পবিত্র ‘ছলাতুল জুমুয়াহ’ উনার পূর্বে ৪ রাকায়াত সুন্নত নামায অর্থাৎ পবিত্র ‘ক্বাবলাল জুমুয়াহ’ নামায নিয়ে বাতিলপন্থিদের বিভ্রান্ত্রিকর ও মিথ্যা বক্তব্যের দলীলভিত্তিক জাওয়াব (২)
, ১৭ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১১ সাদিস, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৯ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২৪ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
৩ নং হাদীছ শরীফ:
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَرْكَعُ قَبْلَ الْجُمُعَةِ اَرْبَعًا وَبَعْدَهَا اَرْبَعًا لَا يَفْصِلُ بَيْنَهُنَّ
অর্থ: “রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (পবিত্র জুমুয়ার দিন) পবিত্র ছলাতুল জুমুয়াহ আদায় করার পূর্বে পৃথক না হয়ে অর্থাৎ এক সালামে চার রাকায়াত ছলাত আদায় করতেন। ” সুবহানাল্লাহ! (আল মু’জামুল কাবীর ১০/২৭৬, মাজমাউয যাওয়ায়িদ ২/২৩০, হাদীছ শরীফ নং ৩১৯০ ইত্যাদি)
৪ নং হাদীছ শরীফ:
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي قَبْلَ الْجُمُعَةِ أَرْبَعًا وَبَعْدَهَا أَرْبَعًا
অর্থ: “ফক্বীহুল উম্মত হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাস‘ঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (পবিত্র জুমুয়ার দিন) পবিত্র ছলাতুল জুমুয়াহ আদায় করার পূর্বে চার রাকায়াত এবং পরে চার রাকায়াত ছলাত আদায় করতেন। ” সুবহানাল্লাহ! (মু’জামুল আওসাত্ব, নছবুর র-ইয়াহ লি আহাদীছিল হিদায়াহ ২/২০৬)
৫ নং হাদীছ শরীফ:
عَنْ حَضْرَتْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ كَانَ مُصَلِّيًا فَلْيُصَلِّ قَبْلَ الْجُمُعَةِ أَرْبَعًا وَبَعْدَهَا أَرْبَعًا
অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি পবিত্র জুমুয়াহর নামায পড়বে, সে যেন পবিত্র জুমুয়াহর নামাযের পূর্বে চার রাকায়াত এবং পরে চার রাকায়াত নামায আদায় করে। ” (শরহু মুশকিলিল আছার ১০/২৯৯, কানযুল উম্মাল ৭/৭৪৯, জামিউল কাবীর লিস সূয়ূতী পৃষ্ঠা নং ২৪২২৯, আল ইমাউ ইলা যাওয়ায়িদিল হাদীছ ৬/৩০১, মাউসূয়াতু আত্বরাফিল হাদীছ ইত্যাদি)
এখানে পাঁচখানা পবিত্র মারফূ’ হাদীছ শরীফ উল্লেখ করা হয়েছে। যেখানে আমরা দেখতে পেলাম নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি চার রাকায়াত ‘ক্বাবলাল জুমুয়া’ নামায পড়েছেন এবং পড়ার জন্য আদেশ মুবারকও করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
বাতিল পন্থিদের একটি বদখাছলত হচ্ছে, কোন বিষয় তাদের মতের খিলাফ হলে সেটাকে জাল-যয়ীফ বলে বিভ্রান্ত্রি ছড়ানো। তাই নিম্নে উল্লেখিত পবিত্র হাদীছ শরীফসমূহ উনাদের প্রথম হাদীছ শরীফ উনার সনদ নিয়ে আলোচনা করা হলো-
এই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বর্ণনাকারীগণ সকলেই হলেন ‘ছিক্বাহ’ বা নির্ভরযোগ্য।
এই পবিত্র হাদীছ শরীফখানা হযরত ইমাম আবুল হাসান খিলায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ৪৯২ হিজরী) তিনিও উনার লিখিত কিতাব ‘আল ফাওয়াইদ’ উনার মধ্যে ছহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন।
হাফিয আবূ যুরআ ইরাক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ৮২৬ হিজরী) তিনি ‘ক্বাবলাল জুমুয়াহ’ নামায চার রাকায়াত এই বিষয়ে অনেকগুলো পবিত্র হাদীছ শরীফ উল্লেখ করে বলেন, উল্লেখিত পবিত্র হাদীছ শরীফসমূহ হযরত ইমাম আবুল হাসান খিলায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ৪৯২ হিজরী) তিনি উনার ‘আল ফাওয়াইদ’ কিতাবে তা নির্ভরযোগ্য সনদে বর্ণনা করেছেন। যেমন তিনি ‘তরহুত তাছরীব’ গ্রন্থে উল্লেখ করেন-
وَالْمَتْنُ الْمَذْكُورُ رَوَاهُ أَبُو الْحَسَنِ الْخِلَعِيِّ رحمة الله عليه فِي فَوَائِدِهِ بِإِسْنَادٍ جَيِّدٍ مِنْ طَرِيْقِ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ عَنْ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ عَلِيٍّ عليه السلام عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: “আর এই উল্লেখিত মতন বা মূলভাষ্যটুকু হযরত ইমাম আবুল হাসান খিলায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ৪৯২ হিজরী) তিনি উনার ‘আল ফাওয়াইদ’ কিতাবে নির্ভরযোগ্য সনদে বর্ণনা করেছেন। (তিনি সেই সনদও উল্লেখ করেছেন। ) হযরত আবূ ইসহাক্ব আস সাবীয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আসিম ইবনে দমরা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণনা করেন যে, (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র ছলাতুল জুমুয়াহর পূর্বে চার রাকায়াত নামায পড়তেন। )” সুবহানাল্লাহ! (আল-ফাওয়াইদ, তরহুত তাছরীব ৩/২৯২) (চলবে... ইনশাআল্লাহ!)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ক্বদরের রাত্রিতে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম যমীনে নাযিল হয়ে চারটি বরকতময় স্থানে শান্তির পতাকা স্থাপন করেন-
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (৯)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৪)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কোন মুসলমানের জন্য কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৬)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












