পবিত্র মসজিদ নির্মাণের ফাযায়িল-ফযীলত
, ১৮ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৪ রবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২৭ ভাদ্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ ۢبَنـٰى لِلّٰهِ مَسْجِدًا بَنَـى اللهُ لَهٗ قَصْرًا فِـى الْـجَنَّةِ.
অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি ঐ ব্যক্তির জন্য জান্নাতে একটি বালাখানা নির্মাণ করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (ইবনে নাজ্জার, জামি‘উল আহাদীছ ২০/১২৬, জামিউল জাওয়ামি’, ইহইয়াই উলূমিদ্দীন, কানযুল উম্মাল)
পবিত্র হাদীছ শরীফে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ ۢبَنـٰى لِلّٰهِ بَيْتًا يُعْبَدُ اللهُ فِيْهِ مِنْ مَّالٍ حَلالٍ بَنَـى اللهُ لَهٗ بَيْتًا فِـى الْـجَنَّةِ مِنْ دُرٍّ وَّيَاقُوْتٍ.
অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি ইবাদত করার উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য হালাল সম্পদ বা অর্থ দ্বারা একটি মসজিদ নির্মাণ করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি ঐ ব্যক্তির জন্য জান্নাতে মুক্তা ও ইয়াকূতের একটি বালাখানা নির্মাণ করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (আল মু’জামুল কাবীর ২০/৩০, আল মু’জামুল আওসাত্ব ৫/১৯৫, শু‘য়াবুল ঈমান ৪/৩৭৪, মাজমাউয যাওয়াইদ ২/১৬, জামি‘উল আহাদীছ ২০/১২৩, তাফসীরে দুররে মানছূর ৭/২৬৫, তাফসীরে কবীর ৪/১৩ ইত্যাদি)
পবিত্র হাদীছ শরীফে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْـنَ الثَّالِثَةِ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ (سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ) عَنِ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْۢ بَنٰى مَسْجِدًا لَّا يُرِيْدُ بِهٖ رِيَاءً وَّلَا سُـمْعَةً ۢبَنَـى اللهُ لَهٗ بَيْتًا فِـى الْـجَنَّةِ.
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বর্ণনা করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, কেউ যদি মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করে, সেখানে লোকপ্রদর্শন বা সুখ্যাতি লাভের উদ্দেশ্য না থাকে, তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি ঐ ব্যক্তির জন্য জান্নাতে একটি বালাখানা নির্মাণ করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (আল মু’জামুল আওসাত্ব লিত ত্ববারনী ৭/১১১, মাজমাউয যাওয়াইদ ২/৮, তাফসীরে দুররে মানছূর ৪/১৪৩, ইহইয়াই উলূমিদ্দীন, কানযুল উম্মাল ৭/৬৫৫ ইত্যাদী)
পবিত্র হাদীছ শরীফে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ سَـمِعْتُ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ مَنْ زَادَ بَيْتًا فِـى الْمَسْجِدِ فَلَهُ الْـجَنَّةُ.
অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি পবিত্র মসজিদ উনার জায়গা বৃদ্ধি করবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব।” সুবহানাল্লাহ! (ফাদ্বাইলুছ ছাহাবা ৫/১১৮, কানযুল উম্মাল ৭/৬৫৩)
পবিত্র মসজিদ নির্মাণের বেমেছাল ফযীলত সম্পর্কে অনেকগুলো হাদীছ শরীফ উল্লেখ করা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! পবিত্র হাদীছ শরীফে বলা হয়েছে, কেউ যদি মহান আল্লাহ পাক উনার রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক লাভের উদ্দেশ্যে একটি মসজিদ নির্মাণ করে, সেটা ছোট হোক বা বড় হোক, অথবা কবুতরের বাসার মতো কিংবা তার চেয়েও ছোট হোক, মহান আল্লাহ পাক তিনি ঐ ব্যক্তির জন্য জান্নাতে মুক্তা, ইয়াকূত দ্বারা অতি উত্তম এবং অনেক প্রশস্ত একটি বালাখানা নির্মাণ করবেন। সুবহানাল্লাহ! এমনকি, কেউ যদি মসজিদের জায়গা বৃদ্ধি করে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব। সুবহানাল্লাহ!
এ সকল হাদীছ শরীফ উনাদের ব্যাখ্যায় মুজাদ্দিদে আ’যম, রাজারবাগ শরীফ উনার সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “এটা আমভাবে বলা হয়েছে যে, একটি মসজিদ নির্মাণ করলে, জান্নাতে একটি বালাখানা নির্মাণ করা হবে। সুবহানাল্লাহ! প্রকৃতপক্ষে কেউ যদি মহান আল্লাহ পাক উনার রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক লাভের উদ্দেশ্যে একটি মসজিদ নির্মাণ করে, মহান আল্লাহ পাক তিনি ঐ ব্যক্তির জন্য জান্নাতে কোটি কোটি তথা অসংখ্য-অগণিত, বেহিসাব বালাখানা নির্মাণ করবেন, যার কোন হিসাব নেই। সুবহানাল্লাহ! কারণ কিয়ামত পর্যন্ত যত লোক ঐ মসজিদে ইবাদত-বন্দেগী করবে এবং অন্যান্য নেক আমল করবে, এই সমস্ত আমলের ছওয়াব মসজিদ নির্মাণকারী উনার আমলনামায় যেয়ে পৌঁছাবে।” সুবহানাল্লাহ!
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (৯)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৪)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কোন মুসলমানের জন্য কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৬)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
যেখানে প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ক্বদরের রাত্রিতে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম যমীনে নাযিল হয়ে তিন ব্যক্তির উপর খাছ রহমত বর্ষণের দুআ করেন-
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আসমাউর রিজাল, জারাহ ওয়াত তা’দীল, উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












