প্রসঙ্গ: কাফির-মুশরিকদের বদ তাছীর ও দুনিয়াবী বদ তাছীরকে অন্তরে জায়গা দেওয়া যাবে না
, ০৯ ছফর শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৫ ছালিছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৪ আগস্ট, ২০২৫ খ্রি:, ২১ শ্রাবণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- যে আমার জন্য অর্থাৎ পরকালের জন্য, আমার সন্তুষ্টি-রেজামন্দীর জন্য কোশেশ করেছে, তার সে কোশেশ আমি গ্রহণ করবো, সেটা গ্রহণযোগ্য হবে, সে তার বদলা পাবে। আর যে দুনিয়া চায়, আমি তাকে সামান্য দিয়ে থাকি এবং পরকালে তার জন্য জাহান্নাম রেখেছি, সেখানে সে লাঞ্ছিত হয়ে পদদলিত হয়ে, বিতাড়িত হয়ে প্রবেশ করবে। আর যারা আমার কাছে পরকাল চায়, তাকে আমি অবশ্যই পরকাল দিয়ে থাকি। তবে কতটুকু দিবো পরকাল? অর্থাৎ সেখানে তার ইজ্জত-সম্মান যতটুকু দরকার রয়েছে, আমি সবটুকু তাকে দিবো, দিয়ে তাকে আমি প্রবেশ করাবো অর্থাৎ সে তার সম্মান-ইজ্জতের সহিত জান্নাতে প্রবেশ করবে, যেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এজন্য বলা হয় যে, হযরত রাবেয়া বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহা তিনি একদিন তা’লীম দিচ্ছিলেন। কিছু লোক এসে উনার পাশে বসে অর্থাৎ উনার তা’লীমগাহে বসে দুনিয়াবী আলোচনা করতেছিলো, তখন হযরত রাবেয়া বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহা তিনি বললেন, হে লোক সকল! তোমরা আমার কাছ থেকে দূরে চলে যাও। তোমরা আমার তা’লীমগাহ থেকে উঠে চলে যাও। কারণ তোমরা দুনিয়াকে মুহব্বত করো।
কাজেই তোমরা এখান থেকে চলে যাও। যখন তিনি একথা বললেন, তখন তারা বললো যে, হুযূর! বেয়াদবী মাফ করবেন, আমরা যে দুনিয়াকে মুহব্বত করি এটা আপনি কি করে বুঝলেন? তিনি বললেন, তোমরা যেহেতু দুনিয়ার আলোচনা করতেছো, সেহেতু বুঝা যাচ্ছে, তোমরা দুনিয়াকে মুহব্বত করো। কেননা কিতাবে উল্লেখ আছে-
من احب شيئا امشر ذكره.
“যে যাকে মুহব্বত করে, সে তার কথাই বেশী বেশী বলে। ”
তোমরা যেহেতু দুনিয়ার কথা বার বার বলতেছো, সেহেতু তোমরা দুনিয়াকে মুহব্বত করো। কাজেই তোমরা আমার কাছ থেকে চলে যাও, তোমরা আমার কাছে থেকো না। তোমাদের দুনিয়াবী বদ তাছীর আমার মধ্যে হয়তো ক্রিয়া করতে পারে, বদ তাছীর হয়তো আমার মধ্যে ক্রিয়া করতে পারে। কাজেই তোমরা আমার কাছ থেকে উঠে দূরে চলে যাও।
কাজেই দুনিয়ার একটা তাছীর রয়েছে, ক্রিয়া রয়েছে। মূলতঃ প্রত্যেক জিনিসের একটা তাছীর রয়েছে। এজন্যই তাছাউফের মূল বিষয় হচ্ছে- الصحبة متوثرة সংসর্গ তাছীর করে। অর্থাৎ ছোহবত তাছীর করে।
এটা অত্যন্ত ফিকিরের বিষয়, যেমন- এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, “তোমরা আমার পরে এই পবিত্র মক্কা শরীফ ও পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে, হেজাজ ভূমি থেকে কাফিরদেরকে সরিয়ে দিবে। একমাত্র মুসলমান ছাড়া এখানে যেন কেউ বসবাস না করে, একমাত্র মুসলমান ছাড়া যেন এই পবিত্র মক্কা শরীফ ও পবিত্র মদীনা শরীফ উনাদের মধ্যে কেউ বসবাস না করে। কাউকে তোমরা অনুমতি দিবে না। ”
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সেই নির্দেশ মুবারক অনুযায়ী সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি উনার সময়ে সেই আইনটা জারী করেছিলেন। উনার যামানায় কোন কাফির সেখানে বসবাস করতো না, সকলকে তিনি বের করে দিয়েছিলেন। মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশ মুবারক যে, একমাত্র মুসলমানরাই সেখানে বসবাস করবে, অন্য কেউ বসবাস করতে পারবে না। যাতে বেদ্বীন ও বদদ্বীনদের বদ তাছীর না পড়ে, যদিও উনাদের প্রতি ক্রিয়া করা সম্ভব ছিলো না, তারপরও মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এ কথার মধ্যে এটাই বলে দিয়েছেন বা নছীহত করেছেন যে, দুনিয়া খুব কঠিন জিনিস, তার তাছীর ইচ্ছায় হোক, অনিচ্ছায় হোক কিছু ক্রিয়া করবেই, সেজন্য সকলকে সাবধান থাকতে বলেছেন।
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুলতান আব্দুল হামিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলদিজ প্রাসাদে ইফতার আয়োজনের স্মৃতিকথা
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৬)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের অনবদ্য তাজদীদ মুবারক-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের হাঁচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৬)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












