পবিত্র মি’রাজ শরীফ অস্বীকার করায় মিশরের সুলতানের সাথে ঘটে যাওয়া অলৌকিক ঘটনা (১)
, ২৪ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৬ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ৩৯ পৌষ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে রাতে পবিত্র বাইতুল্লাহ শরীফ থেকে পবিত্র বাইতুল মুকাদ্দাস শরীফ পর্যন্ত ভ্রমণ করিয়েছেন। অতঃপর মুবারক আনুষ্ঠানিক দীদার দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
فَكَانَ قَابَ قَوْسَیْنِ اَوْ اَدْنَ.
অর্থ: “ধনুকের দুই মাথার যতটুকু ব্যবধান এই পরিমাণ অথবা এর চেয়েও আরো অধিক নিকটবর্তী হলেন।” সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা নজম শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-০৯)
মূলত এটিই হচ্ছে পবিত্র মি’রাজ শরীফ। পবিত্র মি’রাজ শরীফ বিশ্বাস করা হচ্ছে ফরয আর অবিশ্বাস করা কাট্টা কুফরী।
আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি একজন কাফিরের মুখে পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার কথা শুনে বিনা চু-চেরায় বিশ্বাস করলেন। যার ফলশ্রুতিতে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে ‘ছিদ্দীক্ব’ লক্বব মুবারক হাদিয়া করলেন। সুবহানাল্লাহ!
অবিশ্বাসকারীদের জন্য অনেক মশহুর ঘটনা সংঘটিত হয়েছিলো। যেমন- পবিত্র মি’রাজ শরীফ অস্বীকার করার কারণে এক ইহুদী- সে পুরুষ থেকে মহিলায় পরিণত হয়ে অতি অল্প সময়ে ৭টি সন্তানের মা হয়ে যায়। এরুপ অনেক ঘটনা রয়েছে।
কিতাবে বর্ণিত আছে যে, হযরত শেখ শাহাবুদ্দীন সোহরাওয়ার্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি গাউছুল আ’যম সাইয়্যিদুল আউলিয়া হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিশিষ্ট খলীফা। উনি যদিও সোহরাওয়ার্দী তরীক্বার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব; ওইদিক থেকে উনি খেলাফতপ্রাপ্ত আবার হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খলীফা। উনার মা হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুরীদ ছিলেন। তিনি নিঃসন্তান বলে আরজু পেশ করায় হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি দোয়া করলেন; যার ফলে উনার একটি কন্যা সন্তান হলো। তিনি সেই সন্তানটিকে হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে নিয়ে এসে বললেন, হুযূর! নিয়ত করেছিলাম পুত্র সন্তান হলে আপনার খিদমতে পেশ করবো। হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইছি তিনি সেই কন্যা সন্তানটির প্রতি নেক দৃষ্টি দিলেন। মুবারক উনার ফায়েজ-তাওয়াজ্জুহ ও কারামতে বাচ্চা মেয়েটি ছেলে সন্তানে পরিণত হয়ে গেলো। সুবহানাল্লাহ! পরবর্তীতে তিনিই মহান আল্লাহ পাক উনার বুযূর্গ ওলীআল্লাহ হলেন। সুবহানাল্লাহ!
হযরত শেখ শাহাবুদ্দীন সোহরাওয়ার্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি দামেশকে থাকতেন। উনার সময়ের একটি মশহুর ওয়াকিয়া রয়েছে-
ঘটনাটি ৬০০ হিজরী সনের কাছাকাছি সময়ের। মিশরের এক সুলতান ছিলো মুসলমান। কিন্তু সে পবিত্র মি’রাজ শরীফ নিয়ে চু-চেরা ক্বিল-কাল করতো। ওখানে যারা আলেম-উলামা, ছুফি, দরবেশ, আউলিয়ায়ে কিরাম বা তার যারা সভাসদ ছিলো তারা সবাই তাকে বুঝাতো। কিন্তু সে কোনটা মানতো না। তার বক্তব্য; পবিত্র মি’রাজ শরীফ কি করে স্বাভাবিক হতে পারে। নাঊযুবিল্লাহ! হযরত শায়েখ শাহাবুদ্দীন সোহরাওয়ার্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এ কথা জানার পর তাকে এটা বুঝানোর জন্য একদিন সেখানে গেলেন। উনি ঘোষণা দিয়েছেন, উনি গিয়ে যখন পৌঁছলেন তখন মিশরের সুলতানসহ যত বুযূর্গ আউলিয়ায়ে কিরাম, আলিম, উলামা সব আসলেন।
তার উজির, নাযীর সবাই আসলো উনাকে অভ্যর্থনা করে সুলতানের প্রাসাদে নিয়ে গেলো। উনি গিয়ে বসে বললেন, আমি সামান্য সময়ের জন্য এসেছি; আমি বেশিক্ষণ থাকবো না। আমি এসেছি তোমাদেরকে মি’রাজ শরীফের বিষয়টা বুঝানোর জন্য। উনিসহ সকলেই যেখানে বসলেন সে কামরাটা ছিলো অনেক বড়; যার চারদিকে চারটি বড় বড় জানালা ছিলো। হযরত শাহাবুদ্দীন সোহরাওয়ার্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রথমে একটি জানালা খুললেন, জানালা খোলা মাত্র দেখা গেলো দূর থেকে হাজার-হাজার, লক্ষ-লক্ষ সৈন্য আসতেছে অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে মিশর আক্রমণ করার জন্য। এটা সুলতান দেখে চিৎকার করে উঠলো; তার প্রধান সেনাপতির নাম ধরে ডাকতে থাকলো অস্থিরচিত্তে। তার এই প্রতিক্রিয়ায় হযরত শেখ শাহাবুদ্দীন সোহরাওয়ার্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জানালাটি বন্ধ করে দিলেন। এবং বললেন, আপনি ধৈর্যধারণ করেন; অস্থির হবেন না।
এরপর আবার জানালা খুললেন, দেখা গেলো সব স্বাভাবিক; সৈন্য-সামন্ত কিছু নেই। এরপর আরেকদিকে আরেকটা জানালা খুললেন, দেখা গেলো, দূর থেকে অনেক আগুন দাউ দাউ করে ধেয়ে আসছে। যেন মিশর আগুনে জ্বলে-পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। সুলতান ভয়ে আগুন! আগুন! বলে চিৎকার করে উঠলো। অতঃপর তিনি জানালাটি বন্ধ করে পুনরায় খুললেন, দেখা গেলো কোন আগুন নেই; সবকিছু ঠিকই আছে। এরপর তৃতীয় আরেকটি জানালা খোলা হলে দেখা গেলো নীল নদের পানি উত্তালভাবে ফুঁসে ধেয়ে আসছে। যেন সুলতান্র সমস্ত প্রাসাদ-বালাখানাসহ সবকিছু ডুবিয়ে দিবে। সুলতান ভয়ে পানি! পানি! বলে চিৎকার করে উঠলো। হযরত শাহাবুদ্দীন সোহরাওয়ার্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, আপনি অস্থির হবেন না; ধৈর্য ধারণ করেন। উনি জানালাটি বন্ধ করে পুনরায় খুললেন, দেখা গেলো কোথাও কোন পানি নেই; সব স্বাভাবিক।
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ওলীআল্লাহ উনাদের সম্পর্কে বদ আক্বীদা পোষণ এবং উনাদের বিরুদ্ধাচরণের কারণে কঠিন পরিণতি
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৫)
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মসজিদের মধ্যে উচ্চস্বরে কথা বলা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে বা যারা কাফিরদের সাথে সম্পর্ক রাখবে সে দ্বীন ইসলাম থেকে খারিজ হবে
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সুগন্ধে ভরে উঠলো পুরো মাঠ!
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ছহিবে নিসাব প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য পবিত্র কুরবানী দেয়া ওয়াজিব (৪)
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












