ফতওয়া
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৫৬)
, ২৪ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৩ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ৩০ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) ফতওয়া বিভাগ
(৩৫৪)
قوله تعالى: {يُؤْتِي الْحِكْمَةَ مَنْ يَشَاءُ} قال السدي: هي النبوة، وقال ابن عباس رضي الله عنهما وقتادة: علم القرآن ناسخه ومنسوخه ومحكمه ومتشابهه ومقدمه ومؤخره وحلاله وحرامه وأمثاله، وقال الضحاك: القرآن والفهم فيه، وقال: في القرآن مائة وتسع آيات ناسخة ومنسوخة وألف آية حلال وحرام، وقال مجاهد: هي القرآن والعلم والفقه، وروى ابن أبي نجيح عنه: الإصابة في القول والفعل، وقال إبراهيم النخعي: معرفة معاني الأشياء وفهمها.{وَمَنْ يُؤْتَ الْحِكْمَةَ} قال: الورع في دين الله {فَقَدْ أُوتِيَ خَيْرًا كَثِيرًا وَمَا يَذَّكَّرُ} يتعظ {إِلا أُولُو الألْبَابِ} ذو العقول.
অর্থ: মহান আল্লাহ তায়ালা উনার কালাম: (মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি যাঁকে ইচ্ছা হিকমত বা বিশেষ জ্ঞান দান করেন।) হযরত সুদ্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: হিকমত হলো নুবুওওয়াত। হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত কাতাদাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা বলেন: হিকমত হলো- পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে উনার নাসিখ, মানসূখ, আহকাম, মুতাশাবিহ, মুকাদ্দাম, মুয়াখখার, হালাল, হারাম ও দৃষ্টান্তসমূহ। হযরত দ্বহহাক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, হিকমত হলো- পবিত্র কুরআন শরীফ ও উনার সংশ্লিষ্ঠ বিষয়সমূহ। তিনি বলেন, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ১০৯ খানা পবিত্র আয়াত শরীফ নাসেখ-মানসূখ আর এক হাজার আয়াত হালাল ও হারাম বিষয়ক।
হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হিকমত হলো- পবিত্র কুরআন শরীফ, ইলিম ও ফিকহ। হযরত ইবনু আবী নুজাইহ বর্ণনা করেন, কথা ও কাজের যথার্থতাই হলো হিকমত। হযরত ইবরাহীম নাখয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, বিষয়সমূহের মর্মার্থ ও সঠিক বুঝ সম্পর্কে উপলব্ধি করাই হিকমত। (আর যাঁকে হিকমত দান করা হয়েছে,) মহান আল্লাহ তায়ালা উনার দ্বীন উনার ব্যাপারে পরহেজগারিতাই হলো হিকমত। (তাকে অনেক কল্যাণ দান করা হয়েছে। জ্ঞানবানগণই উপদেশ গ্রহণ করেন।) মানুষদের মধ্যে আকলমান্দরাই উপদেশ গ্রহণ করে থাকেন। (মায়ালিমুত তানযীল অর্থাৎ তাফসীরুল বাগবী সূরা বাকারা শরীফধ: ২৬৯, জমাকারী: মুহইস সুন্নাহ আবূ মুহম্মদ হুসাঈন বিন মাসঊদ বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ওফাত: ৫১০ হিজরী)
(৩৫৫)
{وَمَا يَذَّكَّرُ إِلاَّ أُوْلُواْ الألباب} وما يتعظ بمواعظ الله إلا ذو العقول السليمة أو العلماء العمال.
অর্থ: (জ্ঞানবানগণই উপদেশ গ্রহণ করেন।) মানুষদের মধ্যে আকলমান্দরাই উপদেশ গ্রহণ করে থাকেন। উনারা হলেন পরিশুদ্ধ আকলধারী এবং ইখলাছের সাথে আমলকারী উলামায়ে কিরাম। (মাদারিকুত তানযীল ওয়া হাকায়িকুত তা’বীল, সূরা বাকারা শরীফ: ২৬৯, লেখক: ইমাম হযরত আবুল বারাকাত আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন মাহমূত নাসাফী হানাফী মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ওফাত: ৭১০ হিজরী)
পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর-৮
لَا يُكَلِّفُ اللهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا.
অর্থ: মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি কারো উপর সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না। (পবিত্র সূরা বাকারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৮৬)
অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার বিশুদ্ধ তাফসীর বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ:
এ পবিত্র আয়াত শরীফ থেকে বুঝা যায় যে, মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি কারো উপর সাধ্যাতীত কার্যভার চাপিয়ে দেন না। সুতরাং যে সমস্ত ব্যক্তি ইজতিহাদ করতে পারেন না, পবিত্র কুরআন মাজীদ ও সুন্নাহ শরীফ থেকে মাসয়ালা বের করতে পারেন না, উনারা চলবেন কিভাবে? তাই উনারা ইমাম-মুজতাহিদ উনাদেরকে অনুসরণ করে চলবেন। এই পবিত্র আয়াত শরীফ দ্বারা ইহাই ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর-৯
مَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُؤْتِيَهُ اللَّهُ الْكِتَابَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ ثُمَّ يَقُولَ لِلنَّاسِ كُونُوا عِبَادًا لِي مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلَكِنْ كُونُوا رَبَّانِيِّينَ.
অর্থ: মহান আল্লাহ তায়ালা কোন মানুষকে কিতাব, হিকমত ও নুবুওওয়াত দান করার পর তিনি বলবেন যে, ‘তোমরা মহান আল্লাহ তায়ালা উনাকে পরিত্যাগ করে আমার বান্দা হয়ে যাও’- এটা কখনোই সম্ভব নয়। বরং উনারা বলবেন, তোমরা মহান রবওয়ালা (আল্লাহওয়ালা) হয়ে যাও। (পবিত্র সূরা আল ইমরান শরীফ: ৭৯)
(মাসিক আল বাইয়্যিনাত থেকে সংকলিত।) (চলবে)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (১২)
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৫৫)
০৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৫৪)
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৫৩)
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৫২)
২৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৫১)
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (৮)
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৫০)
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (৬)
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৯)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৯)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৮)
১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












