পাঠক কলাম:
পাহাড়ে উপজাতি সন্ত্রাসবাদ : জেএসএস (১)
, ২২শে রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২৬ ছামিন, ১৩৯২ শামসী সন , ২৩ জানুয়ারী, ২০২৫ খ্রি:, ০৯ মাঘ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মহিলাদের পাতা
জেএসএস হলো বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র উপজাতি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। এটিই মূলত উপজাতিদের অধিকারের দাবির অন্তরালে রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা, অব্যাহত চাঁদাবাজি, সশস্ত্র কার্যক্রম, হানাহানি, খুন-গুম করে সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রামকে অশান্ত করে আসছে। বাংলাদেশের জন্মের পর উপজাতিরা পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বায়ত্ত্বশাসন-স্বাধীনতার দাবিসহ মোট চার দফা দাবি পেশ করে। দাবিগুলো সংবিধান ও দেশ বিরোধী হওয়ার কারণে সে সময় দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করা হয়। এটি মেনে নিতে না পেরে ১৯৭৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পার্বত্য চট্টগ্রামের তথাকথিত প্রতিনিধিরা জেএসএস নামক একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন তৈরী করে। যাত্রার প্রথম দিক থেকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি স্বায়ত্ত্বশাসন ও জাতিগত পরিচয়ের স্বীকৃতির কথা বললেও বাঙ্গালী মুসলমানদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করে।
ক্ষিরাম বন বিভাগের ওপর হামলার মধ্য দিয়ে তারা প্রথম রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করে। এরপর থেকে দিন দিন তাদের অপরাধ বৃদ্ধি পেতে থাকে। ১৯৭৭ সালে বান্দরবান সাঙ্গু নদে পাঁচ সেনাসদস্যকে গুলি করে হত্যার মধ্য দিয়ে তারা তাদের শক্তি ও হিংস্রতা প্রকাশ করে। মূলত তারা বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের একাত্তরের স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারেনি। তাই সদ্য স্বাধীন হওয়া রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে নিয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে রাষ্ট্রের আধিপত্য এবং উপস্থিতি মেনে না নেয়ার জন্য প্রতিবেশী ভারতের সরাসরি ইন্ধন ছিল।
জেএসএস বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের শিকড় গাড়তে চায়। ভারতের অস্ত্র ও অর্থ ব্যবহার করেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী অপতৎপরতা চালানোর দুঃসাহস প্রদর্শন করে। জেএসএস এর সন্ত্রাসী উপজাতিরা সরকারি বাহিনী ও বাঙালি বসতি স্থাপনকারীদের পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বিতাড়িত করার লক্ষ্যে সন্ত্রাসী হামলা শুরু করে।
বর্তমানে সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রামে জেএসএস সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন দল উপদলে বিভক্ত হয়ে চাঁদাবাজি, হানাহানি, রক্তারক্তি সংঘর্ষ ও অবৈধ অস্ত্রের জোর খাটিয়ে পার্বত্য অঞ্চলের জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। এই জেএসএস পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় ৫০ হাজার নিরস্ত্র মুসলমান বাঙালিকে হত্যা করেছে। ২৭টি গণহত্যা পার্বত্য চট্টগ্রামে চালিয়েছে। ভূষণছড়া, পাকুয়াখালী, লঙ্গদুসহ এই গণহত্যায় নিহত হয় প্রায় ৫০ হাজার নিরীহ বাঙালি আবাল বৃদ্ধ বনিতা, সন্তান সম্ভবা নারী এবং অসংখ্য শিশু।
পার্বত্য এলাকায় জেএসএস-এর চাঁদাবাজীর জিম্মির শিকার প্রতিটি মুসলমান বাঙ্গালী। বাধ্য হয়ে যারা চাঁদা দেয় তাদের বেশিরভাগই সীমিত আয়ের মানুষ। তাদের যৎসামান্য উপার্জনেই ভাগ বসায় উপজাতি দুর্বৃত্তরা। বিভিন্ন লেক এলাকার লঞ্চ ও বোট মালিক, নৌকার মাঝি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, মুদিসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকানদার, ব্যবসায়ী সমিতি, মাছ, গরু বা সবজি বিক্রেতা, হোটেল-রেস্টুরেন্টের মালিক, সাধারণ চাষি অথবা ফলবাগানের মালিক, চাঁদের গাড়ির মালিক- এরকম নানা শ্রেণি-পেশার প্রায় সবাই নিয়মিত চাঁদাবাজির শিকার। এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই যাদেরকে টিকে থাকার জন্য চাঁদা দিতে হয় না। বিভিন্ন পাড়ার পরিবারগুলোকেও সেখানে বসবাস করার জন্য এই দুর্বৃত্তদের মাসোহারা দিতে হয়। বিভিন্ন অংকে চাঁদাবাজি তারা নিয়মিত করে, যেমন: পাবলিক পরিবহন হতে ১০,০০০ টাকা, কলা ও কাঠবাহী গাড়ি থেকে ৫,০০০ টাকা, মটরসাইকেল হতে ২,৫০০ টাকা। এছাড়াও প্রতিটি ব্যবসায় বিক্রির উপরে মাসিক চাঁদা আদায় তো আছেই। এসব নিয়ে সবার মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও প্রশাসনের ভূমিকা শূন্য।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, বেশ কিছুদিন যাবত মিজোরামের অনেক স্থানে জেএসএস-এর সন্ত্রাসীরা প্রশিক্ষণ ক্যাম্প তৈরী করে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। প্রশিক্ষণ ক্যাম্পগুলোতে এ পর্যন্ত জেএসএসের প্রায় ৭২০ সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে। সূত্র আরো জানিয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের জেএসএস সন্ত্রাসীরা মিজোরামের চাকমা অধ্যুষিত এলাকায় বাড়ি-ঘর দোকানপাট ক্রয় করে ব্যবসা শুরু করেছে। কেউ কেউ বৈবাহিক সম্পর্কও স্থাপন করেছে। এসবের আড়ালে সশস্ত্র প্রশিক্ষণার্থীদের আশ্রয়দান ও মিজোরাম থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করার চেষ্টা চালাচ্ছে তারা।
শান্তিপ্রিয় মুসলমানদের বিরুদ্ধে দাঙ্গা-হাঙ্গামা করে জেএসএস ইতিহাসের পাতায় চরম সন্ত্রাসী বিচ্ছিন্নতাবাদী উপজাতি গ্রুপ হিসেবে নিজেদের নাম লিখিয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে জেএসএস যে সন্ত্রাসবাদ, অশান্তির দাবানল সৃষ্টি করেছে, তা রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। এমনকি পার্বত্য চট্টগ্রামে ৫০ হাজার বাঙালি হত্যার দায় ও সব ঘটনার দায় অবশ্যই জেএসএস উপজাতিদেরকে নিতে হবে।
দেশ বাঁচাতে, দেশের অখন্ডতা রক্ষাথে সবাই এই কাফির সন্ত্রাসী উপজাতিদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন।
-মুহম্মদ হাফিজুর রহমান খান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাছ দোয়া মুবারক পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম পবিত্র যাকাত আদায়
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পারিবারিক তা’লীম ও তার তারতীব
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দুনিয়ার চাকচিক্যে মোহগ্রস্ত হয়ে বদ আমল করার কারণে মানুষকে পরকালে পাকড়াও হতে হবে (২)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাছ দোয়া মুবারক পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম পবিত্র যাকাত আদায়
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত রমাদ্বান শরীফ মাস হচ্ছে তাক্বওয়া হাছিলের মাস, নেক দোয়া করার মাস এবং কাফির মুশরিকদের বিরুদ্ধে বেশী বেশী বদ দোয়া করার মাস
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












