নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে ‘শব্দ’ ব্যবহারে কতটুকু আদব রক্ষা করা আবশ্যক (২)
, ০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَاتَقُولُوا رَاعِنَا وَقُولُوا انْظُرْنَا وَاسْمَعُوا وَلِلْكٰفِرِیْنَ عَذَابٌ اَلِیْمٌ.
অর্থ: হে ঈমানদানগণ! তোমরা ‘রা‘ইনা’ বলো না, বরং ‘উনযুরনা’ বল এবং শোন। আর কাফেরদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (পবিত্র সূরা বাক্বারাহ শরীফ : আয়াত শরীফ ১০৪)
এখানে ( رَاعِنَا) শব্দের অর্থ হচ্ছে, আমাদের দিকে খেয়াল করুন! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মজলিস মুবারকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা কোন কথা মুবারক বুঝতে না পারলে এই শব্দ ব্যবহার করে বিষয়টা জানতে চাইতেন। কিন্তু ইহুদীরা বিদ্বেষ ও অবাধ্যতাবশত এই শব্দের কিছুটা বিকৃতি ঘটিয়ে ব্যবহার করত যাতে তার অর্থের পরিবর্তন ঘটতো এবং তারা নিজেরা এটা নিয়ে ঠাট্ট-বিদ্রুপ করতো। নাঊযুবিল্লাহ!
যেমন তারা এই শব্দে (ع) আঈন হরফের পর (ى) ইয়া বৃদ্ধি করে বলত رَاعِيْنَا ‘রায়ীনা’ যার অর্থ হয় আমাদের রাখাল। নাঊযুবিল্লাহ! অথবা رَاعِنَا ‘রায়িনা’ শব্দের আরেকটা খারাপ অর্থ হচ্ছে নির্বোধ। নাঊযুবিল্লাহ! তারা উক্ত শব্দটি দ্বারা সম্বোধন করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে বেয়াদবী করতো, মানহানী করার চেষ্টা করতো। নাঊযুবিল্লাহ!
আর এ দিকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা ভালো উদ্দেশ্যেই উক্ত শব্দ ব্যবহার করতেন।
কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি বিষয়টা মেনে নিলেন না যে, উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সামান্য থেকে সামান্যতর শানের খিলাফ হোক। তাই মহান আল্লাহ পাক তিনি আয়াত শরীফ নাযিল করে বলে দিলেন, তোমরা اُنْظُرْنَا বলো, رَاعِنَا ‘রায়িনা’ বলোনা। (اُنْظُرْنَا) শব্দের অর্থ হচ্ছে, আপনি আমাদের দিকে লক্ষ্য করুন। এখানে ইহুদীদের সেই খারাপ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করার কোনো সুযোগ রইলো না। সুবহানাল্লাহ!
এ থেকে বুঝা যাচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে এমন কোনো শব্দ ব্যবহার করা যাবে না যাতে ভালো-খারাপ দু’টোই বুঝায়, যাতে করে কাফির-নাস্তিকরা উনার শান মুবারকে বেয়াদবী করার সুযোগ পায়। যদিও বক্তার উদ্দেশ্য ভালো হোক না কেন।
তাহলে বর্তমানে মীযান আজহারী নামক কুলাঙ্গার বক্তা যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ঈড়নিড়ু (রাখাল) ঝযবঢ়যবৎফ (মেষপালক) ইত্যাদি শব্দ দ্বারা সম্বোধন করলো! নাঊযুবিল্লাহ! এটা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে চরম পর্যায়ের বেয়াদবী, মানহানী ও কুফরী হয়েছে। যার ফলে সে মুরতাদ ও কাফির হয়ে গেছে। যারা তাকে এ বিষয়ে সমর্থন করেছে বা করবে তারাও মুরতাদ ও কাফির হবে। এখন ইসলামী খিলাফত থাকলে তাদেরকে অবশ্যই মৃত্যুদ- দেয়া হতো।
সাধারণ অর্থে গরুর রাখালকে ঈড়নিড়ু বলা হলেও এই শব্দের মারাত্বক খারাপ কিছু অর্থ রয়েছে। ১৮৮০ এর দশকে টম্বস্টোন, (যুক্তরাষ্ট্রের আরিজোনা অঙ্গরাজ্যের একটি পশ্চিমা শহর।) এলাকায়, ‘কাউবয়’ শব্দটি বিভিন্ন অপরাধে জড়িত পুরুষদের বর্ণনা করার জন্য নিন্দনীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়। একটি ঢিলেঢালাভাবে সংগঠিত ব্যান্ডটিকে ‘দ্য কাউবয়’ নামে ডাকা হয় এবং ইউএস-মেক্সিকো সীমান্তে গবাদি পশু, অ্যালকোহল এবং তামাক পাচার করে লাভবান হয়। একটি সম্পাদকীয়তে লিখা হয়, ‘কাউবয়রা’ সেই বন্য দেশে সবচেয়ে বেপরোয়া শ্রেণীভুক্ত অপরাধী। সাধারণ ডাকাতদের চেয়ে এরা আরো বেশি খারাপ। এই এলাকায় কাউকে ‘কাউবয়’ বলাটা অপমানজনক হয়ে ওঠে, কারণ এটি ইঙ্গিত করে যে সে একজন ঘোড়া চোর, ডাকাত বা আইন বহির্ভূত লোক। অর্থাৎ এটি একটি গালিতে পরিণত হয়। আর এই কুলাঙ্গার বক্তা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে এই শব্দ ব্যবহার করেছে। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! সেতো দেখা যাচ্ছে ইবলীসের চেয়েও বড় বেয়াদব। ইবলীসও এতো বড় বেয়াদবী করার সাহস করেনি, যেটা সে করেছে। নাঊযুবিল্লাহ!
অনুরূপ ঝযবঢ়যবৎফ (মেষপালক বা রাখাল) এই শব্দটাও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে ব্যবহার করে কুফরী করেছে। নাঊযুবিল্লাহ! ইহুদীরাতো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে রাখাল বলেই হাসি-ঠাট্টা করতো। নাঊযুবিল্লাহ! এখন যারা উনাকে রাখাল বলবে তারা আসলে ইহুদীই হবে। কারণ পবিত্র হাদীছ শরীফে রয়েছে- مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ ‘যে ব্যক্তি যেই সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখে সে তাদেরই অর্ন্তভুক্ত।’ (আবূ দাঊদ শরীফ)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত মাক্বাম মুবারক সমস্ত সৃষ্টির ঊর্ধ্বে (৬)
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ১০
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত মাক্বাম মুবারক সমস্ত সৃষ্টির ঊর্ধ্বে (৫)
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ৯
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান বুলন্দী শান মুবারক প্রকাশ: ‘উম্মী’ শব্দ নিয়ে বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচারের চূড়ান্ত জবাব (৬)
০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তারীখ মুবারক সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ উনার সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ উনাকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ বিষয়ে আপত্তি ও তার খন্ডনমূলক জবাব (৪)
০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে মাত্র এক দিরহাম খরচ করার মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় এক পাহাড় পরিমাণ লাল স্বর্ণ দান করার সমপরিমাণ ফযীলত মুবারক লাভ
০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে মেহমানদারী করার মাধ্যমে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দায়িমীভাবে সম্মানিত শাফা‘আত মুবারক লাভ
০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত মাক্বাম মুবারক সমস্ত সৃষ্টির ঊর্ধ্বে (৪)
০৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ৮
০৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












