পবিত্র হজ্জ-উমরাহর গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ (৭)
, ২৮ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৭ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৭ মে, ২০২৬ খ্রি:, ০৩ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْتِـيْ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ يـَحُجُّ اَغْنِيَاءُ النَّاسِ لِلنَّزَاهَةِ وَاَوْسَطُهُمْ لِلتِّجَارَةِ وَفُقَرَاؤُهُمْ لِلْمَسْأَلَةِ وَقُرَّاؤُهُمْ لِلرِّيَاءِ وَالسُّمْعَةِ
অর্থ: হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- মানুষের উপর অতিশীঘ্রই এমন একটা সময় আসবে অর্থাৎ আমার উম্মতের উপর এমন একটা সময় আসবে যারা ধনী, পয়সাওয়ালা, ধনী সম্প্রদায় যারা রয়েছে এরা পবিত্র হজ্জ করবে আনন্দ ভ্রমণ হিসেবে। মধ্যম শ্রেণীর যারা রয়েছে তারা হজ্জ করবে ব্যবসার উদ্দেশ্যে। আর যারা অভাবী, গরীব এরা হজ্জ করবে ভিক্ষা খয়রাত করার জন্য। আর অনেক আলিম ছূফী দরবেশ নামধারী ব্যক্তিরা হজ্জ করবে মানুষকে বলার জন্য, রিয়া করার জন্য। নাউযুবিল্লাহ!
তারা বলবে যে, আমি এতবার হজ্জ করেছি, পাঁচ বার, দশ বার, বিশ বার, চল্লিশ বার, একশ’ বার হজ্জ করেছি। নাউযুবিল্লাহ! মানুষকে এটা বলার জন্য, রিয়ার জন্য। কিন্তু সেই হজ্জগুলো একটাও কবুল হবে না। হজ্জে মাবরূর করতে হবে তখন হজ্জ কবুল হবে এবং তার যত ফযীলত সেটা সে লাভ করবে। আমভাবে মানুষের পক্ষে এ বিষয়গুলো ফিকির করা অত্যন্ত কঠিন। তবে সাধারণভাবে যেটা কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, কোন লোকের যদি সত্যিই পবিত্র হজ্জে মাবরূর নছীব হয় তাহলে পবিত্র হজ্জ করে আসার পরে দেখা যাবে তার আমলগুলো আস্তে আস্তে বিশুদ্ধ হবে। অর্থাৎ সে আস্তে আস্তে যিনি খ্বালিক্ব যিনি মালিক মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের দিকে রুজু হয়ে যাবে। তার আমলগুলো আস্তে আস্তে শুদ্ধ হয়ে যাবে। সে সমস্ত কুফরী, শিরিকী, হারাম কাজ থেকে বেঁচে থাকবে। সুবহানাল্লাহ!
আর যদি দেখা যায় সে হজ্জ করে এসে তার আমলে কোন পরিবর্তন নেই বরং তার আমল নষ্ট হচ্ছে মনে হয়। সে হারাম নাজায়িয, অশ্লীল-অশালীন কাজে আরো জড়িত হচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ! তাহলে বুঝতে হবে, তার হজ্জে মাবরূর নছীব হয়নি। নাউযুবিল্লাহ!
বিষয়টা ফিকির করতে হবে। পবিত্র হজ্জে মাবরূর হচ্ছে যা মানুষের নাজাতের কারণ। আর যদি সে হজ্জের কার্যক্রম যথাযথ করতে না পারে তাহলে সেটা কঠিন বিষয়। এজন্য সাধারণভাবে যেটা বলা হয়েছে, একজন হাজী ছাহেবের যে গুরুত্ব, পবিত্র হজ্জ করার যে গুরুত্ব সেটা।
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ، قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ يَشْفَعُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ثَلاَثَةٌ اَلْأَنْبِيَاءُ، ثُمَّ الْعُلَمَاءُ، ثُمَّ الشُّهَدَاءُ.
অর্থ: সাইয়্যিদুনা হযরত যূন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ক্বিয়ামতের দিন তিন প্রকার লোক সুপারিশ করবেন, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা, হযরত আউলিয়া কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা এবং যারা শহীদ উনারা। (ইবনে মাজাহ শরীফ)
যাদের হজ্জ কবুল হয়ে থাকে অর্থাৎ যারা হাজী উনারাও সুপারিশ করবেন। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, একজন হাজী ছাহেবের যদি পবিত্র হজ্জে মাবরূর নছীব হয় তিনি চারশত লোকের জন্য সুপরিশ করতে পারবেন। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই প্রতিটি আমলই যদি তা বিশুদ্ধ হয় তাহলে সে তার জন্য সুপারিশ করবে এবং তার নাজাতের কারণ। রহমত, বরকত ও সাকীনা লাভের কারণ। আর যদি আমলটা তার উল্টা হয়ে থাকে, যেভাবে করার কথা ছিলো সেভাবে সে না করে তাহলে কি হবে? সে আমলটাই কিন্তু নামায হোক, রোযা হোক, হজ্জ হোক, যাকাত হোক সে আমলগুলি তাদেরকে যারা সম্মানিত শরীয়তসম্মত পদ্ধতিতে যেভাবে করার সেভাবে না করলে তখন সেই আমল তাদেরকে লা’নত দিতে থাকে। নাউযুবিল্লাহ! ঠিক হজ্জও কিন্তু এ রকমের। পবিত্র হজ্জে মাবরূর নছীব হলে সে নেককার, আল্লাহওয়ালা ও আল্লাহওয়ালী হয়ে যায়। মহান আল্লাহ পাক তিনি না করুন সেটা যদি না হয় তাহলে দেখা যায়, সে আস্তে আস্তে আরো বদকার হয়ে যায়। নাউযুবিল্লাহ! কারণ পবিত্র হজ্জ তাকে লা’নত দিয়ে থাকে। নাউযুবিল্লাহ!
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করার গুরুত্ব-ফযীলত ও খাছ সুন্নতী তারতীব
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পুষ্টিগুণে ভরপুর মহাসম্মানিত সুন্নতী খাবার “মগজ”
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র সুন্নতী লিবাস ও পবিত্র লিবাসুত তাক্বওয়া দু’টি আলাদা পোশাক একটি হলো- জাহেরী সুন্নাহ লিবাস মুবারক; অন্যটি হলো- অন্তরের তাক্বওয়া হাছিলের লিবাস মুবারক (১)
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (২)
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ক্বমীছ বা জামা নিছফে সাক্ব পর্যন্ত প্রলম্বিত হওয়া সম্মানিত সুন্নত মুবারক
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (১)
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ওযূর একটি মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনিচ্ছাকৃত তরক করায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সতর্কতা মুবারক
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
লিবাস পরিধানের মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ (২)
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
লিবাস পরিধানের মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ (১)
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১৯)
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সর্বপ্রকার কামিয়াবী হাছিল করতে হলে সকলের জন্য কর্তব্য হচ্ছে- নফসের অনুসরণ বাদ দিয়ে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণ করা
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলার জন্য আবশ্যক হচ্ছে, সর্বক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী আমল করা
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












