পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে হালাল ও হারাম উভয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে (১৪)
, ২ রা জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ০৭ সাবি’, ১৩৯২ শামসী সন , ০৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ খ্রি:, ২০ অগ্রহায়ণ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
প্রসঙ্গ: বেপর্দা হওয়া হারাম (১)
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের নির্দেশ মুবারক মুতাবিক সমস্ত পুরুষ ও মহিলা সকলের জন্যই পর্দা করা ফরয। বেপর্দার কারণেই মহিলারা আজ মান, সম্মান, ইজ্জত হারাচ্ছে ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে এবং সমাজে সৃষ্টি হচ্ছে নিত্য-নতুন ফিতনা-ফাসাদ ও বিশৃঙ্খলা।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﻗُﻞْ ﻟِﺄَﺯْﻭَﺍﺟِﻚَ ﻭَﺑَﻨَﺎﺗِﻚَ ﻭَﻧِﺴَﺎﺀِ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ﻳُﺪْﻧِﻴﻦَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻦَّ ﻣِﻦْ ﺟَﻠَﺎﺑِﻴﺒِﻬِﻦَّ ﺫَﻟِﻚَ ﺃَﺩْﻧَﻰ ﺃَﻥْ ﻳُﻌْﺮَﻓْﻦَ ﻓَﻠَﺎ ﻳُﺆْﺫَﻳْﻦَ -
হে নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে এবং আপনার বানাত আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে এবং মু’মিনদের আহলিয়াগণকে বলে দিন- উনারা যেন উনাদের চাদরের একটা অংশ চেহারা ও বুকের উপর টেনে দেন অর্থাৎ পর্দা করেন। এটা হচ্ছে- উনাদের সম্ভ্রান্ত হওয়ার পরিচয় এবং উনাদের বিরক্ত না করার মাধ্যম, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি দয়ালু ও ক্ষমাশীল। ” (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৯)
মূলত, বেপর্দার কারণেই মহিলারা আজ মান, সম্মান, ইজ্জত হারাচ্ছে ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে এবং সমাজে সৃষ্টি হচ্ছে নিত্য-নতুন ফিতনা-ফাসাদ ও বিশৃঙ্খলা। নাউযুবিল্লাহ!
‘ইসলাম’ শব্দের অর্থ হচ্ছে শান্তি। সম্মানিত ইসলামই পেরেছেন এবং পারেন যমীনে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে। সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত ইসলাম উনার বাইরে কোথাও শান্তি পাওয়া যায়নি এবং যাবেও না। কাজেই শরয়ী পর্দাই শান্তিস্থাপন করতে পারবেন। সম্মানিত শরয়ী পর্দার অভাবেই আজ সবদিকেই শুধু অশান্তিআর অস্থিরতা। বিশেষ করে মহিলাঘটিত ফিতনায় জর্জরিত সমাজ। মহিলারা আজ সর্বত্র লাঞ্ছিত, অপমানিত ও অবহেলিত হচ্ছে এবং মান, সম্মান, ইজ্জত হারাচ্ছে। নাঊযুবিল্লাহ! এর সবগুলোর পিছনে কারণ একটাই; তা হলো- সম্মানিত দ্বীন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাওয়া; অর্থাৎ সম্মানিত শরয়ী পর্দার বিধান মেনে না চলা। কারণ সম্মানিত ইসলামী বিধান অর্থাৎ সম্মানিত শরয়ী পর্দা মহিলাদের সম্মান, ব্যক্তিত্ব ও পবিত্রতার প্রতীক। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার “পবিত্র সূরা আন নিসা শরীফ, পবিত্র সূরা নূর শরীফ ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ” উনাদের মধ্যে পর্দা করার ব্যাপারে কঠোর আদেশ-নির্দেশ মুবারক করা হয়েছে এবং পর্দাকে মহিলাদের পবিত্রতা ও সম্মানের কারণ বলা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বেপর্দাকে কবীরা গুনাহ, লা’নত ও ফিতনা-ফাসাদ বা বিশৃঙ্খলা ও অশান্তির মূল কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “তোমরা দুনিয়া ও বেগানা মহিলা থেকে সতর্ক ও সাবধান থাকো। কেননা বনী ইসরাইলে সর্বপ্রথম যে ফিতনা (খুন) হয়েছে তা মহিলার কারণেই। ” নাউযুবিল্লাহ!
কাজেই বর্তমানেও সমাজে যে অশান্তি, অরাজকতা, ফিতনা-ফাসাদ, মারামারি, খুন-খারাবী, অশ্লীলতা ইত্যাদির মূলেও রয়েছে বেপর্দা নারী। নাউযুবিল্লাহ! সুতরাং শুধুমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত বিধান শরয়ী পর্দা পালনের মাধ্যমেই এর থেকে বেঁচে থাকা যেমন সম্ভব, তেমন এ সমস্ত মানহানীকর ফিতনা-ফাসাদ বন্ধ করাও সম্ভব। সুবহানাল্লাহ!
অন্যথায় মানবরচিত কোনো আইনের মাধ্যমে এ সমস্ত মানহানীকর ফিতনা-ফাসাদ থেকে বেঁচে থাকা যেমন কস্মিনকালে সম্ভব নয়, তেমন তা বন্ধ করাও কস্মিনকালে সম্ভব নয়।
"পর্দা করা ফরজ আর বেপর্দা হওয়া হারাম"
এ বিষয়ে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে নিম্নে আরও বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-
খালিক্ব সালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى
অর্থ: “তোমরা গৃহে অবস্থান করবে। আইয়ামে জাহিলিয়াতের ন্যায় সৌন্দর্য প্রদর্শন করতঃ বাইরে বের হবে না। ” (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৩)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে-
عن الحسن مر سلا قال بلغنى ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لعن الله الناظر والمنطور اليه
অর্থ: “বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মুরসাল সূত্রে বর্ণনা করেন, আমার নিকট বিশ্বস্তসূত্রে পৌঁছেছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি দেখে এবং যে ব্যক্তি দেখায় তাদের উভয়ের উপর মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত (অভিসম্পাত) বর্ষিত হয়। ” নাঊযুবিল্লাহ!
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত আছে-
عن حضرة ابن مسعود رضى الله تعالى عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم قال المرأة عورة فاذا خرجت استشرفها الشيطان
অর্থ: “ফক্বীহুল উম্মত হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই নারীগণ হচ্ছেন আওরত বা আবরণীয়। কাজেই, যখন সে বাড়ির বাইরে বের হয় শয়তান (তার দ্বারা গুনাহের কাজ করানোর জন্য) উঁকিঝুঁকি দিতে থাকে। ” (তিরমিযী শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে-
عن حضرة عمر عليه السلام عن النبى صلى الله عليه وسلم لا يخلون رجل بامرأة الا ثاثها الشيطان
অর্থ: “হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, (মহান আল্লাহ পাক উনার কসম) কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে একাকী হলেই শয়তান এসে তাদের তৃতীয় ব্যক্তি হয় তথা তাদের উভয়কেই গুনাহের কাজে লিপ্ত হওয়ার জন্য ওয়াসওয়াসা দিতে থাকে। ” (তিরমিযী শরীফ)
-আল্লামা নাজমুল হুদা ফরাজী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
কোন মুসলমানের জন্য কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৬)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
যেখানে প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ক্বদরের রাত্রিতে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম যমীনে নাযিল হয়ে তিন ব্যক্তির উপর খাছ রহমত বর্ষণের দুআ করেন-
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আসমাউর রিজাল, জারাহ ওয়াত তা’দীল, উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
দুনিয়ার তাছীর বা ক্রিয়া থেকে প্রত্যেক ব্যক্তির সতর্ক থাকা আবশ্যক
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রোযা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












