নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চার খানা বিশেষ খুছূছিয়ত মুবারক (১)
, ১৬ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৩ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ০২ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ১৮ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
ভূমিকা:
যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ
অর্থ: আর (আমার মহাসম্মানিত হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আমি আপনার সম্মানিত যিকির মুবারক, সম্মানিত আলোচনা মুবারক, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক বুলন্দ থেকে বুলন্দতর করেছি। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা আলাম নাশরাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৪)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অসংখ্য-অগণিত বুলন্দী শান মুবারক উনার মধ্যে চার খানা বিশেষ খুছূছিয়ত মুবারক রয়েছেন। আর তা হলো-
১. তিনি ‘নূরে মুজাসসাম’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
২. তিনি ‘হায়াতুন নবী’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
৩. তিনি ‘হাযির-নাযির’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
৪. তিনি ‘মুত্বলা’ আলাল গইব’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
এই ৪টি বিষয়ের উপর সঠিক আকীদা পোষণ করা প্রত্যেক ঈমানদার, মুসলমানের জন্য ফরয। কেউ যদি উক্ত বিষয়সমূহের প্রতি ব্যতিক্রম আকীদা পোষণ করে তাহলে সে আর ঈমানদার থাকবে না। তাই নিম্নে ধারাবাহিকভাবে বিষয়গুলো আলোচনা করা হলো-
১. ‘নূরে মুজাসসাম’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম:
‘নূরে মুজাসসাম’ ঐ মহান সত্ত্বা মুবারক উনাকে বলা হয় যিনি আপাদমস্তক নূর মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত নূর মুবারক দ্বারাই উনার নূরুল ইযহার বা প্রকাশ মুবারক হয়েছেন। আর এই লক্বব মুবারক আমাদের মহাসম্মানিত রসূল, যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য খাছ। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহাসম্মানিত হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নূর মুবারক হিসেবে ঘোষণা মুবারক করেছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
قَدْ جَاءَكُمْ مِّنَ اللهِ نُـوْرٌ وَّكِـتٰبٌ مُّبِيْـنٌ
অর্থ: নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে মহাসম্মানিত নূর মুবারক এবং সুস্পষ্ট কিতাব মুবারক এসেছেন। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা মায়িদাহ্ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৫)
এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে সম্মানিত “নূর” মুবারক দ্বারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বুঝানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন-
}قَدْ جَاءَكُمْ مِّنَ اللهِ نُـوْرٌ} رَسُوْلٌ يَـعْنِـىْ سَيِّدَنَا مَوْلَانَا مُحَمَّدًا صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: “{নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে মহাসম্মানিত নূর মুবারক এসেছেন।} তিনি হচ্ছেন মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে ইবনে আব্বাস পৃষ্ঠা নং ৯০)
হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
قَدْ جَاءَكُمْ مِّنَ اللهِ نُـوْرٌ هُوَ النَّبِـىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: {নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে মহাসম্মানিত নূর মুবারক এসেছেন।} তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে জালালাইন)
এখানে একটা বিষয় স্পষ্ট করা জরুরী। বর্তমান সময়ে অনেকে উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত “নূর” মুবারক দ্বারা হিদায়েতী নূর বুঝিয়ে থাকে। অর্থাৎ তারা বলতে চায় হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হিদায়েত হিসেবে নূর কিন্তু তিনি নূরুল ইযহার বা সৃষ্টিগতভাবে নূর নন। অর্থাৎ তিনি নূর মুবারক দ্বারা সৃষ্টি নন। নাঊযুবিল্লাহ! তাদের এই দাবীগুলো স্পষ্টতই মিথ্যা ও ধোঁকা ছাড়া আর কিছুই নয়।
এ বিষয়ে অনেক লম্বা একখানা পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে। এখানে সেই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার প্রথমাংশ উল্লেখ করা হলো-
عَنْ حَضْرَتْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْاَنْصَارِىِّ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قُـلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِاَبِـىْ اَنْتَ وَاُمِّىْ اَخْبِـرْنِـىْ عَنْ اَوَّلِ شَىْءٍ خَلَقَهُ اللهُ تَـعَالـٰى قَـبْلَ الْاَشْيَاءِ قَالَ يَا حَضْرَتْ جَابِرُ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ اِنَّ اللهَ تَـعَالـٰى قَدْ خَلَقَ قَـبْلَ الْاَشْيَاءِ نُـوْرَ نَبِـيِّكَ مِنْ نُّـوْرِهٖ
অর্র্থ: “হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আরয করলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক, দয়া করে আমাকে এ বিষয়ে সংবাদ মুবারক দান করুন যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম কোন জিনিস সৃষ্টি করেছেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হে হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু! নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত কিছুর পূর্বে সর্বপ্রথম আপনার যিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নবী এবং রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক উনাকে অত্যন্ত মুহব্বত মুবারক উনার সাথে সৃষ্টি মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ! (মাওয়াহিবুল লাদুননিয়্যাহ ১/৪৮, শারহুয যারকানী ৫/২৬১, মাদারেজুন নুবুওওয়াত, ফতওয়ায়ে হাদীছিয়্যাহ ১/১২৫, কাশফুল খফা ১/২৬৫, বাহ্জাতুল মাহাফিল ১/১৫ ইত্যাদি)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (১৬)
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (১৫)
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, আল হাদ্বির ওয়ান নাযির, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (১৪)
৩০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, আল হাদ্বির ওয়ান নাযির, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জিবনী মুবারক
৩০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (১৩)
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, আল হাদ্বির ওয়ান নাযির, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জিবনী মুবারক
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (১২)
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল উনার ইন্তিজামকারী বিনা হিসাবে সম্মানিত জান্নাতে প্রবেশ করবেন
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












