নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চার খানা বিশেষ খুছূছিয়ত মুবারক (৪)
, ০৮ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৪ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৩ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ০৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
২. হায়াতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম:
হযরত বায়হাক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার ‘হায়াতুল আম্বিয়া’ কিতাবে উল্লেখ করেছেন-
عَنْ حضرت سُلَيْمَانَ بْنِ سُحَيْمٍ رحمة الله عليه قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي النَّوْمِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَؤُلَاءِ الَّذِينَ يَأْتُونَكَ فَيُسَلِّمُونَ عَلَيْكَ أَتَفْقَهُ سَلَامَهُمْ؟ قَالَ نَعَمْ وَأَرُدُّ عَلَيْهِمْ
অর্থ: হযরত সুলাইমান ইবনে সুহাইম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বপ্নে দেখে জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যারা আপনার পবিত্র রওযা শরীফে এসে আপনাকে সালাম দেয় আপনি কি তাদের সালাম বুঝতে পারেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি তাদের সালাম বুঝি এবং তাদের সালামের জাওয়াবও দেই। সুবহানাল্লাহ! (হায়াতুল আম্বিয়া ফী কুবূরিহিম লিল বায়হাকী ১০৬ পৃষ্ঠা)
উপরোক্ত আলোচনা থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘হায়াতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’। যার কারণেই পবিত্র রওযা শরীফ উনার নিকট থেকে উনাকে সালাম মুবারক দেয়া হলে তিনি সেটা সরাসরি শুনতে পান। সুবহানাল্লাহ!
প্রকৃতপক্ষে কেউ যদি মুহব্বতের সাথে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সালাম দেয় অথবা উনার প্রতি পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করে তাহলে তিনি সেটা সরাসরি শুনতে পান, তাদেরকে চিনেন; এমনকি তাদের সালামের জাওয়াবও দিয়ে থাকেন। যদিও সেটা দূর থেকে হোক না কেন। সুবহানাল্লাহ!
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে-
قيل لرسول الله صلى الله عليه وسلم أرأيت صلاة المصلين عليك ممن غاب عنك ومن يأتي بعدك ما حالهما عندك؟ فقال اسمع صلاة أهل محبتي وأعرفهم وتعرض عليَّ صلاة غيرهم عرضاً
অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো যে, যারা দূর থেকে আপনার প্রতি পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করেন এবং পরবর্তীতে যারা আসবে তাদের পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ সম্পর্কে আপনার অভিপ্রায় মুবারক কি? তদুত্তরে তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اَسْمَعُ صَلَوْةَ اَهْلِ مَحَبَّتِىْ وَاَعْرِفُهُمْ
অর্থ: আমার প্রতি মুহব্বতের সাথে পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠকারীদের পবিত্র দুরূদ শরীফ আমি শুনতে পাই। এবং আমি তাদের পরিচয় জানি ও তাদেরকে চিনি। সুবহানাল্লাহ! (দালাইলুল খায়রাত, মাতালিউল মুসাররাত)
আরো বর্ণিত রয়েছে- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা পবিত্র ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ (সোমবার) এবং পবিত্র ইয়াওমুল জুমুয়া শরীফ আমার প্রতি পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করো। (কেননা)
فَاِنِّىْ اَسْمَعُ صَلَاتَكُمْ بِلَا وَاسِطَةٍ
‘নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সেই পবিত্র দুরূদ শরীফ বিনা মধ্যস্থতায় শুনতে পাই।’ সুবহানাল্লাহ! (মিশকাত শরীফ)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যদি হায়াতুন নবী না-ই হন তাহলে তিনি পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠকারীদের দুরূদ শরীফ কিভাবে শুনতে পান? এবং উনাকে সালাম প্রদানকারীদের জবাব মুবারক কিভাবে দেন? তার মানে স্পষ্টই বুঝা যাচ্ছে তিনি অবশ্যই হায়াতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ!
একটি মশহূর ঘটনা-
প্রসঙ্গত বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, সম্মানিত রেফায়িয়া তরীকার ইমাম হযরত শায়েখ সাইয়্যিদ আহমদ কবীর রিফায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি। যিনি বিশিষ্ট বুযূর্গ এবং আওলাদে রসূল ছিলেন। তিনি ৫৫৫ হিজরী সনে পবিত্র মদীনা শরীফে গেলেন। মহাপবিত্র রওযা শরীফ উনার নিকট গিয়ে সালাম মুবারক পেশ করলেন-
اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ يَا جَدِّىْ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: আসসালামু আলাইকা হে আমার মহাসম্মানিত নানাজান ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
মহাপবিত্র রওযা শরীফ হতে তৎক্ষনাৎ জবাব মুবারক আসলেন-
وَعَلَيْكَ السَّلَامُ يَا وَلَدِىْ
অর্থ: ওয়া আলাইকাস সালাম হে আমার দৌহিত্র!
মহাপবিত্র রওযা শরীফ থেকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সরাসরি জাওয়াব মুবারক শুনে হযরত আহমদ কবীর রেফায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিশেষ হাল পয়দা হলো। তিনি পবিত্র কাছীদাহ শরীফ পাঠ করতে শুরু করলেন। এক পর্যায়ে তিনি বললেন-
فِىْ حَالَةِ الْبُعْدِ رُوْحِىْ كُنْتُ اُرْسِلُهَا
تَقَبَّلَ الْاَرْضَ عَنِّى وَهِىَ نَائِبَتِىْ
وَهذه دَوْلَةُ الْاَشْبَاحِ قَدْ حَضَرْتُ
فَامْدُدْ يَمِيْنِكَ كَىْ تحظى بِهَا شَفَتِىْ
‘ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! দূরে অবস্থানকালে আমি আমার রূহকে আপনার মহাপবিত্র খিদমত মুবারকে প্রেরণ করতাম, যেন তা আমার পক্ষ থেকে আপনার কদমবুছী মুবারক করে যায়। এখন তো আমি সরাসরি আপনার মহাপবিত্র খিদমত মুবারকে উপস্থিত হয়েছি। সুতরাং আপনি যদি আপনার মহাপবিত্র ডান নূরুল মাগফিরাত (হাত) মুবারক জাহির করে দিতেন, তাহলে তাতে আমি বুছা মুবারক দিয়ে নিজেকে ধন্য করতাম।’ সুবহানাল্লাহ!
হযরত আহমদ কবীর রেফায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার উপরোক্ত আরজী শেষ হওয়া মাত্রই মহাপবিত্র রওযা শরীফ হতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার ডান নূরুল মাগফিরাত (হাত) মুবারক জাহির করে দেন। তৎক্ষনাৎ হযরত আহমদ কবীর রেফায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাত মুবারকে বুছা দিয়ে নিজেকে ধন্য করেন এবং সেই সময়ে পবিত্র মদীনা শরীফে অবস্থানকারী ৯০ হাজার লোক মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাত (হাত) মুবারক উনার যিয়ারত লাভ করে নিজেদেরকে চিরদিনের জন্য ধন্য করে নেন। সুবহানাল্লাহ!
যার মধ্যে বড়পীর হযরত শায়েখ আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিসহ আরো আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারাও ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! (আল বুনিয়ানুল মুশাইয়াদ, আরকানে ইসলাম ৩২৬ পৃষ্ঠা)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (২২)
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (২৮)
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (১১)
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র “মাক্বামে মাহমূদ” উনার বেমেছাল তাফসীর বিষয়ে খারেজী জাহমিয়া ফিরকার মুখোশ উন্মোচন (৩)
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন,খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (২১)
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (২৭)
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (১০)
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ইসমে যাত বা নাম মুবারক বারবার বলা ও লেখা সম্পূর্ণ আদবের খিলাফ (৩য় পর্ব)
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (২০)
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (২৬)
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












