পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
(রাজারবাগ শরীফ উনার সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার ওয়াজ শরীফ থেকে সংকলিত)
, ০৯ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৬ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৫ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মহিলাদের পাতা
(ধারাবাহিক)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আমর ইবনে হাজম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার সাথে একটা রেসালা পাঠিয়েছিলেন, একটা চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেখানে লিখেছিলেন-
فِى كِتَابِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الَّذِى كَتَبَ اِلٰى اَهْلِ الْيَمَنِ
ইয়েমেন বাসীদের জন্য লিখেছিলেন-
الَّذِى بَعَثَ بِهٖ مَعَ عَمْرِو بْنِ حَزَمٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ
যেটা পাঠিয়েছিলেন হযরত আমর ইবনে হাজম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার সাথে।
إِنَّ أَكْبَرَ الْكَبَائِرِ
নিশ্চয় সবচাইতে বড় গুণাহ্ হচ্ছে,
عِنْدَ اللهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
ক্বিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট,
اِلْإِشْرَاكُ بِاللهِ
এক নাম্বার হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে শরীক করা,
وَقَتْلُ النَّفْسِ الْمُؤْمِنِ بِغَيْرِ حَقٍّ
কোন মু’মিনকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা,
وَالْفِرَارُ فِي سَبِيلِ اللهِ
জিহাদ থেকে পালিয়ে যাওয়া,
وَعُقُوقُ الْوَالِدَيْنِ
পিতা-মাতার সহিত নাফরমানী করা, অসদাচরণ করা,
وَرَمْيُ الْمُحْصَنَةِ
কোন সৎ সাধ্বী, নেক্কার মহিলার নামে অপবাদ দেয়া,
وَتَعَلُّمُ السَّحَر
যাদু শিক্ষা দেয়া,
وَأَكْلُ الرِّبَا
সুদ খাওয়া,
وَأَكْلُ مَالِ الْيَتِيمِ
ইয়াতীমের মাল খাওয়া, আত্মসাত করা।
তারমধ্যে লিখেছিলেন এগুলির মধ্যে যেটা মূল সেটা হচ্ছে, পিতা-মাতার সহিত নাফরমানী করা। ইহা কবীরা গুণাহ সমূহের মধ্যে একটা কবীরা গুণাহ।
এখানে উল্লেখের বিষয় যেটা, সেটা হলো যারা পিতা-মাতার হক সম্পর্কে লিখেছেন। এছাড়া হাদীছ শরীফের ব্যাখ্যায় ও আয়াত শরীফের তাফসীরে যা এসেছে তা উল্লেখ্য।
সেখানে একটা বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, সেটা সাধারণভাবে মানুষ ফিকির করে না। যিনি গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, হযরত বড় পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি। যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে “গাউছুল আ’যম” বানিয়েছেন, “সাইয়্যিদুল আউলিয়া” বানিয়েছেন, “মুহিউদ্দীন” লক্বব দিয়েছেন। সেই গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, বড় পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি যখন সেই বাগদাদে ইলিম অর্জন করার জন্য যাচ্ছিলেন কাফেলার সাথে। কাফেলাতে ডাকাত পড়েছিল। ডাকাত প্রায় সকলের কাছ থেকে ছিনতাই করে, মারধর করে, জুলুম করে যার কাছে যা ছিল টাকা-পয়সা, মাল-সামানা নিয়ে যাচ্ছিল।
হযরত গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, উনার বয়স মুবারক তখন ছিল ১৭ থেকে ১৮ বৎসর। উনি একপাশের্^ দাঁড়িয়ে সেটা লক্ষ্য করছিলেন, ডাকাতরা কি করছে। তারা সমস্ত লোকদের কাছ থেকে জবরদস্তি করে, জুলুম করে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিচ্ছিল, মাল-সামানা ছিনিয়ে নিচ্ছিল। উনি একপাশের্^ দাঁড়িয়েছিলেন। উনার আকার-আকৃতি, চেহারা মুবারক দেখে আপছে-আপ উনার প্রতি একটা তা’যীম, একটা সম্মান ও শ্রদ্ধা এসে যায়।
এক ডাকাত এসে জিজ্ঞাসা করলো, “হে বালক! আপনার কাছে কিছু রয়েছে কি?” উনি বললেন “হ্যাঁ, আমার কাছে রয়েছে।”
এরপর দ্বিতীয় ব্যক্তি এসে জিজ্ঞাসা করেছিল যে, “আপনার কাছে কিছু রয়েছে কি?” উনি বললেন, “হ্যাঁ রয়েছে।”
যখন একাধিক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলো উনি জবাব দিলেন, “আমার কাছে কিছু রয়েছে।”
তখন তারা সকলে গিয়ে তাদের সর্দারের নিকট বলেছিল, “হে সর্দার! একটা ছেলে-বালক তার চেহারা-ছূরত, আকার-আকৃতি দেখে সাধারণ মনে হয় না। তবে আমরা উনাকে জিজ্ঞাসা করেছি উনার কাছে কিছু রয়েছে কি-না? তিনি বলেছেন, উনার কাছে কিছু রয়েছে। আপনি যদি বলেন, তাহলে উনাকে ডেকে নিয়ে আসি।”
তখন হযরত গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, বড় পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে সে ডাকাত সর্দার ডেকে জিজ্ঞাসা করলো যে, “আপনার কাছে কিছু রয়েছে কি-না?” উনি বললেন “হ্যাঁ, রয়েছে।” কি রয়েছে? “৪০টা স্বর্ণ মুদ্রা।” “হ্যাঁ, আমার কাছে ৪০টা স্বর্ণ মুদ্রা রয়েছে।”
ডাকাত সর্দার জিজ্ঞাসা করলো, “কোথায় সে মুদ্রাগুলো?”উনি উনার জামাটা খুলে দেখালেন। “এই দেখ, জামার ভিতরে রয়েছে।” তখন ডাকাত সর্দার বললো, কোথায়? “দেখা যাচ্ছে না।”
উনি বললেন, “জামার ভিতরে কাপড়ের মধ্যে সিলাই করা রয়েছে।”
ডাকাত সর্দার তায়াজ্জুব হয়ে গেল, আশ্চর্য হয়ে গেল। “আপনি বলেন কি? যেখানে আপনার উপস্থিতিতে আমরা মানুষকে মারধর করে, জুলুম করে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিচ্ছি, আপনি সেখানে বলতেছেন আপনার কাছে ৪০টা স্বর্ণ মুদ্রা রয়েছে অথচ সেটা আমরা জানিনা। আপনি যদি বলতেন আমার কাছে কিছু নেই আমরা জিজ্ঞাসা করতাম না। একথা আপনি কেন স্বীকার করেছেন? দ্বিতীয়তঃ সেটা আপনার খোলা কোন স্থানে নেই। জামা কাপড় খুললে সেটা পাওয়া যেতো না। সেটা রয়েছে জামার ভিতরে কাপড় দিয়ে সিলাই করা অবস্থায়। যেটা কারো পক্ষে জানা সম্ভব না, নেয়াও সম্ভব না।”
উনি তখন বললেন, “আমার জামার ভিতরে সেলাই করা রয়েছে।” ডাকাত সর্দার এবং তার সঙ্গী-সাথী যারা ছিল তারা তায়াজ্জুব হয়ে গেল। তারা বললো যে, “আপনি একথা কেন বললেন?”
হযরত গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি যেহেতু উনি বালক ছিলেন, মাদ্রাসায় শিক্ষা করতে যাবেন, অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী, মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী ছোট হলেও মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী। যেটা বলা হয়-
اَلنَّبِىُّ نَبِيًّا وَلَوْ كَانَ صَبِيًّا
اَلْوَلِىُّ وَلِيًّا وَلَوْ كَانَ صَبِيًّا
নবী, নবীই যদিও ছোট হয়ে থাকেন। ওলীতো ওলীই যদিও ছোট হয়ে থাকেন। বয়স কম ছিল উনার।
উনি বললেন দেখ, “হে ডাকাত সর্দার! আমার মা তো আমাকে নিষেধ করেছেন। আমি যখন সফরে বের হচ্ছিলাম, আমার মা আমাকে বলেছিলেন যে বাবা,
اَلصِّدْقُ يُنْجِى وَالْكِذْبُ يُهْلِكُ
তুমি জেনে রেখ, “সত্য মানুষকে জিন্দা করে দেয়, আর মিথ্যা মানুষকে ধ্বংস করে দেয়।” তুমি কখনও ঘুণাক্ষরেও, ভুলেও মিথ্যা কথা বলো না। তুমি সত্য কথা বলবে সবসময় মহান আল্লাহ পাক তিনি বরকত দান করবেন।”
اِنَّمَا الْكِذْبُ لِكُلِّ الذُّنُوبِ اُمٌّ
“নিশ্চয় মিথ্যা সমস্ত গুণাহের মূল।”
হযরত গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, বড় পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, “হে ডাকাত সর্দার! আমার মা আমাকে নছীহত করেছেন, আমাকে বলেছেন, কাজেই কি করে আমার পক্ষে সম্ভব মিথ্যা বলা, ৪০টা স্বর্ণমুদ্রা কেন তার থেকে যদি আরো শত সহ¯্রগুণ বেশী হতো, আমি অবশ্যই সত্য কথাই বলতাম। যেহেতু আমার মায়ের নির্দেশ, আমাকে পালন করতেই হবে।
ডাকাত সর্দার সবসহ কান্নাকাটি করে উনার পায়ের উপর পড়ে গেল। তারা ইস্তেগফার করলো, তওবা করলো। করে তারা চলে গেল মক্কা শরীফ। তারা পরবর্তীতে মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী হয়ে গিয়েছিল।” সুবহানাল্লাহ!
গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, বড় পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, “এটাই আমার জীবনে প্রথম তওবা করানো।”
এখানে উল্লেখ করা হয়েছে যারা حُقُوقُ الْوَالِدَيْنِ সম্পর্কে লিখেছেন যে, গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, বড় পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি তো মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী করেছেন, অনেক বুযুর্গী দিয়েছেন, সম্মান দিয়েছেন এর মধ্যে একটা কারণ এটাও রয়েছে।
যেমন, সুলত্বানুল আরেফীন, হযরত বায়েজীদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মার খিদমত করে উনি “সুলত্বানুল আরেফীন” হয়েছিলেন। ঠিক গাউছুল আ’যম, উনি সাইয়্যিদুল আউলিয়া হয়েছেন উনার মা’র কথা রক্ষা করে। মা’র ফরমাবরদার হয়ে, হক্ব আদায় করে, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে গেছেন যার কারণে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে এত বড় মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
১০ই রবীউছ ছানী সর্বপ্রকার মুহাব্বত মুবারক, সন্তুষ্টি মুবারক পাওয়ার উছিলাহ মুবারক
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
রহমতের অমরাবতী, নূরের তজাল্লি ও কুদরতি নূরুত তাশরীফ মুবারক ঈদে নূরুত তাশরীফে শাহেন শাহ আলাইহিস সালাম
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে মেহমানদারী করার মাধ্যমে সম্মানিত শাফায়াত মুবারক লাভ
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহিলাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ নির্দেশনা মুবারক- পর্দা পালন করা
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নছীহত মুবারক: মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির সমস্ত কামিয়াবীর সোপান (১ম পর্ব)
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহিলাদের জামায়াতের জন্য মসজিদে ও ঈদগাহে যাওয়া হারাম ও কুফরী (৪)
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইখলাছ অর্জন করা ফরজ; ইখলাছ ছাড়া ইবাদত-বন্দেগী কবুল হয় না
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












