পবিত্র ক্বাবলাল জুমুআহ্, বা’দাল জুমুআহ্ এবং সুন্নাতুল ওয়াক্ত নামায উনার শরঈ আহকাম (৩)
, ০৩ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৭ সাদিস, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৫ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ১০ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম
উনাদের আমল মুবারক
(পূর্বে প্রকাশিতের পর)
শুধু এতটুকুই নয়; হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাস‘ঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি অন্যদেরকেও ৪ রাকাত ‘ক্বাবলাল জুমু‘আহ এবং ৪ রাকাত বা’দাল জুমু‘আহ’ নামায পড়ার জন্য আদেশ মুবারকও করতেন।
যেমন বর্ণিত রয়েছেন,
عَنْ حَضْرَتْ أَبِىْ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ السُّلَمِىِّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ كَانَ حَضْرَتْ اِبْنُ مَسْعُوْدٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ يَأْمُرُنَا أَنْ نُّصَلِّىَ قَبْلَ الْجُمُعَةِ أَرْبَعًا وَبَعْدَهَا أَرْبَعًا
অর্থ: “বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত আবূ আব্দুর রহমান আস সুলামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ফক্বীহুল উম্মত হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাস‘ঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি আমাদেরকে পবিত্র জুমু’আহর নামাযের পূর্বে ৪ রাকাত এবং পরে ৪ রাকাত নামায পড়ার নির্দেশ দিতেন। ” সুবহানাল্লাহ! (মুসান্নাফে আব্দির রায্যাক ৩/২৪৭, আল মু’জামুল কাবীর লিত্ব তবারানী ৮/২৫১)
হযরত ইমাম ইবরাহীম নাখায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
كَانُوْا يُصَلُّوْنَ قَبْلَهَا أَرْبَعًا وَبَعْدَهَا أَرْبَعًا
অর্থ: “হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা ক্বাবলাল জুমু‘আহ ৪ রাকাত এবং বা’দাল জুমু‘আহ ৪ রাকাত পড়তেন। ” সুবহানাল্লাহ! (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ্ ১/৪৬৩)
উল্লেখিত আলোচনা থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের আমল মুবারকও ছিলো উনারা ‘ক্বাবলাল জুমু‘আহ ৪ রাকাত এবং বা’দাল জুমু‘আহ’ ৪ রাকাত পড়তেন। সুবহানাল্লাহ!
আর মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
فَاِنْ اٰمَنُوْا بِمِثْلِ مَا اٰمَنْتُمْ بِه فَقَدِ اهْتَدَوْا ۖ
অর্থ: “যদি তোমরা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের ন্যায় ঈমান আনতে পারো, তাহলে তোমরা অবশ্যই হিদায়েত লাভ করবে। ” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা বাক্বারাহ্ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩৭)
পবিত্র ক্বাবলাল জুমু‘আহ এবং বা’দাল জুমু‘আহ নামায
৪ রাকাত পড়ার হুকুম
‘দুররুল মুখতার’ কিতাব প্রণেতা হযরত আলাউদ্দীন হাছকাফী হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ১০৮৮ হিজরী শরীফ) তিনি ৪ রাকাত পবিত্র সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ নামাযের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন,
وَسُنَّ مُؤَكَّدًا (أَرْبَعٌ قَبْلَ الظُّهْرِ وَ) أَرْبَعٌ قَبْلَ (الْجُمُعَةِ وَ) أَرْبَعٌ (بَعْدَهَا بِتَسْلِيْمَةٍ)
অর্থ: “আর সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ নামায হচ্ছে- পবিত্র যোহরের নামাযের পূর্বে ৪ রাকাত, পবিত্র জুমু‘আহর নামাযের পূর্বে ৪ রাকাত এবং পবিত্র জুমু‘আহর নামাযের পরে এক সালামে ৪ রাকাত। ” (রদ্দুল মুহতার ৫/১৩৮, দুররুল মুখতার ২/১২)
‘মারাকিউল ফালাহ’ গ্রন্থকার পবিত্র সুন্নাতুল মুয়াক্কাদাহ্ নামাযের বর্ণনা করতে যেয়ে বলেন,
وَمِنْهَا أَرْبَعٌ (قَبْلَ الْجُمُعَةِ) لِأَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَرْكَعُ قَبْلَ الْجُمُعَةِ أَرْبَعًا لَا يَفْصِلُ فِىْ شَىْءٍ مِّنْهُنَّ (وَ) مِنْهَا أَرْبَعٌ (بَعْدَهَا) لِأَنَّ النَّبِىّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ كَانَ يُصَلِّىْ بَعْدَ الْجُمُعَةِ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ يُسَلِّمُ فِىْ اٰخِرِهِنَّ
অর্থ: “আর তন্ধধ্যে ৪ রাকাত পবিত্র ‘ক্বাবলাল জুমু‘য়া’হ্ নামায। কেননা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (পবিত্র জুমুআ’হর দিন) পবিত্র ছলাতুল জুমু‘আহ্ আদায় করার পূর্বে পৃথক না হয়ে অর্থাৎ এক সালামে ৪ রাকাত সম্মানিত নামায মুবারক আদায় করতেন। আর তারমধ্যে ৪ রাকাত পবিত্র বা’দাল জুমু‘আহ নামায। কেননা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র ছলাতুল জুমু‘আহ আদায় করার পরে ৪ রাকাত সম্মানিত নামায মুবারক আদায় করতেন। যেখানে শেষ রাকাতে সালাম ফিরাতেন অর্থাৎ এক সালামে ৪ রাকা‘য়াত সম্মানিত নামায মুবারক আদায় করতেন। ” সুবহানাল্লাহ! (মারাক্বিউল ফালাহ ১৬৮ নং পৃ:)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছেন,
وَحُكْمُ الْأَرْبَعِ قَبْلَ الْجُمُعَةِ كَالْأَرْبَعِ قَبْلَ الظُّهْرِ
অর্থ: “আর ৪ রাকাত পবিত্র ‘ক্বাবলাল জুমু‘য়াহ্ নামায উনার হুকুম হচ্ছে, পবিত্র যোহর নামায উনার পূর্বের ৪ রাকাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্ উনার অনুরুপ। ” (বাহরুর রায়েক্ব ৪/৩৫০)
অর্থাৎ পবিত্র ছলাতুল জুমু‘আহ্ উনার পূর্বে ৪ রাকাত ক্বাবলাল জুমু‘আহ্ ও পরে ৪ রাকাত বা’দাল জুমু‘আহ নামায আদায় করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্। সুবহানাল্লাহ!
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুলতান আব্দুল হামিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলদিজ প্রাসাদে ইফতার আয়োজনের স্মৃতিকথা
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৬)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের অনবদ্য তাজদীদ মুবারক-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের হাঁচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৬)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












