পবিত্র “মাক্বামে মাহমূদ” উনার বেমেছাল তাফসীর বিষয়ে খারেজী জাহমিয়া ফিরকার মুখোশ উম্মোচন (৫)
, ৮ই রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১২ ছামিন, ১৩৯২ শামসী সন , ০৯ জানুয়ারী, ২০২৫ খ্রি:, ২৪ পৌষ , ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
উপরোল্লিখিত পবিত্র হাদীছ শরীফ সম্পর্কে সর্বজন স্বীকৃত হাফিজুল হাদিছ হযরত ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন-
وَقَالَ لَيْثٌ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ مُجَاهِدٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فِيْ قَـوْلِهٖ تَـعَالٰى مقَامًا مَّحْمُوْدًا يُجْلِسُهٗ مَعَهٗ عَلٰى عَرْشِهٖ ثُمَّ أَسْنَدَهٗ وَقَالَ الْأَوَّلُ أَوْلٰى عَلٰى أَنَّ الثَّانِيَ لَيْسَ بِمَدْفُـوْعٍ لَا مِنْ جِهَةِ النَّـقْلِ وَلَا مِنْ جِهَةِ النَّظْرِ وَقَالَ اِبْنُ عَطِيَّةَ هُوَ كَذٰلِكَ إِذَا حُمِلَ عَلَى مَا يَلِيْقُ بِهٖ وَبَالَغَ الْوَاحِدِيُّ فِيْ رَدِّ هٰذَا الْقَوْلِ وَأَمَّا النَّـقَّاشُ فَـنَـقَلَ عَنْ أَبِيْ دَاوٗدَ صَاحِبِ السُّنَنِ أَنَّهٗ قَالَ مَنْ أَنْكَرَ هٰذَا فَـهُوَ مُتَّـهَمٌ وَقَدْ جَاءَ عَنْ اِبْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ عِنْدَ الثَّـعْلَبِيِّ وَعَنْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ عِنْدَ أَبِي الشَّيْخِ وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ سَلَامٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ إِنَّ مُحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَـوْمَ الْقِيَامَةِ عَلٰى كُرْسِيِّ الرَّبِّ بَيْنَ يَدَي
ইমাম হযরত লাইছ রহমতুল্লাহি আলাইহি মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে মাকামে মাহমূদ উনার ব্যাখ্যায় বলেন মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উনার কুদরতী আরশ মুবারক উনার মাঝে উনার পাশে বসাবেন। আমি বলি (ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি) মাকামে মাহূদ উনার মধ্যে বর্ণিত প্রথম মত (যা দ্বারা শাফায়াত উদ্দেশ্য) এটাই আমার মতে সর্বোত্তম। কিন্তু মাকামে মাহমুদ উনার মধ্রে দ্বিতীয় অর্থ (যেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আরশে বসানোর কথা বলা হয়েছে) যা কোন নকলী দলীল দিয়ে ও চিন্তাভাবনা বিশ্লেষণ দ্বারা খন্ডন করা সম্ভব না। যদিও ইমাম ওয়াহেদী এই মতটি রদ করতে চেয়েছেন, কিন্তু ইমাম নাক্কাস রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন ইমাম আবু দাউদ যিনি সুনানে আবু দাউদ উনার লেখক তিনি বলেন, যে এই মতকে অস্বীকার করে সে আমাদের মতে তিরস্কৃত। আর এই ধরণের বর্ণনা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের মত সম্মানিত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা করেছেন। বর্ণনায় এসেছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কিয়ামতের দিনে মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার সামনে বিশেষ আসনে উপবিষ্ট হবেন।” (ফতহুল বারী শরহে ছহীহুল বুখারী ১১/৪২৬)
হাফিজুল হাদীছ হযরত বদরুদ্দীন আইনী রহমতুল্লাহি আলাইহি বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেন
وَقَالَ الطَّبَرِيّ أَيْضًا قَالَ لَيْثٌ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ مُجَاهِدٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فِيْ قَوْلِهٖ مقَامًا مَّحْمُوْدًا يُجْلِسُهٗ مَعَهٗ عَلٰى عَرْشِهٖ ثُمَّ أَسْنَدَهٗ وَبَالَغَ الْوَاحِدِي فِيْ رَدِّ هٰذَا الْقَوْلِ وَنَقَلَ النَّقَّاشُ عَنْ أَبِيْ دَاوٗدَ صَاحِبِ السُّنَنِ أَنَّهٗ قَالَ مَنْ أَنْكَرَ هٰذَا فَهُوَ مُتَّهَمٌ وَقَدْ جَاءَ عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ عِنْدَ الثَّعْلَبِيِّ وَعَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ عِنْدَ أبِي الشَّيْخِ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ سَلَامٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّ مُحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلٰى كُرْسِيِّ الرَّبِّ بَينَ يَدَيِ الرَّبِّ
ইমাম হযরত তাবারী রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত লাইছ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ননা করেন মাকামে মাহমূদ উনার মাঝের অর্থ হলো, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কুদরতী আরশ মুবারকে নিজের পাশে বসাবেন। ইমাম ওয়াহেদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এটা খন্ডন করতে চাইলে আবু দাউদ শরীফ উনার মুছান্নিফ হযরত আবু দাউদ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, যারা নূরে মুজাসসাম, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কুদরতী আরশে পাশে বসানো বিষয়টা অস্বীকার করে তারা তিরস্কৃত। হযরত ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে হযরত ছালাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি , হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই কিয়ামতের ময়দানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উনার রব তায়ালা উনার সামনে বিশেষ আসনে বসানো হবে। (উমদাতুল ক্বারী শরহে ছহীহ বুখারী ২৩/১২৩)
-খাজা মুহম্মদ আবু সালাহুদ্দীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ওলীআল্লাহ উনাদের সম্পর্কে বদ আক্বীদা পোষণ এবং উনাদের বিরুদ্ধাচরণের কারণে কঠিন পরিণতি
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৫)
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মসজিদের মধ্যে উচ্চস্বরে কথা বলা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে বা যারা কাফিরদের সাথে সম্পর্ক রাখবে সে দ্বীন ইসলাম থেকে খারিজ হবে
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সুগন্ধে ভরে উঠলো পুরো মাঠ!
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ছহিবে নিসাব প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য পবিত্র কুরবানী দেয়া ওয়াজিব (৪)
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












