজ্যিক একচেটিয়া অধিকার হয়ে উঠেছে উপনিবেশের নতুন অস্ত্র। এই বাস্তবতার অন্যতম কুখ্যাত প্রতীক হলো ডিপি ওয়ার্ল্ড (Dubai Port World ev DP World)- একটি নাম, যা আজ উন্নয়নশীল বিশ্বের বন্দরের সাথে জড়িয়ে আছে; কিন্তু সেই নামের অন্তরালে লুকিয়ে আছে রক্ত, শোষণ ও নিপীড়নের ইতিহাস।
ডিপি ওয়ার্ল্ডের সূচনা হয় আরব আমিরাতের দুবাইয়ে, কিন্তু এর হাতছানি আজ ছড়িয়ে পড়েছে আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা, এমনকি ইউরোপের নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, সামরিক, অর্থনৈতিক, জাতীয় সম্পদসহ বহুদিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোতেও। এটি কেবল একটি কোম্পানি নয়; বরং একটি অর্থনৈতিক অস্ত্র, যার মাধ্যমে ধনী রাষ্ট্রগুলো দরিদ্র দেশগুলোর অবকাঠামো, অর্থনীতি এবং সার্বভৌমত্বের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে। তাদের কথিত “বিনিয়োগ” মানে অনেক সময়ই বন্দরের দখল, স্থানীয় শ্রমিকদের শোষণ, কর ফাঁকি, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, এবং সবচেয়ে ভয়াবহ-গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা।
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যু ডিপি ওয়ার্ল্ড হলো বিভিন্ন মুসলিম দেশে গণহত্যাসহ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ধ্বংস যজ্ঞের স্থপতি:
বহু যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে যেমন সোমালিয়া, সুদান, ইয়েমেন, এবং লিবিয়ায়- ডিপি ওয়ার্ল্ডের উপস্থিতি রহস্যময়ভাবে মিলেছে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সশস্ত্র সংঘর্ষের সাথে। বন্দরের দখল নেওয়ার নামে স্থানীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করা, রাষ্ট্রীয় সম্পদ বেসরকারিকরণের নামে জনগণের অধিকার হরণ করা-এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা অর্থনৈতিকসহ সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ধ্বংসযজ্ঞেরও অংশীদার।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বারবার অভিযোগ তুলেছে, ডিপি ওয়ার্ল্ড তাদের লজিস্টিক চুক্তি ও বন্দর পরিচালনার মাধ্যমে অস্ত্র পরিবহন, যুদ্ধে অর্থায়ন ও দমননীতির সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। কোথাও তারা সরকারপক্ষকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করেছে, আবার কোথাও বিরোধীদের দমন করার জন্য ব্যবহার হয়েছে তাদের অবকাঠামো ও তথ্যব্যবস্থা। ফলাফল একটাই-মুনাফা তাদের, মৃত্যু স্থানীয় জনগণের।
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী,সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যু ডিপি ওয়ার্ল্ড এর কার্যক্রম হলো উন্নয়নের মুখোশে উপনিবেশবাদ:
ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রকল্পগুলো সাধারণত “উন্নয়ন সহযোগিতা” বা “অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব”-এর ভাষায় প্রচারিত হয়। কিন্তু বাস্তবে এসব প্রকল্পের চুক্তি এতটাই একতরফা যে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো তাদের নিজস্ব বন্দর, রাজস্ব, এমনকি নৌসীমা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও হারায়। উদাহরণস্বরূপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার একাধিক রাষ্ট্রে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে করা চুক্তির মেয়াদ ৩০ থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত-যা কার্যত আধুনিক উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার বৈধ স্বীকৃতি।
বন্দর ও বাণিজ্যিক প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ মানেই রাষ্ট্রের জীবনরেখা নিয়ন্ত্রণ। এই চক্রান্তমূলক কার্যক্রম ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এমন এক অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে, যেখানে তারা শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারেও একচেটিয়া ক্ষমতাধারী। অনেক দেশে তারা রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর চেয়ে বেশি ক্ষমতাবান-যা বৈশ্বিক অসমতার একটি উদ্বেগজনক উদাহরণ।
রক্তের বিনিময়ে মুনাফা:
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ডিপি ওয়ার্ল্ডের কার্যক্রমে যে মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে, তা শুধু অর্থনৈতিক বৈষম্যের ইতিহাস নয়, বরং রক্ত ও অশ্রুর ইতিহাস। শ্রমিকদের অমানবিক পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য করা, বেতন বকেয়া রাখা, স্থানীয় জনগণকে উচ্ছেদ করে বন্দর নির্মাণ করা- এসব কর্মকা-ের বিরুদ্ধে অসংখ্য আন্দোলন, বিক্ষোভ ও শ্রমিক ধর্মঘট সংঘটিত হয়েছে।
তবে কর্পোরেট প্রভাব ও কূটনৈতিক চক্রান্তের কারণে এই অপরাধগুলো প্রায়শই চুপচাপ চাপা পড়ে যায়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে “দুবাইয়ের উন্নয়ন মডেল” নামে যে সাফল্যের কাহিনী প্রচার করা হয়, তার অন্তরালে লুকিয়ে থাকে নিপীড়িত আফ্রিকান শ্রমিকের রক্তে লেখা চুক্তিপত্র। উল্লেখ্য মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর এবং পৃথিবীর মুসলিম দেশগুলোর অনেক রাষ্ট্রপ্রধান এবং বাণিজ্যিক নেতৃত্বে রয়েছে মুসলমান উনাদের চিরশত্রু ইহুদী অথবা ইহুদীদের দালালরা।
(সংকলিত)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১০)
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাজায়িজ
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
তিন প্রকার খাবার দিয়ে ইফতার করা সুন্নত-
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযার ভঙ্গের কারণ (২)
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র রোযা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল
২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
রোযাদারকে ইফতার করালে তিনটি ফযীলত
২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযার ভঙ্গের কারণ (১)
২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












