পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে- তাওবাতুন নাছূহা (৪)
, ১০ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০১ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১৬ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
মহান আল্লাহ পাক তিনি বান্দার তওবাতে শুধু যে খুশি হন তাই নয় বরং তিনি তার পূর্বের গুনাহকে নেকীতে পরিপূর্ণ করে দেন। তবে যদি সে তাওবাতুন নাছূহা অর্থাৎ খালিছ তওবা করে থাকে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُـوْا تُـوْبُـوْا إِلَى اللهِ تَـوْبَةً نَّصُوْحًا عَسٰى رَبُّكُمْ أَنْ يُكَفِّرَ عَنْكُمْ سَيِّاتِكُمْ وَ يُدْخِلْكُمْ جَنَّتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْـهَارُ يَـوْمَ لَا يُخزى اللهُ النَّبِيَّ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ ثَـوْرُهُمْ يَسْعَى بَيْنَ أَيْدِيْهِمْ وَ بِأَيْمَانِهِمْ يَقُوْلُوْنَ رَبَّنَا أَتْمِمْ لَنَا تَوْرَنَا وَاغْفِرْلَنَا إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট তওবা করো, খালিছ তওবা। অবশ্যই তোমাদের রব মহান রব্বুল আলামীন তোমাদের থেকে তোমাদের গুনাহ মোচন করবেন (ক্ষমা) দিবেন। এবং তোমাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার নিচ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত হয়। সেদিন মহান আল্লাহ পাক অপমানিত বা লজ্জিত করবেন না অর্থাৎ সম্মানিত করবেন। হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম এবং মু’মিনগণ উনাদের সাথে উনাদের নূর উনাদের সামনে এবং ডানে ছুটাছুটি করবে। উনারা বলবেন, আয় আমাদের রব! আমাদের জন্য আমাদের নূর পূর্ণ করে দিন। এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি সমস্ত কিছুর উপর সর্বশক্তিশীল।”
কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো- মানুষ গুনাহ করার পরও তওবা করে না। আর তাদের কৃতকর্মের কারণেই তাদেরকে জাহান্নামে যেতে হয়। অথচ মহান আল্লাহ তিনি কোন বান্দাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করতে চান না।
আর তওবা আমরা কেন করবো এটাও মহান আল্লাহ পাক তিনি জানিয়ে দিচ্ছেন-
وَتُـوْبُـوْا إِلَى اللهِ جَمِيْعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُـوْنَ لَعَلَّكُمْ تُـفْلِحُوْنَ
অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা সকলেই মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট তওবা করো যাতে তোমরা সফলকাম অর্থাৎ কামিয়াবী অর্জন করতে পারো।”
কাজেই, ঈমান আনার পর কামিয়াবী অর্জন করতে হলে বেশী বেশী মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট খালিছ ইস্তেগফার-তওবা করা আবশ্যক। কেননা, শয়তান একমাত্র মুখলাছ অর্থাৎ যারা ইখলাছপ্রাপ্ত হয়েছেন উনারা ব্যতীত সকলকেই ধোঁকা দিয়ে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় গুনাহে লিপ্ত করে। তাই আমাদের সকলকে খালিছ তওবা ইস্তেগফার করতে হবে। খালিছ তওবা ইস্তেগফার করার জন্য মহান আল্লাহ পাক উনাকে পাওয়ার জন্য আমাদের উছিলা তালাশ করতে হবে। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّـقُوا اللهَ وَابْـتَـغُوا إِلَيْهِ الْوَسِيلَةَ وَجَاهِدُوا فِي سَبِيْلِهِ لَعَلَّكُمْ تُـفْلِحُونَ
অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো, উনাকে পাওয়ার জন্য উছিলা তালাশ করো এবং উনার রাস্তায় জিহাদ করো অর্থাৎ উনাকে পাওয়ার জন্য চেষ্টা (কোশেশ) করা। অবশ্যই তোমরা কামিয়াবী লাভ করবে।” সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
أُولَئِكَ الَّذِينَ يَدْعُوْنَ يَـبْـتَـغُوْنَ إِلَى رَبِّهِمُ الْوَسِيلَةَ أَيُّـهُمْ أَقْـرُبُ وَيَـرْجُوْنَ رَحْمَتَهُ وَيَخَافُـوْنَ عَذَابَهُ
অর্থ: “আর যারা মহান আল্লাহ পাক উনাকে নিকটবর্তী উছিলার মাধ্যমে ডাকবে, রহমত মুবারক তালাশ করবে, মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করবে। (উনারাই জান্নাতী)।”
মহান আল্লাহ পাক উনার নিকটবর্তী উছিলা কারা? সেই নিকটবর্তী উছিলা হচ্ছেন মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা। সুবহানাল্লাহ! এ প্রসঙ্গে হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
عن حَضْرَتْ جَعْفَرِ الصَادِقِ عَلَيْهِ السَّلَامُ أَنَّهُ قَالَ نَحْنُ أَهْلُ بَـيْتِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسلم وَأَلُ بَـيْتِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسلم نَحْنُ الْوَسِيلَةُ إِلَى اللهِ وَلَا وَسِيلَةَ إِلَى اللهِ إِلَّا عَنْ غَيْرِ طَرِيقِنَا أَوْ مِنْ سِوَانًا
অর্থ: “হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমরা মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আমরাই মহান আল্লাহ পাক উনাকে পাওয়ার একমাত্র উসিলা। আমরা ব্যতীত এবং আমাদের তর্জ-তরীকা ব্যতীত মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট পৌঁছার আর কোন উসিলা নেই।” সুবহানাল্লাহ!
বর্তমান যামানায় ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মহাসম্মানিত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন আখাছ্ছুল খাছ আহলু বাইতে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। কাজেই সমগ্র মুসলমানের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে, উনার ছোহবত মুবারক ইখতিয়ারের মাধ্যমে খালিছ তওবা ইস্তেগফার করে মহান আল্লাহ পাক উনার নৈকট্য মুবারক হাছিল করা।
মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে আমাদের সকলকে খালিছ তওবা ইস্তেগফারের উপর দায়িম-কায়িম থাকার তাওফীক দান করেন। আমীন!
-সমাপ্ত-
-মুহম্মদ মুস্তাজীবুর রহমান ওয়াক্বী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
শ্রেষ্ঠ উসমানীয় সুলতান মুরাদ আল রাবির ন্যায়পরায়নতা এবং এক রাতের ঘটনা
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত তিনটি বিষয়
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহান আল্লাহ পাক উনাকে যদি কেউ হাক্বীক্বী ভয় করতে চায়, তার তিনটি দায়িত্ব
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (৯)
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












