পবিত্র “মাক্বামে মাহমূদ” উনার বেমেছাল তাফসীর বিষয়ে খারেজী জাহমিয়া ফিরকার মুখোশ উম্মোচন (১)
, ৪রা রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ০৮ ছামিন, ১৩৯২ শামসী সন , ০৫ জানুয়ারী, ২০২৫ খ্রি:, ২০ পৌষ , ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
عَسٰىۤ أَنْ يَّـبْـعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَّـحْمُوْدًا
“নিশ্চয়ই আপনার মহান রব তায়ালা আপনাকে মাকামে মাহমূদ উনার মাঝে অধিষ্ঠিত করবেন।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ইসরা শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৭৯)
মাকামে মাহমূদ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এমন এক মাকাম মুবারক যা সৃষ্টির কারোই নেই। এই মহাসম্মানিত মাকাম উনার ব্যাখ্যায় তাফসীর এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বিভিন্ন ব্যাখ্যাগ্রন্থে একাধিক মত রয়েছে। যথা- (১) মাকামে মাহমূদ হলো শাফায়াতে কুবরা। (২) প্রশংসার পতাকা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুল মাগফিরাত মুবারক বা পবিত্র হাত মুবারকে থাকবে। (৩) সর্বপ্রথম জান্নাতে কড়া নাড়বেন। (৪) গুনাহগার উম্মতকে জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাতে দিবেন। ইত্যাদি। এছাড়াও আরেকটি বিশেষ শান মুবারক উনার কথা বলা হয়েছে তা হচ্ছে “কুদরতী মেছালী আরশ মুবারকে মহান আল্লাহ পাক উনার পাশে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বসানো হবে”। সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য যে, আরশ মুবারকে বসার বিষয়টা অন্য বিষয়গুলোকে নফী করে না বা সাংঘর্ষিক না। বরং এটাই সুন্দর একটা অবস্থান ফুটিয়ে তোলে সেটা হচ্ছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কুদরতী আরশ মুবারকে বসে সেখানে থেকে সবার জন্য শাফায়াত মুবারক করবেন। এছাড়া এ প্রসঙ্গে ৪ জন ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এবং একাধিক প্রসিদ্ধ তাফসীরবিদ তাবেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের থেকে এর স্বপক্ষে বক্তব্য পাওয়া যায়।
উপরোক্ত আক্বীদার বিষয়ে ইতিহাসে একজন ছাড়া আর কারো অভিযোগ খুঁজে পাওয়া যায় না। সর্বপ্রথম এ বিষয়ে আপত্তি করেন ইমাম ওয়াহেদী রহমতুল্লাহি আলাইহি। তবে উনার আপত্তিও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বসানো নিয়ে নয় বরং উনার আপত্তি ছিলো মহান আল্লাহ পাক তিনি কিভাবে আরশে বা কুরসীতে বসবেন সেটা নিয়ে। এ ব্যাপারে একাধিক ইমাম খণ্ডনমূলক জবাব দিয়েছেন। এখন বুঝার বিষয় হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার বসাকে কেউ যদি দেহবাদীদের মত চিন্তা করে তাহলে তার জন্য বিভ্রান্তি রয়েছে। মহান আল্লাহ পাক উনার এই শান মুবারক প্রকাশ সম্পূর্ণই কুদরতি একটা বিষয় যা মানুষের চিন্তা ও জ্ঞানের বাইরে। এটা কোন সৃষ্টির মত নয় যে তাশাব্বুহ বা সাদৃশ্য হয়ে যাবে। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এ বিশেষ আসনে মহান রব তায়ালা উনার পাশে বসা এটা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের প্রাচীন ও প্রসিদ্ধ উলামায়ে কিরাম উনাদের আক্বীদা। এবং এর বিরোধিতা করা বিদয়াতি খারেজী জাহমিয়া ফিরকার আলামত হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়গুলো ধারাবাহিক আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ!
-খাজা মুহম্মদ আবু সালাহুদ্দীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত হানাফী মাযহাবে ছদক্বাতুল ফিতর উনার অকাট্য দলীল (৩)
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র সূরা দুখান শরীফে বর্ণিত লাইলাতুম মুবারকাই হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত; যে রাত্রি মুবারকে সমস্ত প্রজ্ঞাময় বিষয়সমূহের ফায়ছালা করা হয় (৭)
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১২)
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা অবশ্যই সত্যের মাপকাঠি; অস্বীকারকারীরা কাট্টা কাফির (১৩)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাজায়িজ
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১১)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুন উনার অপরিহার্য অংশ- ইসলামী চন্দ্র ক্যালেন্ডার “আত তাক্বউইমুল কামারী” {২}
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র নামাযের আহকাম সম্পর্কিত মাসয়ালা :
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












