পবিত্র ক্বাবলাল জুমুআহ্, বা’দাল জুমুআহ্ এবং সুন্নাতুল ওয়াক্ত নামায উনার শরঈ আহকাম (৫)
, ১৭ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১০ সাবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
পবিত্র সুন্নাতুল ওয়াক্ত নামায
(পূর্বে প্রকাশিতের পর)
উক্ত কিতাবে পবিত্র জুমু‘আর নামাযসমূহের বর্ণনা এভাবে দেয়া হয়েছে,
اَنْ يُّصَلِّىَ اَلسُّنَّةَ أَرْبَعًا ثُمَّ الْجُمُعَةَ ثُمَّ يَنْوِىْ أَرْبَعًا سُنَّةَ الْجُمُعَةِ ثُمَّ يُصَلِّىَ الظُّهْرَ ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ سُنَّةَ الْوَقْتِ فَهٰذَا هُوَ الصَّحِيْحُ الْمُخْتَارُ
অর্থ: “প্রথমে (ছলাতুল জুমুআহ আদায়ের পূর্বে) ৪ রাকাত সুন্নাত পড়তে হবে। এরপর পবিত্র ছলাতুল জুমু‘আহ শরীফ আদায় করতে হবে। তারপর ৪ রাকাত সুন্নাতুল জুমু‘আহ অর্থাৎ বা’দাল জুমু‘আহর নিয়্যত করবে, অতঃপর আখেরী যোহর আদায় করবে (এটা মুস্তাহাব, সব স্থানে আদায় করতে হয়না), সর্বশেষ ২ রাকাত পবিত্র সুন্নাতুল ওয়াক্ত নামায আদায় করবে। এটাই হচ্ছে গ্রহনযোগ্য ছহীহ পদ্ধতি। ” (বাহরুর রায়েক্ব ৫/১৩৭)
উল্লেখ্য পবিত্র জুমুআহর দিন ৪ রাকাত আখেরী যোহর নামায পড়া মুস্তাহাব। তাই এই নামায ২ রাকাত সুন্নাতুল ওয়াক্ত উনার পরে পড়াই উত্তম।
উপরোক্ত দলীলভিত্তিক আলোচনা থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, পবিত্র জুমুআর দিন ৪ রাকাত ক্বাবলাল জুমুআহ এবং ৪ রাকাত বা’দাল জুমুআহ নামায সরাসরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকেই প্রমাণিত। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের আমল মুবারকও এটাই। পবিত্র জুমুআর দিন নির্দিষ্টভাবে ৪ রাকাত ক্বাবলাল জুমুআহ, ৪ রাকাত বা’দাল জুমুআহ্ এবং এরপর ২ রাকাত সুন্নাতুল ওয়াক্ত নামায পড়া সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্। আর কেউ যদি উল্লেখিত নামায সমূহ তরক করে তাহলে সে ওয়াজিব তরক করার গুনাহে গুনাহগার হবে। না‘ঊযুবিল্লাহ! এ প্রসঙ্গে কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন,
فَاِنَّ السُّنَّةَ الْمُؤَكَّدَةَ بِمَنْزِلَةِ الْوَاجِبِ فِى الْاِثْمِ بِالتَّرْكِ
অর্থ: “নিশ্চয়ই সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্ তরক করা গুনাহের ক্ষেত্রে ওয়াজিব তরক করার স্থলাভিষিক্ত। অর্থাৎ সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্ ছেড়ে দিলে ওয়াজিব ছেড়ে দেয়ার সমপরিমাণ গুনাহগার হবে। ” (বাহরুর রায়েক্ব ৪/১৯১)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,
كَانَتْ اَلسُّنَّةُ الْمُؤَكَّدَةُ قَرِيْبَةً مِّنَ الْوَاجِبِ فِىْ لُحُوْقِ الْاِثْمِ كَمَا فِى الْبَحْرِ وَيَسْتَوْجِبُ تَارِكُهَا التَّضْلِيْلَ وَاللَّوْمَ
অর্থ: “গুনাহের ক্ষেত্রে সুন্নাতে মুয়াক্কদাহ্ ওয়াজিবের নিকটবর্তী। যেমনটা ‘বাহরুর রায়েক্ব’ কিতাবে বর্ণিত রয়েছে। আর সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্ তরককারী গোমরাহী ও ভৎসনার উপযুক্ত। ” (রদ্দুল মুহতার ৫/১৩৯, দুররুল মুখতার ২/১২)
কাজেই সম্মানিত শরীয়ত উনার ফতওয়া হচ্ছে, পবিত্র জুমুআহর দিন নির্দিষ্টভাবে ৪ রাকাত ক্বাবলাল জুমুআহ্, ৪ রাকাত বা’দাল জুমুআহ্ এবং ২ রাকাত সুন্নাতুল ওয়াক্ত নামায আদায় করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ উনার অন্তর্ভুক্ত। কেউ যদি এই নামায ছেড়ে দেয় তাহলে সে ওয়াজিব তরক করার গুনাহে গুনাহগার হবে। আর কেউ যদি উক্ত নামাযসমূহ উনাদেরকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে, ইহানত করে তাহলে সে ঈমানহারা হবে, কাট্টা কাফির হবে। নাঊযুবিল্লাহ!
কেননা উছূলের কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন, اِهَانَةُ السُّنَّةِ كُفْرٌ অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নাত মুবারক উনাকে ইহানত বা অবজ্ঞা করা কুফরী। আর সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার ফতওয়া হচ্ছে, যে ব্যক্তি কুফরী করে সে মুরতাদ হয়ে যায়। আর মুরতাদের শরঈ হুকুম হচ্ছে, বিবাহ করলে স্ত্রী তালাক্ব হয়ে যাবে, হজ্জ করলে বাতিল হয়ে যাবে, তার জিন্দেগীর সমস্ত আমল বরবাদ হয়ে যাবে। তাকে তওবার জন্য ৩ দিন সময় দেয়া হবে, যদি তওবা না করে তাহলে তার শরঈ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদন্ড যদি ইসলামী খিলাফত থাকে। তার জানাযা, কাফন-দাফন কোনো কিছুই করা যাবেনা। মুসলমানদের কবরস্থানেও তাকে দাফন করা যাবেনা। বরং কুকুর-শৃগালের ন্যায় তাকে মাটিতে পুতে রাখতে হবে। কেউ যদি তার জানাযা, কাফন-দাফন করে তার উপরও একই হুকুম বর্তাবে। না‘ঊযুবিল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে সকলকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নাত মুবারক উনার পরিপূর্ণ অনুসরণ করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
দলীলসমূহ: ১. মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, ২. তিরমিযী শরীফ, ৩. আল মু’জামুল আওসাত্ব লিত ত্ববারানী, ৪. আল মু’জামুল কাবীর লিত ত্ববারানী, ৫. আল মু’জামু ইবনিল আরাবী, ৬. কানযুল উম্মাল, ৭. জামিউল কাবীর লিস সূয়ূতী, ৮. মাজমাউয যাওয়ায়িদ, ৯. মুছান্নাফে আব্দির রায্যাক, ১০. মুছান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ, ১১. শরহুস সুন্নাহ, ১২. মাউসূয়াতু আত্বরাফিল হাদীছ, ১৩. নছবুর র-ইয়াহ লি আহাদীছিল হিদায়াহ, ১৪. লিসানুল মীযান, ১৫. শরহু মুশকিলিল আছার, ১৬. শরহু মা‘য়ানিইল আছার, ১৭. আল ইমাউ ইলা যাওয়ায়িদিল হাদীছ, ১৮. আনীসুস সারী, ১৯. উমদাতুল ক্বারী, ২০. তুহফাতুল আহওয়াজী, ২১. শরহু আবী দাঊদ লিল আইনী, ২২. আওনুল মা’বূদ, ২৩. মুখতাছারুল আহকাম, ২৪. দুররুল মুখতার, ২৫. রদ্দুল মুহতার, ২৬. বাহরুর রায়েক্ব , ২৭. মারাক্বিউল ফালাহ ২৮. ফতওয়ায়ে দেওবন্দ ইত্যাদি।
বি: দ্র: এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ ৮ম-১০ম এবং ৯৭তম-১০০তম সংখ্যায় প্রকাশিত ফতওয়া পাঠ করুন।
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুলতান আব্দুল হামিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলদিজ প্রাসাদে ইফতার আয়োজনের স্মৃতিকথা
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৬)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের অনবদ্য তাজদীদ মুবারক-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের হাঁচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৬)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












