সুন্নত মুবারক তা’লীম
নেয়ামতময় মহাসম্মানিত সুন্নতী খাদ্য খরগোশের গোস্ত
, ১৬ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৮ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৬ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ২২ পৌষ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
মহান আল্লাহ পাক উনার একটি বিশেষ দান ‘খরগোশ’ এর গোস্ত খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক। এ প্রসঙ্গে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حضرت أَنَسٍ ـ رضى الله تعالى عنه ـ قَالَ أَنْفَجْنَا أَرْنَبًا بِمَرِّ الظَّهْرَانِ، فَسَعَى الْقَوْمُ فَلَغَبُوا، فَأَدْرَكْتُهَا فَأَخَذْتُهَا، فَأَتَيْتُ بِهَا أَبَا طَلْحَةَ فَذَبَحَهَا، وَبَعَثَ بِهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِوَرِكِهَا ـ أَوْ فَخِذَيْهَا قَالَ فَخِذَيْهَا لاَ شَكَّ فِيهِ ـ فَقَبِلَهُ. قُلْتُ وَأَكَلَ مِنْهُ قَالَ وَأَكَلَ مِنْهُ.
অর্থ: হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাররায যাহরান নামক স্থানে আমরা একটি খরগোশকে তাড়া করলাম। উপস্থিত মানুষগণ খরগোশেকে তাড়া করে ক্লান্ত হয়ে পড়লেন। অবশেষে আমি সেই খরগোশকে নাগালে পেয়ে ধরে ফেললাম এবং হযরত আবূ তালহা রদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু উনার নিকট নিয়ে গেলাম। তিনি সেই খরগোশকে যবেহ্ করলেন এবং সেই খরগেশের দুই নিতম্ব অথবা রাবী বলেন, দুই ঊরু (রান) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারকে পাঠালেন । রাবী বলেন, খরগোশের দু’টি ঊরুই (রান) পাঠিয়েছিলেন, এ শব্দের বর্ণনায় কোন সন্দেহ নেই। তখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তা গ্রহণ করেছিলেন। রাবী হযরত শু’বা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে জিজ্ঞাসা করলাম, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কি খরগোশের গোশত খেয়েছিলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তা খেয়েছিলেন। (নাসায়ী শরীফ, হাদীছ নং ২৪২৭। আল হিদায়া শরীফ, হাদীছ নং ৪/৪৪১)
উক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা প্রমাণিত যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খরগোশের গোস্ত খেয়েছেন। অর্থাৎ খরগোশের গোস্ত খাওয়া খাছ সুন্নতে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই, যে ব্যক্তি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক উনাকে অপছন্দ করবে বা ইহানত করবে, সে অবশ্যয়ই কুফরী করবে। এই প্রসঙ্গে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
لَوْ تَرَكْتُمْ سَنْةَ نَبِيِّكُمْ لَكَفَرْتُمْ وَ فِى رِوَايَةٍ لَضَلَلْتُمْ
অর্থ: তোমরা যদি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক ছেড়ে দাও, তাহলে তোমরা অবশ্যই কুফরীতে নিমজ্জিত হবে। অপর এক বর্ণনায় ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা অবশ্যই পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে।” নাঊযুবিল্লাহ! (আবু দাউদ শরীফ)
অতএব যে ব্যক্তি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক অপছন্দ বা ইহানত করবে, সেই ব্যক্তি অবশ্যই কুফরী করবে অর্থাৎ সে অবশ্যই কাফির হয়ে যাবে। নাঊযুবিল্লাহ! সে তাওবা না করা পর্যন্ত তাকে ক্ষমা করা হবে না। আর সে যদি এই অবস্থায় ইন্তেকাল করে, তাহলে সে অবশ্যই জাহান্নামী হবে। নাঊযুবিল্লাহ!
যিনি খ্বালিক, মালিক, রব, মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদের সকলকে মহান আল্লাহ পাক উনার মহান নেয়ামত “খরগোশ” এর গোশত খাওয়া যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক এই বিষয়টি হাক্বীক্বীভাবে উপলব্ধি করে, মেনে সেই অনুযায়ী আমল করার তাওফীক্ব দান করেন। আমীন!
-মুহম্মদ আবরার হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র যাকাত-ফিতরা, উশর আদায়ের হুকুম আহকাম ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতার ও সাহরীতে খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (হাব্বাতুস সাওদা) - ১
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত-সম্পৃক্ত থাকা সকলের জন্য আবশ্যক
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত সন্তুষ্টি মুবারক সকল নেয়ামতের মূল
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (৩)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (২)
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (১)
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












