সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে-
ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৯)
, ১৭ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ৩১ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ১৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার ফতওয়া অনুযায়ী ফুটবল-ক্রিকেটসহ সমস্ত খেলাধুলাই হারাম। মাঠে গিয়ে হোক আর টিভিতে হোক সর্বাবস্থায়ই খেলা দেখা হারাম ও কবীরাহ গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বিখ্যাত কিতাব, মুস্তাদরাকে হাকিম শরীফে বর্ণিত আছে, হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে যে, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
كُلُّ لَعِبٍ حَرَامٌ اِلَّا ثَلَاثٍ: مُلَاعَبَةُ الرَّجُلِ أَهْلَهُ وَرَمْيُهُ بِقَوْسِهِ وَتَأْدِيبُهُ فَرَسَهُ
“সর্বপ্রকার খেলা নিষিদ্ধ তিনটি বিষয় ব্যতীত- যা খেলার অন্তর্ভুক্ত নয়। (১) নিজ আহলিয়া বা স্ত্রীর সাথে শরীয়তসম্মত হাসি-খুশী করা। (২) তীর ধনুক চালনা করা। (৩) অশ্বকে প্রশিক্ষণ দান করা।
“আবু দাউদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, নাসাঈ শরীফ, ইবনে মাজাহ্ শরীফ” ইত্যাদি পবিত্র হাদীছ শরীফের কিতাবেও হযরত উকবা ইবনে আমির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে অনুরূপ পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে। তবে শব্দের কিছু তারতম্য রয়েছে।
কাজেই, খেলাধুলার ফিতনা থেকে ঈমান-আমল হিফাজত করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ-ওয়াজিব।
(ধারাবাহিক)
অনেকে বলে যে, “স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক নিজ হাতে দুর্বল দেশ বা দলকে জিতিয়ে দিয়েছেন”। এ কথাটি কতটুকু শরীয়তসম্মত?
কোন দুর্বল দেশ বা দল কোন কারণে হঠাৎ জয়লাভ করার কারণে অনেকে বলেছে যে, স্বয়ং আল্লাহ পাক নিজ হাতে দুর্বল দেশ বা দলকে জিতিয়ে দিয়েছেন। তাদের এ কথাটি বলাও শুদ্ধ হয়নি। বরং কাট্টা কুফরী হয়েছে। কারণ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
تعاونوا على البر والتقوى ولا تعاونوا على الاثم والعدوان واتقوا الله ان الله شديد العقاب.
অর্থ : তোমরা পরস্পর পরস্পরকে নেক কাজ ও পরহেযগারীর মধ্যে সাহায্য কর, পাপ ও শত্রুতার মধ্যে সাহায্য করনা। এ বিষয়ে তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় কর। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তিদাতা। (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ২)
উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই উনার বান্দাদেরকে পাপ কাজে সাহায্য করতে নিষেধ করেছেন। তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বয়ং নিজেই কি করে পাপ কাজে সাহায্য করবেন?
কাজেই, যদি কেউ বলে যে, ‘মহান আল্লাহ পাক স্বয়ং নিজে পাপ কাজে বা হারাম কাজে সাহায্য করেন’ তাহলে সেটা কুফরী হবে। সেটা মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি মিথ্যা তোহমত বা অপবাদ। আর যারা মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি অপবাদ দেয়, তাদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
মূলতঃ মহান আল্লাহ পাক তিনি কোন হারাম কাজে কখনোই সাহায্য করেননা।
‘খেলা দেখার সময় দোয়া করব যাতে মুসলমান দেশ বা দল জয়লাভ করে।’ এ কথাটি কতটুকু শরীয়তসম্মত?
কোন মুসলমান দেশ বা দলের খেলার দিন অনেকে বলেছে, খেলা দেখার সময় দোয়া করব যাতে মুসলমান দেশ বা দল জয়লাভ করে। একথা বলাও শুদ্ধ হয়নি। বরং কুফরী হয়েছে।
কেননা, সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে হারাম কাজের জন্য দোয়া করা যেরূপ হারাম ও কুফরী তদ্রুপ হারাম কাজে মশগুল ব্যক্তি বা দলের জন্যও দোয়া করা হারাম ও কুফরী। এর প্রমাণ পবিত্র হাদীছ শরীফেই রয়েছে। যেমন, ইরশাদ হয়েছে,
عن عبد الله بن عمرو رضى الله تعالى عنه قال مر رجل وعليه ثوبان احمران فسلم على النبى صلى الله عليه وسلم فلم يرد عليه النبى صلى الله عليه وسلم.
অর্থ : হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় উনাকে লাল বর্ণের দু’টি কাপড় (ইযার ও চাদর) পরিহিত এক ব্যক্তি সালাম দিল। কিন্তু তিনি তার সালামের জাওয়াব দেননি। (তিরমিযী, আবূ দাউদ, মিশকাত, নাইলুল আওতার)
এ পবিত্র হাদীছ শরীফদ্বারা স্পষ্টভাবে বুঝা যাচ্ছে, পুরুষদের জন্য লাল কাপড় পরিধান করা নিষেধ বা হারাম। আর হারাম কাজে মশগুল এমন ব্যক্তির সালামের জাওয়াব দেয়াও নিষেধ।
উল্লেখ্য, ‘সালাম’ হচ্ছে একজন মুসলমানের তরফ থেকে আরেকজন মুসলমানের প্রতি সাধারণভাবে দোয়াস্বরূপ। এখন এই সাধারণ দোয়াটাই যদি হারাম আমলকারী ব্যক্তির জন্য দেয়া বা করা নিষেধ হয় অর্থাৎ সালামের জাওয়াব দেয়া ওয়াজিব হওয়া সত্ত্বেও হারামে মশগুল থাকার কারণে যদি ওয়াজিব সাকেত হয়ে যায় তাহলে খেলাধুলার মত এত বড় হারাম কাজে মশগুল ব্যক্তিদের জন্যে দোয়া করা কত বড় গুনাহর কাজ তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।
শরীয়তের মাসয়ালা হলো, হারাম কাজে মশগুল ব্যক্তির হারাম কাজে তরক্কীর জন্য দোয়া করা কুফরী। কাজেই যেখানে হারাম কাজে মশগুল ব্যক্তিকে সালাম দেয়া বা তার সালামের জাওয়াব দেয়া নিষেধ সেখানে ফুটবল বা খেলাধুলার ন্যায় হারাম কাজে মশগুল ব্যক্তি বা দলের জন্য দোয়া করা কস্মিনকালেও জায়িয হতে পারেনা।
মূলত তা সম্পূর্ণই হারাম ও কবীরাহ গুনাহ্ এবং ক্ষেত্র বিশেষে কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। তাই যারা নাজায়িয, হারাম ও কুফরী কাজ করেছে, তাদের প্রত্যেকের জন্যই উচিত এ থেকে খালিছ তওবা করা এবং ভবিষ্যতে না করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (১০)
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
যেখানে প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৯)
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঈমানী কুওওয়াত বা শক্তি বৃদ্ধিকারী কতিপয় ঘটনা
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












