পবিত্র ঈদুল আদ্বহার নামায আদায়ের মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক এবং পবিত্র ঈদুল আদ্বহার দিনের পবিত্র সুন্নতী আমল মুবারক
, ০৮ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৬ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৬ মে, ২০২৬ খ্রি:, ১২ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
পবিত্র ঈদের নামাযের পদ্ধতি স্বাভাবিক নামাযের মতো নয়। যেমনঃ ঈদের দুই রাকায়াত নামাযে কোনো আযান, ইক্বামাত নেই। এতে অতিরিক্ত ছয়টি তাকবীর রয়েছে। সেগুলো আদায়ের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। নিম্নে সেই নিয়মগুলো তুলে ধরা হলো :
পবিত্র ঈদের নামায আদায় করার পদ্ধতিঃ
পবিত্র ঈদুল আদ্বহা উনার নিয়ত-
نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلهِ تَعَالى رَكْعَتَىْ صَلوةِ الْعِيْدِ الْاَضْحى مَعَ سِتَّةِ تَكْبِيْرَاتٍ وَاجِبُ اللهِ تَعَالى اِقْتَدَيْتُ بِهذَا الْإِمَامِ مُتَوَجِّهًا اِلى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَرُ.
বাংলায় নিয়ত করলে এভাবে করবে: মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের লক্ষ্যে পবিত্র ঈদুল আদ্বহা উনার দুই রাকায়াত ওয়াজিব নামায ছয় তাকবীরের সাথে কিবলামুখী হয়ে এই ইমাম ছাহিব উনার সাথে আদায় করছি- আল্লাহু আকবার।
১। প্রথমত, স্বাভাবিক নামাযের মতোই তাকবীরে তাহরীমা বলে হাত বাঁধতে হবে। অতঃপর পবিত্র ছানা শরীফ পাঠ করতে হবে।
২। অতঃপর অতিরিক্ত তিনটি তাকবীর বলতে হবে। প্রথম দুই তাকবীরে কানের লতি পর্যন্ত হাত তুলে ছেড়ে দিতে হবে এবং তৃতীয় তাকবীরে হাত বাঁধতে হবে।
৩। অতঃপর ইমাম ছাহিবকে পবিত্র আউযুবিল্লাহ শরীফ ও পবিত্র বিসমিল্লাহ শরীফ পড়ার পর পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পড়ে অন্য একটি সূরা শরীফ মিলাতে হবে।
৪। অতঃপর স্বাভাবিক নামাযের মতোই রুকূ- সিজদাহ করে প্রথম রাকায়াত শেষ করতে হবে।
৫। দ্বিতীয় রাকায়াতে ইমাম ছাহিবকে যথারীতি ক্বিরায়াত পড়া শেষ করে রুকূতে যাওয়ার আগে অতিরিক্ত তিন তাকবীর দিতে হবে। প্রতি তাকবীরের সঙ্গে প্রথম রাকায়াতের ন্যায় হাত উঠাতে হবে এবং ছেড়ে দিতে হবে। অতঃপর চতুর্থ তাকবীর বলে রুকূতে চলে যেতে হবে।
৬। অতঃপর স্বাভাবিক নামাযের মতোই নামায শেষ করতে হবে।
৭। নামায শেষ করেই ইমাম ছাহিব মিম্বরে উঠবেন। দু’টি খুতবা দিবেন। এ সময় ইমাম ছাহিবের খুতবা খুব মনোযোগ সহকারে শুনতে হবে। কোনো ধরনের কথা বলা বা অন্য কাজে ব্যস্ত হওয়া যাবে না।
৮। খুতবা শেষে পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ ও দোয়া-মুনাজাত করতে হবে।
পবিত্র ঈদুল আদ্বহা উনার দিনের পবিত্র সুন্নত মুবারক:
(১) খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠা,
(২) গোসল করা,
(৩) মিস্ওয়াক করা,
(৪) সামর্থ অনুযায়ী নতুন পোশাক পরিধান করা,
(৫) আতর ব্যবহার করা,
(৬) মহল্লার মসজিদে গিয়ে ফজরের নামায পড়া,
(৭) ঈদগাহে হেঁটে যাওয়া,
(৮) পবিত্র ঈদুল আদ্বহা উনার দিন সকালে কিছু না খেয়ে ঈদগাহে যাওয়া,
(৯) পবিত্র ঈদুল আদ্বহা উনার দিন পবিত্র ঈদ উনার নামায পড়ে এসে পবিত্র কুরবানী উনার গোশÍ দিয়ে খাওয়া শুরু করা,
(১০) ঈদগাহে এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া এবং অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে আসা,
(১১) সকাল সকাল পবিত্র ঈদ উনার নামায পড়ার জন্য যাওয়া,
(১২) পবিত্র ঈদ উনার নামায ঈদগাহে গিয়ে পড়া, সম্ভব না হলে মহল্লার মসজিদে গিয়ে পবিত্র ঈদ উনার নামায পড়া,
(১৩) নিম্নলিখিত দোয়া বা তাকবীর পড়তে পড়তে ঈদগাহে যাওয়া-
الله أكبر الله أكبر لا إله إلا الله والله أكبر الله أكبر ولله الحمد.
উচ্চারণ : “আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হাম্দ্।”
অর্থ : আল্লাহ পাক তিনি মহান, আল্লাহ পাক তিনি মহান, মহান আল্লাহ পাক তিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, আল্লাহ পাক তিনি মহান, আল্লাহ পাক তিনি মহান এবং সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনারই জন্য।
(১৪) সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার আলোকে খুশি প্রকাশ করা।
(বাহরুর রায়িক, আলমগীরী, শামী, শরহে বিক্বায়া)
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করার গুরুত্ব-ফযীলত ও খাছ সুন্নতী তারতীব
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পুষ্টিগুণে ভরপুর মহাসম্মানিত সুন্নতী খাবার “মগজ”
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র সুন্নতী লিবাস ও পবিত্র লিবাসুত তাক্বওয়া দু’টি আলাদা পোশাক একটি হলো- জাহেরী সুন্নাহ লিবাস মুবারক; অন্যটি হলো- অন্তরের তাক্বওয়া হাছিলের লিবাস মুবারক (১)
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (২)
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ক্বমীছ বা জামা নিছফে সাক্ব পর্যন্ত প্রলম্বিত হওয়া সম্মানিত সুন্নত মুবারক
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (১)
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ওযূর একটি মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনিচ্ছাকৃত তরক করায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সতর্কতা মুবারক
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
লিবাস পরিধানের মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ (২)
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
লিবাস পরিধানের মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ (১)
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১৯)
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সর্বপ্রকার কামিয়াবী হাছিল করতে হলে সকলের জন্য কর্তব্য হচ্ছে- নফসের অনুসরণ বাদ দিয়ে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণ করা
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলার জন্য আবশ্যক হচ্ছে, সর্বক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী আমল করা
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












