সুওয়াল-জাওয়াব
প্রসঙ্গ: পবিত্র হজ্জ পালনের আহকাম (৩)
, ১৬ মে, ২০২৫ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
সুওয়াল:
হজ্জ আদায়ের ছহীহ্ পদ্ধতি বা নিয়ম কি?
জাওয়াব:
(পূর্বে প্রকাশিতের পর)
হজ্জ আদায়কারী ৮ই যিলহজ্জ ফজর নামায মক্কা শরীফে পড়ে মিনার দিকে রওয়ানা হবে। মিনাতে যোহর, আছর, মাগরিব, ইশা ও ফজর আদায় করবে। অতঃপর সেখান থেকে আরাফার ময়দানে যাবে অর্থাৎ ৯ই যিলহজ্জ আরাফার ময়দানে সারাদিন অবস্থান করবে। আরাফার ময়দানে ইমাম ছাহেব খুৎবার মাধ্যমে আরাফার কার্যসমূহ শুরু করবেন। খুৎবান্তে যোহরের ওয়াক্তে ইমাম ছাহেব এক আযান ও দুই ইকামতে যোহর ও আছরের নামায পড়াবেন।
যে ব্যক্তি নিজ স্থানে একা একা নামায আদায় করবে সে যোহরের ওয়াক্তে যোহরের নামায, আছরের ওয়াক্তে আছরের নামায আদায় করবে। ইহাই হযরত ইমামে আ’যম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ফতওয়া।
নামাযের পরে আরাফার ময়দানে ওকূফ বা অবস্থান করবে যতটুকু সম্ভব জাবালে রহমতের নিকটে। আরাফার ময়দানে বতনে আ’রানা ব্যতীত সমস্তটুকুই অবস্থানস্থল।
ওকূফ অবস্থায় ইমাম ছাহেব বাহনের উপর থেকে হাত তুলে দোয়া করবেন। আর অন্যান্যরাও যত বেশী সম্ভব দোয়া ইস্তেগফারে মশগুল থাকবে।
৯ই যিলহজ্জ সূর্যাস্তের পর ইমাম ছাহেব সকলকে নিয়ে সাধারণ গতিতে মুজদালিফায় রওয়ানা হবেন। সেখানে কুজা নামক পাহাড় যার উপর মিকাদা রয়েছে তার নিকট অবতরণ করবেন। সেখানে ইমাম ছাহেব ইশার ওয়াক্তে একই আযান ও একই ইকামতে সকলকে নিয়ে মাগরিব ও ইশার নামায আদায় করবেন। এর মধ্যে সুন্নত ও নফল পড়বেন না। পথে যদি কেউ মাগরিব পড়ে তবে সেটা আদায় হবে না।
বতনে মুহাস্সার ব্যতীত সকল স্থানই মুজদালিফায় অবস্থানস্থল।
ছুবহে ছাদিক হওয়া মাত্রই ইমাম ছাহেব সকলকে নিয়ে অন্ধকার থাকতেই ফজর নামায আদায় করে সকলকে নিয়ে দাঁড়িয়ে দোয়া করবেন। আর সূর্যোদ্বয়ের পূর্বে ইমাম ছাহেব উনার সাথে সকলে মিনায় রওয়ানা হবেন।
মুজদালিফা হতে মিনায় যাওয়ার পূর্বে বা পথে ৪৯টি বা ৭টি বা ৭০টি কঙ্কর নিয়ে তালবিয়া পাঠ করতে করতে মিনার দিকে রওয়ানা দিবে। ১০ই যিলহজ্জ সকালে শুধুমাত্র মিনাস্থ জমরাতুল আকাবাতে ৭টি কঙ্কর নিক্ষেপ করতে হবে। কঙ্কর নিক্ষেপ করতে প্রত্যেকবার তাকবির বলবে এবং কঙ্কর নিক্ষেপ করার পর সেখানে একটুও দাঁড়াবে না। আর প্রথম কঙ্কর নিক্ষেপ করার সাথে তালবিয়া পাঠ বন্ধ করে দিবে।
অতঃপর কুরবানী করতে হবে। যারা শুধু হজ্জে ইফরাদ করবে তাদের জন্য এ কুরবানী করা মুস্তাহাব। আর যারা হজ্জে তামাত্তু ও হজ্জে ক্বিরান করবে তাদের জন্য এ কুরবানী করা ওয়াজিব। যা কুরবানী করতে হবে তা হচ্ছে- এক বকরী অথবা এক দুম্বা অথবা গরু, মহিষ বা উটের এক সপ্তমাংশ।
যদি তামাত্তু ও ক্বিরানকারী আর্থিক অনটনের কারণে ওয়াজিব কুরবানী করতে না পারে তাহলে তাদের জন্য ১০ই যিলহজ্জের পূর্বে ৩টি এবং ১৩ই যিলহজ্জের পরে ৭টি রোযা রাখা ওয়াজিব হবে। যদি ১০ই যিলহজ্জের পূর্বে ৩টি রোযা রাখতে না পারে তাহলে কুরবানী অবশ্যই করতে হবে। কুরবানী করার পর পুরুষেরা মাথা মুন্ডন করে অথবা চুল ছেটে ইহরাম খুলে ফেলবে। মহিলারা চুল মুন্ডন না করে এক অঙ্গুলি বা এক ইঞ্চি পরিমাণ চুল ছাটবে।
এ অবস্থায় মুহরিমের জন্য আহলিয়া বা স্ত্রীর সাথে নিরিবিলি অবস্থান ছাড়া সবই হালাল হয়ে গেলো। একই দিনে অর্থাৎ ১০ই যিলহজ্জে তাওয়াফে যিয়ারত করা উত্তম যা হজ্জের শেষ ফরয। তাওয়াফে যিয়ারত ১২ই যিলহজ্জ সূর্যাস্তের পূর্বে আদায় করতে হবে। অন্যথায় দম দেয়া ওয়াজিব হবে।
১০, ১১ এবং ১২ই যিলহজ্জ তারিখে মিনায় অবস্থান করা সুন্নত।
১১ এবং ১২ই যিলহজ্জ তারিখে মিনার জমরাতুল আকাবা, জমরাতুল উস্তা ও জমরাতুল উলাতে পর্যায়ক্রমে ৭টি করে কঙ্কর নিক্ষেপ করতে হবে। ১০ তারিখে সূর্য ঢলার পূর্বে ১১ ও ১২ তারিখে সূর্য ঢলার পরে কঙ্কর নিক্ষেপ করতে হবে।
১২ই যিলহজ্জ সূর্যাস্তের পূর্বেই মিনা হতে মক্কা শরীফে চলে আসা যায়। যদি আসতে রাত্র হয়ে যায় তাহলে আসাটা মাকরূহের সহিত জায়েয রয়েছে। আর যদি ১৩ তারিখ সকাল হয়ে যায় তাহলে তিন স্থানে ৭টি করে ২১টি কঙ্কর নিক্ষেপ করে আসতে হবে। এটাই সুন্নত। কঙ্কর নিক্ষেপের সময় হলো সূর্য ঢলার পর হতে সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত।
মিনাতে কঙ্কর নিক্ষেপের জন্য অবস্থান করে মাল-সামানা বা আসবাবপত্র মক্কা শরীফে পাঠিয়ে দেয়া মাকরূহ্। মিনাতে কঙ্কর নিক্ষেপ করা শেষ করে মক্কা শরীফে আসার পথে মুহাস্সার নামক স্থানে কিছুক্ষণ অবস্থান করা সুন্নত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেখানে যোহর, আছর, মাগরিব ও ইশার নামায আদায় করেছেন। অতঃপর মক্কা শরীফে এসে তাওয়াফে বিদা বা তাওয়াফে ছুদূর করবে। মক্কাবাসী ব্যতীত অন্যান্য সকলের জন্য এ তাওয়াফে বিদা ও তাওয়াফে ছুদূর ওয়াজিব। যাদের উপর তাওয়াফে বিদা বা তাওয়াফে ছুদূর ওয়াজিব তারা এ তাওয়াফ না করলে তাদের জন্য দম দেয়া ওয়াজিব।
যে সমস্ত মহিলারা অসুস্থ হয়ে যায় অর্থাৎ যাদের মাসিক মাজুরতা হয়ে যায় তাদের জন্য তাওয়াফে ছুদূর ওয়াজিব থাকে না। এ তাওয়াফ ব্যতীতই তারা বাড়ীতে প্রত্যাবর্তন করবে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুলতান আব্দুল হামিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলদিজ প্রাসাদে ইফতার আয়োজনের স্মৃতিকথা
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৬)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের অনবদ্য তাজদীদ মুবারক-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের হাঁচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৬)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












