পারিবারিক জীবনে একটি মারাত্মক ভুল যার সংশোধন নেই (৩)
, ২৮ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৭ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৭ মে, ২০২৬ খ্রি:, ০৩ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মহিলাদের পাতা
স্পর্শ করার দ্বারা যেমন ‘হুরমতে মুছাহারা’ সাব্যস্ত হয়, তেমনি দৃষ্টি দেয়া বা দেখার দ্বারাও হুরমত সাব্যস্ত হয়:
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِيَسْتَأْذِنكُمُ الَّذِينَ مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ وَالَّذِينَ لَمْ يَبْلُغُوا الْحُلُمَ مِنكُمْ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ مِن قَبْلِ صَلَاةِ الْفَجْرِ وَحِينَ تَضَعُونَ ثِيَابَكُم مِّنَ الظَّهِيرَةِ وَمِن بَعْدِ صَلَاةِ الْعِشَاء ثَلَاثُ عَوْرَاتٍ لَّكُمْ
অর্থ: হে ঈমানদারগণ! তোমাদের গোলাম-বাঁদীরা এবং তোমাদের মধ্যে যারা প্রাপ্ত বয়স্ক হয়নি তারা যেন তিন সময়ে তোমাদের কাছে আসতে অনুমতি গ্রহণ করে। ফজরের নামাযের পূর্বে, দুপুর বেলা যখন তোমার পোশাক-পরিচ্ছদ খুলে রাখো এবং ঈশার নামাযের পর। এই তিন সময় তোমাদের শরীর সাধারণত খোলা থাকে। (পবিত্র সূরা নূর শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৮)
উল্লেখ্য যে, এই তিন সময় যদি অপ্রাপ্ত বয়স্কদেরকে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করার আদেশ দেয়া হয়, তাহলে যারা প্রাপ্ত বয়স্ক তাদের ক্ষেত্রে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করার বিষয়টি আরো জরুরী তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আতা ইবনে ইয়াসির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, একদা এক ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন- ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আমার নিজের মায়ের কাছে যেতে কি অনুমতি চাইবো? তিনি বললেন, হ্যাঁ।
লোকটি আরজ করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আমার মায়ের সাথে একই ঘরে বসবাস করি। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, যখন উনার কাছে যাবেন, অনুমতি নিয়ে যাবেন। তখন লোকটি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি তো উনার খাদিম। (উনার খিদমতের জন্য বারবার উনার কাছে আসা-যাওয়া করতে হয়)
তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, “তবুও আপনি অনুমতি নিয়ে উনার কাছে যাবেন। আপনি কি আপনার মাকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখতে পছন্দ করেন? লোকটি বললেন, না। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, তাহলে অনুমতি নিয়ে উনার কাছে যাবেন।” (মিশকাত শরীফ)
কেননা একান্ত অনিচ্ছাসত্বেও এমন অনাকাঙ্খিত দৃষ্টিপাতের দ্বারা এমন অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে যার কারণে আপন মা কিংবা সৎমা উনার আপন স্বামীর জন্য চিরতরে হারাম হয়ে যেতে পারে।
উল্লেখ্য যে, পুত্রবধূ, আপন মা, নিজের উপযুক্ত মেয়ে, সৎমা, প্রাপ্ত বয়স্কা সৎমেয়ে, নিজের শ্বাশুড়ী এই ছয় প্রকার মহিলাগণের উপর যেমন স্পর্শের দ্বারা হুরমতে মুছাহারা সাব্যস্ত হতে পারে তেমনিভাবে শাহওয়াতের সাথে লজ্জাস্থানের অভ্যন্তরভাগে দৃষ্টি দেয়ার কারণেও হুরমতে মুছাহারা সাব্যস্ত হয়ে থাকে। তবে ইহা ব্যতীত অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দিকে দৃষ্টিপাতের দ্বারা হুরমত সাবিত হবে না। কিন্তু খারাপ দৃষ্টির কারণে কবীরা গুনাহ হবে। একইভাবে নদীর তীরে পানির উপর দাঁড়িয়ে থাকার কারণে বা অন্য কোনোভাবে যদি পানির উপর তার প্রতিবিম্ব পড়ে তবে সেই প্রতিবিম্ব দেখলে এবং আয়নার উপরে পড়া প্রতিবিম্বের দিকে তাকার কারণেও হুরমত ছাবিত হবে না।
কাজেই, উপরোল্লেখিত মহিলাগণের শোয়ার স্থানে বা শোয়ার সময় তাদের নিকটে না যাওয়াই ভালো। যদি একান্ত প্রয়োজনে যেতে হয়, তাহলে তাদের অনুমতি নিয়ে যাওয়া উচিত।
মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
الحياء شعبة من الايمان
অর্থ: লজ্জা সম্মানিত ঈমান উনার অঙ্গ। (মুসলিম শরীফ)
লজ্জাহীনতা থেকে পর্দাহীনতা। পর্দাহীনতা থেকে যাবতীয় ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম। মারাত্মক ভুল এবং তার প্রায়শচিত্ত। পর্দার গুরুত্ব, তাৎপর্য, পর্দার সীমারেখা ইত্যাদি না জানার কারণে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভুল ধারণা, সংশয়, সন্দেহ দানা বাঁধে। জীবন হয় দুর্বিষহ।
যারা মাহরাম, যাদের সাথে দেখা করা জায়িয তারা কতটুকু দেখতে পারেন? সম্মানিত শরীয়ত কতটুকু সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছেন সে সম্পর্কে জানাও ফরয। যারা মাহরাম তারা শুধু হাত, পা, মুখম-ল দেখতে পারেন। তার চেয়ে বেশি নয়। যারা এই সীমারেখা অতিক্রম করেন তাদের জীবনে মারাত্মক ভুলের সূত্রপাত ঘটে থাকে। অনেকে নিজ মা, মেয়ে, বোনদের পাতলা ও আটসাঁট কাপড় পরাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। নাঊযুবিল্লাহ! এটাকেই তারা আধুনিকতা ও সামাজিকতা মনে করে। এদের সাথে খেয়াল-খুশি মতো অশ্লীল, অশালীন কথাবার্তা বলতে দ্বিধাবোধ করে না। নাঊযুবিল্লাহ! লজ্জার সীমা অতিক্রম করে। ফলশ্রুতিতে ‘হুরমতে মুছাহারা’ এর মতো মারাত্মক অবস্থার সম্মুখীন হয়। তাতে দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই বরবাদ হয়ে যায়।
কাজেই, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পর্দার সীমারেখা সংরক্ষণ করা দরকার। লজ্জাশীলতা বজায় রাখা একান্ত প্রয়োজন। বর্ণিত আছে যে, তুমি যদি লজ্জা ছেড়ে দাও তাহলে যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে। যেমন ইহুদী, নাছারা, মজুসী, মুশরিক, হিন্দু, বৌদ্ধরা তাদের মন যা চায় তাই করে। এরা জাহান্নামের কীট। এদের রীতি-নীতি পরিহার করা আবশ্যক।
মহান আল্লাহ পাক তিনি মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক উসীলায় আমাদের সবাইকে উদ্ভূত সেই পরিবেশ-পরিস্থিতি থেকে পানাহ দান করুন। আমীন।
-আল্লামা সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হীলাহ্ বিবাহ এবং তার শরয়ী ফায়সালা (২)
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র মুহররমুল হারাম মাসকে একমাত্র বিদয়াতী ধর্মব্যবসায়ীরাই নববর্ষ হিসেবে উদযাপন করতে বলে
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আসন্ন পবিত্র মুহররমুল হারাম মাস এবং পবিত্র আশূরা শরীফ উভয়ের প্রতি সম্মান করা ফরয
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
তওবা
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
হযরত ফুরাই’আহ বিনতে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (১৯)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












