পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
(রাজারবাগ শরীফ উনার সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার ওয়াজ শরীফ থেকে সংকলিত)
, ২৮ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৭ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ০৪ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) মহিলাদের পাতা
(ধারাবাহিক)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আয়াত শরীফ নাযিল করে দিলেন-
وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ حُسْنًا
সন্তানরা পিতা-মাতার সাথে সদ্বব্যবহার করবে,
وَإِنْ جَاهَدَاكَ لِتُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا (সূরা আনকাবুত/৮)
وَإِنْ جَاهَدَاكَ عَلَى أَنْ تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا (সূরা লোকমান/১৫)
দুইটা আয়াত শরীফ উল্লেখ করেছেন মুফাস্সিরীন-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি এই আয়াত শরীফ নাযিল করলেন, হ্যাঁ পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করতে হবে, এটা অবশ্যই সত্য। তবে জেনে রাখ, যদি পিতা-মাতা এমন কোন কুফরী, শেরেকীর আদেশ করেন, তাহলে সেটা কিন্তু করা যাবে না। তবে অবশ্যই পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করতে হবে।
সদ্ব্যবহারের সাথে জীবন-যাপন করতে হবে। কিন্তু কুফরী, শেরেকী যেটা রয়েছে, উনারা যেটা আদেশ করবেন, সেটা আমল করা যাবে না। সেটা আমল করা যাবে না। তার থেকে অবশ্যই, তার থেকে অবশ্যই দূরে থাকতে হবে। যেহেতু মহান আল্লাহ পাক উনার হক্ব প্রথম, এরপর পিতা-মাতার হক্ব।
পিতা-মাতা যখন শরীয়তের খেলাফ আদেশ-নিষেধ করবেন, তখন সে আমলটা করা যাবে না। তাদেরকে সেটা বুঝিয়ে দিতে হবে, বলে দিতে হবে যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি নিষেধ করেছেন। কাজেই সেটা করা সম্ভব নয়। এটা মহান আল্লাহ পাক উনার নিষেধ রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বলা হয় যে, মহান আল্লাহ পাক উনার রাসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন যে, হে আমার ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম!
أَلاَ أُنَبِّئُكُمْ بِأَكْبَرِ الْكَبَائِرِ ثَلاَثًا قُلْنَا بَلٰى يَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
যে, মহান আল্লাহ পাক উনার রাসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, হে আমার ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম,
أَلاَ أُنَبِّئُكُمْ بِأَكْبَرِ الْكَبَائِرِ ثَلاَثًا
সাবধান! তিনটা সবচাইতে বড় গুণাহ্ সম্পর্কে কি আমি আপনাদেরকে বলবো?
قُلْنَا بَلٰى يَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
আমরা বললাম, আয় মহান আল্লাহ পাক উনার রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনি বলুন,
فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلْإِشْرَاكُ بِاللهِ
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক সম্পর্কে শরীক করা,
وَعُقُوقُ الْوَالِدَيْنِ
পিতা-মাতার সাথে অসৎ আচরণ করা, অর্থাৎ পিতা-মাতার সাথে নাফরমানী করা।
وَكَانَ مُتَّكِئًا فَجَلَسَ وَقَالَ أَلاَ وَقَوْلُ الزُّورِ وَشَهَادَةُ الزُّورِ فَمَا زَالَ يَقُولُهَا حَتَّى قُلْنَا لاَ يَسْكُتُ.
প্রথম বললেন, মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে শরীক করা, সবচাইতে বড় গুণাহ্।
দ্বিতীয় হচ্ছে, পিতা-মাতার সাথে নাফরমানী করা বা অসৎ আচরণ করা।
তৃতীয় হচ্ছে-
قَوْلُ الزُّورِ
মিথ্যা কথা,
شَهَادَةُ الزُّورِ
মিথ্যা সাক্ষী। মিথ্যা সাক্ষী।
উনি বারবার বলতে লাগলেন একথাগুলি,
فَمَا زَالَ يَقُولُهَا
বারবার একথাগুলি বলতেছিলেন।
حَتَّى قُلْنَا
হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম বললেন- আমরা এ পর্যন্ত বললাম-
لاَ يَسْكُتُ
যদি উনি চুপ করতেন, যদি উনি চুপ করতেন। বারবার মহান আল্লাহ পাক উনার রাসূল বলতে লাগলেন, দেখ, সবচাইতে বড় গুণাহ্ হচ্ছে তিনটা।
একটা হচ্ছে, মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে শরীক করা।
দুই নাম্বার হচ্ছে, পিতা-মাতার সাথে অসৎ আচরণ করা।
তিন নাম্বার হচ্ছে, মিথ্যা কথা বা মিথ্যা সাক্ষী।
আর এর থেকে তোমরা অবশ্যই বেঁচে থাকবে, তোমরা অবশ্যই বেঁচে থাকবে, সবচাইতে বড় গুণাহ্।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি যার অন্তরকে প্রসারিত করেন তাকেই হিদায়েত দান করেন
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল উনার ইন্তিজামকারী বিনা হিসাবে সম্মানিত জান্নাতে প্রবেশ করবেন
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হীলাহ্ বিবাহ এবং তার শরয়ী ফায়সালা (৪)
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের- সন্তুষ্টি-রেযামন্দি লাভের জন্য সন্তান প্রতিপালন করা সুন্নত (৪)
২৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
“যিনি সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনাকে বিশেষ মর্যাদা দিলেন, তিনি মূলত দ্বীন ইসলাম উনাকেই পুনরুজ্জীবিত করলেন”
২৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশতে প্রবেশ করবে না
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে মেহমানদারী করার মাধ্যমে সম্মানিত শাফায়াত মুবারক লাভ
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












