পদ্মা ব্যারেজের মাধ্যমে স্থায়ী পানি নিরাপত্তার অপেক্ষায় লাখো মানুষ
, ০১ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৮ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৭ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ০৩ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) তাজা খবর
রাজবাড়ী সংবাদদাতা:
বছরের পর বছর ধরে শুষ্ক মৌসুমের আগমন মানেই ছিল রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার চর জিকরী গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কৃষক মোহাম্মদ সবুজ মোল্লার জন্য উদ্বেগের কারণ। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া এবং নদীতীরবর্তী মাটির আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় পানির অভাবে তার জীবিকা ব্যাহত হয় এবং স্থানীয় কৃষকেরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। এ বছরও পরিস্থিতির ব্যতিক্রম হয়নি।
এই দীর্ঘদিনের সংকট মোকাবিলায় সরকার সম্প্রতি ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘পদ্মা ব্যারেজ (প্রথম পর্যায়) প্রকল্প’ অনুমোদন করেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত সাত বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই মেগা অবকাঠামো প্রকল্পটি চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সামাজিক-অর্থনৈতিক বিপ্লবের আশা জাগিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি বিশেষজ্ঞদের মতে, সারা বছর সেচ সুবিধা নিশ্চিত হলে একই জমিতে একাধিক ফসল চাষ সম্ভব হবে, যা ভূমিহীন কৃষক ও কৃষিশ্রমিকদের জন্য বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
এ ছাড়া ব্যারেজের খাল ও বিলে পানি সংরক্ষণ করা গেলে বাণিজ্যিক মাছ চাষের ব্যাপক সুযোগ তৈরি হবে, যা স্থানীয় তরুণদের জন্য টেকসই জীবিকার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বিডাবলিউডিবি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। রাজবাড়ীর পাংশা পয়েন্টে ২.১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে গেট, ১৮টি আন্ডারস্লুইস গেট, ফিশ পাস এবং ন্যাভিগেশন লক।
প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো শুষ্ক মৌসুমে পানি ধরে রাখা এবং গঙ্গার প্রধান শাখা নদীগুলো-গড়াই, মধুমতী, চন্দনা ও হিসনা নদীতে নিয়মিত পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা। বিডাবলিউডিবি কর্মকর্তাদের মতে, নদীর পানির স্তর প্রায় ১০ মিটার ধরে রাখা গেলে গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জি-কে) সেচ প্রকল্পের চাহিদা পূরণ হবে এবং এর কার্যকর আওতা ৫৫ হাজার হেক্টর থেকে বেড়ে ৯৫ হাজার হেক্টরে উন্নীত হবে।
সব মিলিয়ে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী বিভাগের ১৯টি জেলার প্রায় ৭ কোটি মানুষ উন্নত পানি নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং লবণাক্ততা হ্রাসের মাধ্যমে উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে প্রকল্পটি নিয়ে পরিবেশবিদ ও পানি বিশেষজ্ঞরা সতর্কতার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বড় আকারের নদী অবকাঠামোর পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সাবেক পানি সম্পদ সচিব ও অবসরপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আখতার হোসেন সতর্ক করে বলেন, নিয়ন্ত্রণহীন লবণাক্ততা অনুপ্রবেশের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে খুলনা অঞ্চলের কিছু অংশ বসবাসের অযোগ্য হয়ে যেতে পারে। তিনি ব্যারেজকে সমর্থন করলেও এর পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, বড় অবকাঠামো নদীর পলি জমা ও পানির গুণমানের স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন করে, তাই উন্নত কম্পিউটার মডেলের মাধ্যমে ব্যাপক প্রভাব মূল্যায়ন করা উচিত।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র মুহররমুল হারাম মাসের চাঁদ দেখা গেছে
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
জুনের প্রথম ১৫ দিনে ১৬২ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৪১৮৯ কোটি টাকার চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্প অনুমোদন
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অ্যাক্সেস রোডের বালুর দাম নিয়ে রিট
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নতুন পে-স্কেলে বেতন বাড়লেও কমবে যে সুবিধা
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
শিশু হত্যার ঘটনা কেন্দ্র করে ডিসি-এসপির গাড়ি ভাঙচুর, ওসিসহ আহত ৩০
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
শুনে শুনেই পবিত্র কুরআন শরীফ মুখস্থ করলেন ৮০ বছর বয়সি নিরক্ষর বৃদ্ধা
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র মুহররমুল হারাম মাসের চাঁদ দেখা গেছে
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৪১৮৯ কোটি টাকার চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্প অনুমোদন
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অ্যাক্সেস রোডের বালুর দাম নিয়ে রিট
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
শিশু হত্যার ঘটনা কেন্দ্র করে ডিসি-এসপির গাড়ি ভাঙচুর, ওসিসহ আহত ৩০
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পদ্মা ব্যারেজের মাধ্যমে স্থায়ী পানি নিরাপত্তার অপেক্ষায় লাখো মানুষ
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












