ফতওয়া:
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (৬)
, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) ফতওয়া বিভাগ
اَلْمُقَدِّمَةُ (আল মুক্বদ্দিমাহ্)
ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪২ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১০ই শাওওয়াল শরীফ লাইলাতুল আহাদ শরীফ (রোববার রাতে) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, “গত ইয়াওমুল জুমু‘আহ্ শরীফ। জুমু‘আর আগে হঠাৎ আমি দেখলাম- হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের পর সবচেয়ে বড় ওলীআল্লাহ হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি এসেছেন। কী ব্যাপার? কিছু খিদমত করতে এসেছেন। হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি বললেন যে, হযরত বড় পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি যে খিদমত করতে আসেন এখানে, আমিও কিছু খিদমত করতে এসেছি। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)
হযরত বড় পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি খিদমত করতে আসেন, আমিও এসেছি। এখন খিদমত বলতে যা বুঝায়। আমি বলেছি- ‘ঠিক আছে, খিদমত করুন’।” (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)
ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৫ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২৭শে রজবুল হারাম শরীফ লাইলাতুল জুমু‘আহ্ শরীফ (খমীস দিবাগত জুমুয়াবার রাত) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, “ইদানিং কালে দেখা গেছে অতীতের অনেক আওলিয়ায়ে কিরাম, চিনা-অচিনা, জানা-অজানা উনারা অনেকে আসেন, ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)
কয়েকদিন আগে হযরত আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিছ দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এসেছিলেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) উনি কয়েক দিন ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করেছেন। আমি উনাকে জিজ্ঞাসা করলাম- উনি তো অনেক বড় ওলীআল্লাহ, বুযূর্গ, আলেম। ক্বাদরিয়াহ্ খান্দানের খলীফা আবার হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারও খলীফা উনি। উনি প্রতিদিন বাদ ইশা নামায পড়ে চোখের পলকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছোহবত মুবারক-এ চলে যেতেন এবং ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করতেন।
উনি কয়েকদিন থাকলেন। একদিন উনাকে ডাকলাম, এদিকে আসেন। উনি কাছে আসলেন। উনাকে একটা মাসয়ালা জিজ্ঞাসা করলাম আমি। উনি তো বড় মুফতী, মুহাদ্দিছ, অনেক কিছু, আলেম, ফক্বীহ, ওলীআল্লাহ। আমি বললাম যে, দেখেন- আমরা ফতওয়া দেই, কি ফতওয়া দেই? আমরা ফতওয়া দেই বর্তমানে হজ্জ করা নাজায়িয। আপনি তো মক্কা শরীফ-এ ছিলেন, মদীনা শরীফ-এ ছিলেন। তখন তো আর ক্যামেরা ছিলো না। বললেন- হ্যাঁ। স্বীকার করলেন উনি চুপ করে। অত্যন্ত আদবের সাথেই উনি সম্মতি প্রকাশ করেছেন। যাই হোক। আমি বললাম যে, এই ব্যাপারে আপনি কি বলেন? আমরা তো ফতওয়া দেই হজ্জ করা এখন জায়েয নেই, হারাম। কারণ হাজার হাজার ছবি তুলতে হয়। ওখানে কুফরী কাজ করতে হয়। বেপর্দা হতে হয়। তখন উনি চুপ থাকলেন। এরপর অত্যন্ত আদবের সাথে উনি বললেন, এটা সম্মতি প্রকাশ করলেন যে, হ্যাঁ; এই ফতওয়াটাই সঠিক এবং আপনার ফতওয়ার উপরে কারো ফতওয়া দেওয়ার কোনো অধিকার নেই। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) আপনি যেই ফতওয়া দিয়েছেন এটাই সঠিক। এর উপরে কারো ফতওয়া দেওয়ার কোনো অধিকার নেই। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)
বুঝতে পারলে? যা শুনবে সেটা শুনে আমল করবে। এটা মনে রাখবে।
তোমরা বুঝতে পারো না; কিন্তু অনেকে নফসের কারণে অনেক কিছু করে। এটা কিন্তু মূল বিষয় না। নফসকে নিয়ন্ত্রণ করাই হচ্ছে মূল বিষয়। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,
اَلْكَـيِّسُ مَنْ دَانَ نَـفْسَهٗ وَعَمِلَ لِمَا بَـعْدَ الْمَوْتِ وَالْعَاجِزُ مَنْ اَتْـبَعَ نَـفْسَهٗ هَوَاهَا وَتَـمَنّٰـى عَلَى اللهِ
‘জ্ঞানী ওই ব্যক্তি যে নফসকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং পরকালের আমল করে। আর নির্বোধ, মূর্খ, নাদান ঐ ব্যক্তি যে নফসের পায়রবী করে আর মনে করে অনেক কিছু হাছিল করবে।’ না‘ঊযুবিল্লাহ!
মনে রাখতে হবে।”
কাজেই, ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি যেই ফতওয়া মুবারক দিয়েছেন, এটাই চূড়ান্ত ফতওয়া মুবারক- ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক করা সমস্ত উম্মতের জন্য ফরয।’ তাই, সমস্ত উম্মতের জন্য ফরযে আইন হচ্ছে, দায়িমীভাবে প্রতি বছর অনন্তকাল ধরে বংশ পরম্পরায় একজনের পর আরেকজন অর্থাৎ ইন্তেকালের পর তার পরবর্তী বংশধরগণ আবাদুল আবাদ অর্থাৎ ক্বিয়ামত পর্যন্ত সম্মানিত ফরয কুরবানী করে যেতেই থাকতে হবে, অর্থাৎ আবাদুল-আবাদ জারী রাখবে ও রাখতে হবে। কোনো মতেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক করা বন্ধ রাখতে পারবে না বা বন্ধ করতে পারবে না। সুবহানাল্লাহ! এমনকি যাদের সামর্থ নেই, তাদের জন্য দায়িত্ব হচ্ছে- ১০ জন, ২০ জন, ৩০ জন, ৪০ জন, ৫০ জন মিলে হলেও অথবা প্রয়োজন হলে ঋণ করে হলেও উনার পক্ষ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া। সুবহানাল্লাহ!
যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে আমাদের সবাইকে এই সম্মানিত ফতওয়া মুবারক উনার উপর আমল করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-মুহাদ্দিছ মুহম্মদ আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (৭)
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (৬)
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (৫)
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ফতওয়া: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (৪)
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৫৮)
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশকারী, কটাক্ষকারী, অবমাননাকারীদেরকে শরঈ শাস্তি প্রদান করা ওয়াজিব
১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (৩)
১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (১)
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (১)
১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৫৭)
১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৫৬)
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (১২)
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












