পবিত্র কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দু‘আ বা মুনাজাত (১০ম অংশ)
, ০৩ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৭ সাদিস, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৫ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ১০ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
শরীয়তসম্মত নয় এমন কোন কারণে যে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার উদ্দেশ্যে দু‘আ করে তার দু‘আ কবুল হয় না:
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حضرت جَابِرٍ رضى الله تعالى عنه قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ مَا مِنْ أَحَدٍ يَدْعُو بِدُعَاءٍ إِلاَّ آتَاهُ اللَّهُ مَا سَأَلَ أَوْ كَفَّ عَنْهُ مِنَ السُّوءِ مِثْلَهُ مَا لَمْ يَدْعُ بِإِثْمٍ أَوْ قَطِيعَةِ رَحِمٍ
অর্থ: “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আমি বলতে শুনেছি: তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- কোন ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট কোন দু‘আ করলে মহান আল্লাহ পাক তাকে তা দান করেন কিংবা তার পরিপ্রেক্ষিতে তার থেকে কোন অকল্যাণ প্রতিহত করেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সে কোন গুনাহের কাজে লিপ্ত হওয়ার বা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার জন্য প্রার্থনা না করে। (তিরমিযী শরীফ)
দু‘আ কবুল না হওয়ার আরো কিছু কারণ রয়েছে। যেমন এ প্রসঙ্গে সাইয়্যিদুল আউলিয়া, গাউছুল আ’যম, হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার গুনিয়াতুত ত্বলিবীন নামক কিতাবে একটি ওয়াক্বেয়া উল্লেখ করেন-
ঘটনাটি হযরত শাকীক বলখী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। যে, একবার হযরত ইবরাহীম বিন আদহাম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে লোকেরা জিজ্ঞাসা করলো, আমরা দু‘আ করি কিন্তু সেই দু‘আ কবুল হয় না কেন? অথচ খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা আমার নিকট দু‘আ করো, আমি তোমাদের দু‘আ কবুল করবো।
তখন হযরত ইবরাহীম বিন আদহাম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, দু‘আ কবুল না হওয়ার ১০টি কারণ রয়েছে। দশ কারণে তোমাদের দিল মুর্দা হয়েছে, সে জন্য দু‘আ কবুল হয় না। এই দশটি কারণ হলো-
(১) তোমরা খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে মান্য করো; অথচ উনার যথাযথ হক্ব আদায় করো না।
(২) তোমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত মুবারকের দাবি করো; কিন্তু তোমরা উনার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক পালন করো না।
(৩) মহাসম্মানিত কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করো; অথচ সে অনুযায়ী আমল করো না।
(৪) তোমরা খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার নিয়ামত মুবারক গ্রহণ করো; অথচ উনার কোন শুকরিয়া আদায় করো না।
(৫) সম্মানিত জান্নাত উনার আশা করো; অথচ নেক আমল করো না।
(৬) জাহান্নাম থেকে নাজাত পেতে চাও; কিন্তু গুনাহে লিপ্ত থাকো।
(৭) শয়তানের শত্রুতা দাবি করো; কিন্তু তার পথে ও মতে চলাচল করো।
(৮) অবশ্যই একদিন মৃত্যু বরণ করতে হবে জানা সত্ত্বেও মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করো না।
(৯) মৃত ব্যক্তিকে দাফন করো; অথচ তা থেকে নছীহত হাছিল করো না।
(১০) নিজের দোষ দেখো না; কিন্তু পরের দোষ ধরায় ব্যস্ত থাকো।
কাজেই, আমাদের উচিত এই সমস্ত বদ আমল গুলো পরিহার করে; খালিছ নিয়তে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট আরজি করা, দু‘আ করা।
আমাদের দু‘আ কি কবুল করা হয়?
যদি কবুল করা হয়, তাহলে কিভাবে তা কবুল হয়...?
অনেকের মনে একটা সন্দেহ থাকে, কিছুটা দ্বিধা থাকে যে, আমি মহান আল্লাহ পাক উনার শাহী দরবার শরীফে যেই ফরিয়াদ করলাম তা কি পূর্ণ হলো? আমার দু‘আ কি মহান আল্লাহ পাক তিনি কবুল করেছেন?
এক্ষেত্রে সাধারণত নেতিবাচক মনোভাবই অনেকেই পোষণ করে। কিন্তু এমন তো হওয়ার কথা নয়। কেননা, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ঘোষণা মুবারক দিয়েছেন- তোমরা আমাকে ডাকো আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিবো। এরপরেও কেন মানুষের দু‘আ কবুল হয় না? আসলে দু‘আ কবুল না হওয়ার কিছু কারণ রয়েছে। যার কিছু কারণ পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দু‘আ কবুল না হওয়ার অন্যতম একটি বিশেষ কারণ হলো দু‘আ বা মুনাজাতের মধ্যে ইখলাছ তথা খুলুছিয়ত না থাকা। কেননা, ইখলাছবিহীন দু‘আ কবুল করা হয় না। শুধুমাত্র দু‘আ বা মুনাজাতই নয়; ইখলাছবিহীন কোন আমলই কবুল করা হয় না। পক্ষান্তরে, ইখলাছ পূর্ণ দু‘আ-মুনাজাত সকল কিছুই কবুল করা হয়। আর তা তিনভাবে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি কবুল করে থাকেন। (চলবে)
-মুহম্মদ হুসাইন নাফে’।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুলতান আব্দুল হামিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলদিজ প্রাসাদে ইফতার আয়োজনের স্মৃতিকথা
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৬)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের অনবদ্য তাজদীদ মুবারক-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের হাঁচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৬)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












