পবিত্র ‘ছলাতুল জুমুয়াহ’ উনার পূর্বে ৪ রাকায়াত সুন্নত নামায অর্থাৎ পবিত্র ‘ক্বাবলাল জুমুয়াহ’ নামায নিয়ে বাতিলপন্থিদের বিভ্রান্ত্রিকর ও মিথ্যা বক্তব্যের দলীলভিত্তিক জাওয়াব (৬)
, ১৫ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৮ সাবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২২ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার আমল মুবারক:
যেমন বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُمَا أَنَّهُ كَانَ يُصَلِّي قَبْلَ الْجُمُعَةِ أَرْبَعًا لَا يَفْصِلُ بَيْنَهُنَّ بِسَلَامٍ
অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি পবিত্র জুমুয়ার নামাযের পূর্বে ৪ রাকায়াত নামায পড়তেন। মাঝে পৃথক হতেন না অর্থাৎ এক সালামে ৪ রাকায়াত পড়তেন।” সুবহানাল্লাহ! (শরহু মা‘য়ানিইল আছার ১/৩৩৫, ত্বহাবী শরীফ)
হযরত ইমাম ইবনে রজব হাম্বলী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
وروى حَضْرَتْ الطحاوي رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ بإسناده عن جبلة بن سحيم رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قال كان حَضْرَتْ ابن عمر رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُمَا يُصَلِّي قَبْلَ الْجُمُعَةِ أَرْبَعًا لَا يَفْصِلُ بَيْنَهُنَّ بِسَلَامٍ
অর্থ: “হযরত ইমাম আবূ জা’ফর আত্ব তহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত জাবালাহ্ ইবনে সুহাইম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি পবিত্র জুমুয়ার নামাযের পূর্বে ৪ রাকায়াত নামায পড়তেন। মাঝে পৃথক হতেন না অর্থাৎ এক সালামে চার রাকায়াত নামায পড়তেন।” সুবহানাল্লাহ! (ফাতহুল বারী লি ইবনে রজব ৫/৫৩৯, তুহফাতুল আহওয়াযী ২/১৩২)
কাজেই, উপরোক্ত আলোচনা থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ উবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনিও পবিত্র ক্বাবলাল জুমুয়াহ নামায ৪ রাকায়াত আদায় করতেন। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার আমল মুবারক দ্বারাও পবিত্র ক্বাবলাল জুমুয়াহ নামায ৪ রাকায়াত প্রমাণিত হলো। সুবহানাল্লাহ!
রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার আমল মুবারক:
হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি এমন ব্যক্তিত্ব মুবারক, উনার জন্য স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দোয়া মুবারক করেছেন-
اللَّهُمَّ فَقِّهْهُ فِي الدِّينِ
অর্থ: “আয় বারে এলাহী! আপনি হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে সম্মানিত দ্বীন উনার হাক্বীক্বী বুঝ বা জ্ঞান দান করুন।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ)
অপর বর্ণনায় রয়েছে-
اللَّهُمَّ فَقِّهْهُ فِي الدِّينِ وَعَلِّمْهُ التَّأْوِيلَ
অর্থ: “আয় বারে এলাহী! আপনি হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে সম্মানিত দ্বীন উনার হাক্বীক্বী বুঝ বা জ্ঞান দান করুন এবং পবিত্র কুরআন শরীফ উনার ব্যাখ্যার হাক্বীক্বী ইলিম দান করুন।” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ, মুসনাদে বায্যার ১১/২৮২)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এই সম্মানিত দোয়া মুবারক উনার কারণে তিনি পরবর্তীতে ‘রঈসুল মুফাসসিরীন’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন। সুবহানাল্লাহ! আর উনার আমল মুবারকও হচ্ছেন, তিনি পবিত্র জুমুয়ার নামাযের পূর্বে ৪ রাকায়াত ‘ক্বাবলাল জুমুয়াহ’ নামায পড়তেন। সুবহানাল্লাহ!
যেমন- বুখারী শরীফ উনার ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘ফতহুল বারী’তে হযরত ইমাম ইবনে রজব হাম্বলী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত ইমাম হারব ইবনে ইসমাঈল কিরমানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। হযরত ইমাম ইবনে রজব হাম্বলী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
وروى حَضْرَتْ حرب رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ بإسناده عن حَضْرَتْ ابن عباس رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ أنه كان يصلي يوم الجمعة في بيته أربع ركعات ثم يأتي المسجد فلا يصلي قبلها
অর্থ: “হযরত ইমাম হারব ইবনে ইসমাঈল কিরমানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সূত্রে বর্ণিত রয়েছে। হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি পবিত্র জুমুয়ার দিন উনার বাড়িতে ৪ রাকায়াত নামায পড়ে পবিত্র মসজিদে যেতেন, পবিত্র জুমুয়ার পূর্বে তিনি আর কোনো নামায পড়তেন না।” (ফতহুল বারী লি ইবনে রজব ৮/৩৩০)
অর্থাৎ হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনিও পবিত্র ক্বাবলাল জুমুয়াহ নামায ৪ রাকায়াত পড়তেন। সুবহানাল্লাহ! (চলবে ইনশাল্লাহ!)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুলতান আব্দুল হামিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলদিজ প্রাসাদে ইফতার আয়োজনের স্মৃতিকথা
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৬)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের অনবদ্য তাজদীদ মুবারক-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের হাঁচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৬)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












