পবিত্র নকশবন্দিয়ায়ে মুজাদ্দিদিয়া তরীক্বা এবং প্রাসঙ্গিক পর্যালোচনা
, ২৮ ছফর শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৪ ছালিছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৩ আগস্ট, ২০২৫ খ্রি:, ০৮ ভাদ্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
বর্তমান সময়ে ইলমে তাছাউফের তরীক্বাসমূহে চারখানা তরীক্বা অত্যধিক প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। চারখানা তরীক্বাই কেবল বর্তমান সময়ে হক্বের উপর দায়িম-কায়িম অর্থাৎ ফায়িয-তাওয়াজ্জুহতে ভরপুর রয়েছে। ক্বাদিরিয়া তরীক্বা, চীশতিয়া তরীক্বা, নকশবন্দিয়ায়ে মুজাদ্দিদিয়া তরীক্বা এবং মুহম্মদিয়া তরীক্বা।
তবে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি এই সকল তরীক্বা উনাদের সর্দার তরীকায়ে উম্মীয়্যাহ জারি করেছেন। (তিনি এই তরীকার সবক দিয়ে থাকেন। ) তিনি এই তরীক্বা উনার ইমাম।
গাউছুল আ’যম, হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র ক্বাদিরিয়া তরীক্বা উনার ইমাম।
সুলত্বানুল হিন্দ, হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চীশতি রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র চীশতিয়া তরীক্বা উনার ইমাম।
হযরত খাজা বাহাউদ্দীন নকশবন্দ বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নকশবন্দিয়া তরীক্বা উনার ইমাম।
কাইয়্যূমে আউওয়াল, হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র নকশবন্দিয়ায়ে মুজাদ্দিদিয়া তরীক্বা উনার ইমাম।
শহীদে বালাকোট, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র মুহম্মদিয়া তরীক্বা উনার ইমাম। সুবহানাল্লাহ!
সঙ্গতকারণেই পবিত্র নকশবন্দিয়ায়ে মুজাদ্দিদিয়া তরীক্বা নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা করা অতীব জরুরী।
বর্তমান সময়ে পবিত্র ইলমে তাছাউফ উনার সবক ক্বলব লতীফা হতে শুরু হয়। কিন্তু মুক্বাদ্দিমীন উনাদের সময়ে এরূপ ছিলো না। তখন নফস লতীফা হতে সবক শুরু হতো। ফলশ্রুতিতে দীর্ঘ দিন রিয়াজত-মাশাক্কাত করতে হতো। সুদীর্ঘ সময়ে অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করে নফসানিয়ত দমন করতে হতো। এমন কঠিন পথ অতিক্রম করে কামালিয়ত হাছিল করা এক ধরনের চ্যালেঞ্জস্বরূপ। যার কারণে অনেকেই প্রাথমিক অবস্থাতেই ইলমে তাছাউফ হতে বিচ্যুত হয়ে পড়তো। হযরত খাজা বাহাউদ্দীন নকশবন্দ বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার উসীলায় এমন অবস্থার অবসান ঘটে।
নবম হিজরী শতাব্দীর মুজাদ্দিদ, হযরত বাহাউদ্দীন নকশবন্দ বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একাধারে ১৫ দিন ১৫ রাত সিজদায় পড়ে এমন অবস্থার অবসান চেয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট আরজি করেন। উনার আরজি মুবারকের ফলে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার প্রতি ইলহাম করেন যে, “আপনি পবিত্র ইলমে তাছাউফ উনার সবকের তারতীব ঘুরিয়ে দিন। ” অর্থাৎ নফস লতীফা হতে শুরু হওয়া সবক ক্বলব লতীফা হতে শুরু করুন। সেই থেকে পবিত্র ইলমে তাছাউফ উনার মধ্যে ক্বলব লতীফা হতে সবক শুরু করা হয়।
হযরত খাজা বাহাউদ্দীন নকশবন্দ বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাধ্যমে যেহেতু পবিত্র ইলমে তাছাউফ উনার মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে, সেহেতু উনার তরীক্বা অন্যান্য তরীক্বা হতে বেশ উন্নত হয়।
বলা হয়, ক্বাদিরিয়া ও চীশতিয়া তরীক্বাদ্বয়ের সবক তরতীব মুতাবেক বিলায়েতে ছোগরা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। আর নকশবন্দিয়া তরীক্বার সবক বেলায়েতে কুবরা পর্যন্ত বিস্তৃত।
কাইয়্যুমে আউওয়াল, হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নকশবন্দিয়া তরীক্বায় অনেক নতুন সবক সংযোজন করেন। উনার এই সংযুক্তির কারণে নকশবন্দিয়া তরীক্বার সবক বেলায়েতে কুবরা হতে কামালতে নবুওওয়াত, কামালতে রিসালত, কামালত উলুল আ’যম ও হাক্বীক্বতে ক্বাইউমিয়াত পর্যন্ত উন্নীত হয়। সুবহানাল্লাহ!
অপরদিকে হযরত খাজা বাহাউদ্দীন নকশবন্দ বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার তরীক্বার মাঝে হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার তাজদীদ যেহেতু সংযুক্ত হয়েছে, সেহেতু এ তরীক্বার নামেও পরিবর্তন আসে। আগে ছিলো ‘নকশবন্দিয়া তরীক্বা’। পরবর্তীতে নামকরণ করা হয়েছে- ‘নকশবন্দিয়ায়ে মুজাদ্দিদিয়া তরীক্বা’। আর এভাবেই অতিবাহিত হয়েছে কয়েক শতাব্দী। অতঃপর আবারো হয় এই তরীক্বায় মুবারক তাজদীদ।
যদিও পবিত্র নকশবন্দিয়ায়ে মুজাদ্দিদিয়া তরীক্বা উনার সবকসমূহ ক্বাদিরিয়া-চীশতিয়া তরীক্বা উনাদের সবক থেকে অনেক বেশি। ফলে ক্বাদিরিয়া-চীশতিয়া তরীক্বা উনাদের সবকগুলি শেষ করা সহজ। যা অল্প সময়ে সম্ভব হয়। আর সে তুলনায় নকশবন্দিয়ায়ে মুজাদ্দিদিয়া তরীক্বা উনার সবক বেশি হওয়ার কারণে এই তরীক্বা শেষ করা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি এ তরীক্বা উনার মধ্যে ‘পাছ-আনফাস’ তথা শ্বাস-প্রশ্বাসের যিকির নতুনভাবে সংযুক্ত করেছেন। ফলশ্রুতিতে এ তরীক্বায় তরক্কী লাভ অত্যধিক গতি সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও তিনি আরো অনেকগুলো সবক নতুনভাবে সংযুক্ত করেছেন। যেমন- ‘পবিত্র নিসবতে বাইনা আযওয়াজে মুতাহ্হারাত আলাইহিন্নাস সালাম ওয়ান্ নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ এ সবকখানা এখানেই সীমাবদ্ধ ছিলো। তিনি তা হযরত উম্মাহাতুল মু‘মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম ও অন্যান্য আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সকলের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার এই সংযুক্তির ফলে পবিত্র নকশবন্দিয়ায়ে মুজাদ্দিদিয়া তরীক্বা কামালতে নবুওওয়াত, কামালতে রিসালাত, কামালতে উলিল আ’যম ও হাক্বীক্বত ক্বাইউমিয়াত হয়ে পবিত্র ইলমে তাছাউফ উনার সর্বোচ্চ মাক্বামে উন্নীত হয়েছে। আর এ বিষয়গুলো ঐতিহ্যবাহী ‘মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ গবেষণা কেন্দ্র’ হতে প্রকাশিত ‘পবিত্র নকশবন্দিয়ায়ে মুজাদ্দিদিয়া তরীক্বা উনার ওযীফা শরীফ’ নামক কিতাব দেখলে খুব সহজেই অনুধাবন করা যায়। সুবহানাল্লাহ!
মূল কথা হচ্ছে, মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মুবারক উসীলায় পবিত্র নকশবন্দিয়ায়ে মুজাদ্দিদিয়া তরীক্বা পূর্ণাঙ্গ হয়েছে। অনুরূপভাবে ক্বাদিরিয়া-চীশতিয়া তরীক্বাও ফায়েয-তাওয়াজ্জুহ সমৃদ্ধ হয়েছে। কাজেই সকলের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার নিকট বাইয়াত হয়ে উনার প্রদত্ত মুবারক সবক অনুশীলন করে কামালিয়ত হাছিল করার কোশেশ করা।
-আহমদ নুছাইর।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
শ্রেষ্ঠ উসমানীয় সুলতান মুরাদ আল রাবির ন্যায়পরায়নতা এবং এক রাতের ঘটনা
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত তিনটি বিষয়
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহান আল্লাহ পাক উনাকে যদি কেউ হাক্বীক্বী ভয় করতে চায়, তার তিনটি দায়িত্ব
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (৯)
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












