পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
, ০৬ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৬ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১১ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(পূর্বে প্রকাশিতের পর)
ইশার নামায : এ নামায মোট ১২ রাকায়াত। প্রথমতঃ ৪ রাকায়াত সুন্নতে যায়িদাহ, অতঃপর ৪ রাকায়াত ফরয, অতঃপর ২ রাকায়াত সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ, অতঃপর ২ রাকায়াত নফল অর্থাৎ সুন্নতে যায়িদাহ।
সুন্নতে যায়িদাহ (৪ রাকায়াত) :
নিয়ত-
نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى اَرْبَعَ رَكَعَاتِ صَلٰوةِ الْعِشَاءِ سُنَّةُ رَسُوْلِ اللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا اِلٰـى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَرُ.
উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উছল্লিয়া লিল্লাহি তায়ালা আরবায়া’ রাকা‘য়াতি ছলাতিল ইশায়ি সুন্নাতু রসূলিল্লাহি তায়ালা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।
ফরয নামায (৪ রাকায়াত) :
নিয়ত-
نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى اَرْبَعَ رَكَعَاتِ صَلٰوةِ الْعِشَاءِ فَرْضُ اللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا اِلٰـى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَرُ.
উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উছল্লিয়া লিল্লাহি তায়ালা আরবায়া’ রাকা‘য়াতি ছলাতিল ইশায়ি ফারদ্বুল্লাহি তায়ালা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।
সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ (২ রাকায়াত) :
নিয়ত-
نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلٰوةِ الْعِشَاءِ سُنَّةُ رَسُوْلِ اللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا اِلٰـى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَرُ.
উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উছল্লিয়া লিল্লাহি তায়ালা রাকায়াতাই ছলাতিল ইশায়ি সুন্নাতু রসূলিল্লাহি তায়ালা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।
নফল নামায (২ রাকায়াত) :
নিয়ত-
نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلٰوةِ الْعِشَاءِ سُنَّةُ رَسُوْلِ اللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا اِلٰـى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَرُ.
উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উছল্লিয়া লিল্লাহি তায়ালা রাকায়াতাই ছলাতিল ইশায়ি সুন্নাতু রসূলিল্লাহি তায়ালা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।
বিতির নামায : এ নামায ৩ রাকায়াত, যা পড়া ওয়াজিব। তৎপর আরো ২ রাকায়াত নফল, যা হালকী নফল নামে অভিহিত। এ নামায বসে পড়াই খাছ সুন্নত এবং অধিক ছওয়াবের কাজ।
বিতির নামায (৩ রাকায়াত)
নিয়ত-
نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى ثَلٰثَ رَكَعَاتِ صَلٰوةِ الْوِتْرِ وَاجِبُ اللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا اِلٰـى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَرُ.
উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উছল্লিয়া লিল্লাহি তায়ালা ছালাছা রাকা‘য়াতি ছলাতিল উইত্রি ওয়াজিবুল্লাহি তায়ালা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।
হালকী নফল (২ রাকায়াত) :
নিয়ত-
نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلٰوةِ الْـخَفِيْفَتَيْنِ سُنَّةُ رَسُوْلِ اللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا اِلٰـى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَرُ.
উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উছল্লিয়া লিল্লাহি তায়ালা রাকায়াতাই ছলাতিল খফীফাতাইনি সুন্নাতু রসূলিল্লাহি তায়ালা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।
জুমুয়ার নামায : এ নামায মোট ১২ রাকায়াত পাঠ করা উত্তম। প্রথমে ৪ রাকায়াত ক্বাবলাল জুমুয়াহ নামক সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ, অতঃপর ২ রাকায়াত ফরয, অতঃপর ৪ রাকায়াত বা’দাল জুমুয়াহ উনার সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ, অতঃপর ২ রাকায়াত সুন্নাতুল ওয়াক্ত নামক সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ পাঠ করা। এছাড়া সর্বশেষে ২ রাকায়াত নফল অর্থাৎ সুন্নাতে যায়িদাহ পড়া। (জুমুয়ার নামাযের নিয়তসমূহ যথাস্থানে দেয়া হয়েছে। )
আখিরী যোহর বা ইহ্তিয়াতুয যোহর: এ নামায ৪ রাকায়াত আদায় করা আফযল বা উত্তম। প্রচলিত ভাষায় এ নামাযকে আখিরী যোহরও বলা হয়।
জুমুয়ার নামায ছহীহ হওয়ার ব্যাপারে ইমামগণের ইখতিলাফ বা মতোবিরোধের কারণে জুমুয়া নামায আদায়ের পরে ৪ রাকায়াত আখিরী যোহর বা ইহ্তিয়াতুয যোহর আদায়ের বিধান সাব্যস্ত হয়। এ বিষয়ে সম্মানিত ইমামগণের দু’প্রকার মত পরিলক্ষিত হয়। (১) ওয়াজিব, (২) মুস্তাহাব বা মুস্তাহ্সান।
যে স্থান শহর হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট সন্দেহ রয়েছে, সেখানে জুমুয়া আদায় করা হলে, জুমুয়া নামাযের পর চার রাকায়াত “আখিরী যোহর বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহর” পড়া ওয়াজিব। আর যে স্থান শহর হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই, সেখানে (এক শহরে একাধিক মসজিদে জুমুয়া জায়িয হওয়ার ব্যাপারে ইখতিলাফ বা মতভেদ থাকার কারণে) ইহ্তিয়াত বা সাবধানতার জন্য চার রাকায়াত “আখিরী যোহর বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহর” আদায় করা মুস্তাহাব বা মুস্তাহ্সান।
জানা আবশ্যক যে, ফরয নামায সকলের জন্য আদায় করা ফরয; কিন্তু জুমুয়া উনার নামায মহিলা, মুসাফির, বালক, গোলাম, অন্ধ ও রুগ্ন ইত্যাদি প্রকার লোকের উপর ফরয নয়। কিন্তু যদি তারা জুমুয়া উনার নামায আদায় করে, তবে তাদের ফরয আদায় হয়ে যাবে। অন্যথায় তাদেরকে যুহরের নামায আদায় করতে হবে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (৫)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৬)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
কদমবুছী করা খাছ সুন্নত মুবারক
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত হযরত ইমাম পরিবার আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে অবরোধ ও ফোরাত নদীর পানি পান করতে বাধা প্রদান
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (১০)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাফরমানীমূলক কাজ
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
কারবালার ঘটনার জন্য মালউন ইয়াযিদ লানতুল্লাহি আলাইহি দায়ী এবং সে কাফির (২)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












