পবিত্র সূরা দুখান শরীফে বর্ণিত লাইলাতুম মুবারকাই হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত; যে রাত্রি মুবারকে সমস্ত প্রজ্ঞাময় বিষয়সমূহের ফায়ছালা করা হয় (৫)
, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
পবিত্র কুরআন শরীফে বর্ণিতاَنْزَلَ ও نَزَّلَ শব্দদয় উনাদের পার্থক্য:
পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল হওয়ার বিষয়টা বুঝার জন্য পবিত্র কুরআন শরীফে বর্ণিতاَنْزَلَ ও نَزَّلَ শব্দদয় উনাদের পার্থক্য বুঝা অত্যন্ত জরুরী। এই দুইখানা শব্দ মুবারক উনাদের পার্থক্য না বুঝার কারণে অনেকেই বিভ্রান্তি ছড়ায়। তাই নিম্নে বিষয়টা আলোচনা করা হলো:
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে যেসব স্থানে اَنْزَلَ শব্দ এসেছেন সেসব স্থানে অর্থ হবে একত্রে নাযিল করা হয়েছে। যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اِنَّا اَنْزَلْنٰهُ فِىْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ
অর্থ: নিশ্চয়ই আমি পবিত্র শবে ক্বদরে পবিত্র কুরআন শরীফ (একসাথে) নাযিল করেছি। (পবিত্র সূরা ক্বদর শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِىْ اُنْزِلَ فِيْهِ الْقُرْاٰنُ
অর্থ: “পবিত্র রমাদ্বান শরীফ হলেন সেই সম্মানিত মাস, যেই সম্মানিত মাস মুবারকে পবিত্র কুরআন শরীফ (একসাথে) নাযিল করা হয়েছে।” (পবিত্র সূরা বাক্বারাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৮৫)
আর যেসব স্থানে نَزَّلَ শব্দ এসেছেন সেখানে অর্থ হবে ধাপে ধাপে নাযিল করা হয়েছে। যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَاِنَّا لَه لَحٰفِظُونَ
অর্থ: “নিশ্চয়ই আমি পবিত্র কুরআন শরীফ (ধাপে ধাপে বা পর্যায়ক্রমে) নাযিল করেছি এবং আমি নিজেই উনার হিফাযতকারী।” (পবিত্র সূরা হিজর শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৯)
অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি ২৩ বছরে ধাপে ধাপে পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল করেছেন এবং তিনিই এই পবিত্র কুরআন শরীফ উনার হিফাযতকারী। সুবহানাল্লাহ!
এই দুই শব্দদ্বয় উনাদের পার্থক্য সম্পর্কে হযরত ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
اَنَّ التَّنْزِيْلَ مُخْتَصٌّ بِالنُّزُوْلِ عَلٰى سَبِيْلِ التَّدْرِيْجِ وَالْاِنْزَالُ مُخْتَصٌّ بِمَا يَكُوْنُ النُّزُوْلُ فِيْهِ دُفْعَةً وَاحِدَةً وَلِهٰذَا قَالَ اللهُ تَعَالٰى {نَزَّلَ عَلَيْكَ الْكِتٰبَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَاَنْزَلَ التَّوْرٰةَ وَالْإِنْجِيْلَ} [آل عمران: ৩] اِذَا ثَبَتَ هٰذَا فَنَقُوْلُ لَمَّا كَانَ الْمُرَادُ هَاهُنَا مِنْ قَوْلِهِ تَعَالٰى {شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيْهِ الْقُرْاٰنُ} [البقرة: ১৮৫] اُنْزِلَ مِنَ اللَّوْحِ الْمَحْفُوْظِ اِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا
অর্থ: “নিশ্চয়ই اَلتَّنْزِيْلُ (আত তানযীল) শব্দ মুবারক পর্যায়ক্রমে নাযিল হওয়ার সাথে নির্দিষ্ট। আর اَلْاِنْزَالُ (আল ইনযাল) শব্দ মুবারক যা একসাথে নাযিল হয় তার জন্য নির্দিষ্ট। আর একারণেই মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘তিনি আপনার প্রতি সত্যসহ পবিত্র কিতাব মুবারক নাযিল করেছেন। আপনার নিকট যা আছে তার সত্যায়নকারী হিসেবে। আর তিনি (এর পূর্বে) পবিত্র তাওরাত শরীফ ও ইঞ্জীল শরীফও নাযিল করেছেন।’ এটা যখন প্রমাণিত হলো। অতঃপর আমি বলবো, (কেউ যদি প্রশ্ন করে) মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম মুবারক ‘আমি পবিত্র মাহে রমাদ্বান শরীফে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল করেছি।’ এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মর্মার্থ কি? এর জবাব হচ্ছে, (পবিত্র মাহে রমাদ্বান শরীফে) সম্মানিত লাওহে মাহফূয থেকে দুনিয়ার আসমানে পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল করা হয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে রাযী ৫/২৫৪)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুলতান আব্দুল হামিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলদিজ প্রাসাদে ইফতার আয়োজনের স্মৃতিকথা
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৬)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের অনবদ্য তাজদীদ মুবারক-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের হাঁচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৬)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












