নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে অবমাননাকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (২৭)
, ২১ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৫ সাদিস, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৩ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২৮ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
মালউনটাকে হত্যার পরবর্তী ঘটনা:
মুহম্মদ কা’ব শরীফ লিখেন, গাজী মুরীদ হুসাইন উনাকে শাহাদাতের সিংহাসনে হাজির করার পর তিনি পবিত্র দুরূদ শরীফ পড়ছিলেন। উনাকে বলা হলো, যবান বন্ধ করুন। তিনি উত্তর দিলেন, আমার কাজ আমি করছি। তোমাদের কাজ তোমরা করো। কয়েক মুহূর্ত পরেই তিনি ফাঁসির কাষ্ঠে চড়লেন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারক হিফাযতের জন্য নিজের জীবন কুরবান করে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মহান দীদার মুবারকে চলে গেলেন। সুবহানাল্লাহ!
মুনীর নওয়াবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি লিখেন- শাহাদাতের পর ফাঁসির কার্যক্রম সম্পাদনকারীরা উনার নিকটজনদের বলেছেন, ফাঁসির সময় গাজী সাহেবকে খুব শান্ত ও আনন্দিত দেখা গেছে। পবিত্র দুরূদ শরীফ ও কালিমায়ে শাহাদাত শরীফ উনার অজীফা পড়ছিলেন। তখন উনাকে বলা হলো, যবান বন্ধ রাখুন। তিনি বললেন, আমার কাজ আমি করছি, তোমরা তোমাদের কাজ করো। এরপর তিনি পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক পড়তে পড়তে শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করলেন। সুবহানাল্লাহ!
শাতিম রাজপাল:
গাজী ইলমুদ্দীন। ১৯/২১ বছরের একজন টগবগে যুবক। শিরা-উপশিরায় ঈমানী জযবা বহমান। পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রী। পাক-ভারত বিভক্তির পূর্বের একটি ঘটনা যাঁকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।
মুশরিকদের এক মালঊন প-িত ‘চামুপতি লাল’ ছদ্মনামে একটি নিকৃষ্ট বই লেখে। যার নাম দিয়েছিলো ‘রঙ্গিলা রাসূল’। নাঊযুবিল্লাহ! লাহোরের আরেক মালঊন প্রকাশক রাজপাল ১৯২৩ সালে বইটি প্রকাশ করার দুঃসাহস দেখায়। বইটি প্রকাশের সাথে সাথে সারা ভারতের মুসলিমদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়।
বইটিতে মূলত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে। নাঊযুবিল্লাহ! উনার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত মুবারক, সম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালাত মুবারক, বিশেষ করে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে নিয়ে বিভিন্ন কুৎসা রটনা করা হয়েছে। নাঊযুবিল্লাহ! স্বাভাবিকভাবেই যার মাঝে জাররা পরিমাণ ঈমান আছে সেও বিষয়টা মেনে নিতে পারবে না। তাই সমস্ত মুসলমানগণ কষ্ট পেয়েছেন। বিক্ষুব্ধ হয়েছেন। এই বইয়ের বিষয়াবলির উপর প্রচ- ক্ষুব্ধ হয়ে চারদিকে প্রতিবাদ শুরু হয়। এরপর এই জঘণ্য ব্যাপারটিকে আদালতে নিয়ে যান মুসলিমরা। আদালত প্রথমে রাজপালকে দোষী হিসেবে সাব্যস্ত করে। পরবর্তীতে আপিল করা হলে জজকোর্ট এই বিচারকে সমর্থনও করে। কিন্তু রাজপাল এরপর হাইকোর্টে গেলে হাইকোর্ট তাকে নির্দোষ ঘোষণা দেয়। নাঊযুবিল্লাহ!
সমস্ত মুসলমানদের যিনি ঈমান এবং প্রানাধিক প্রিয়, মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ব্যঙ্গ করাকে আরদালী ইংরেজরা মত প্রকাশের স্বাধীনতা হিসেবে উল্লেখ করে ব্যাখ্যা দেয়। হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্ত মুসলমানদেরকে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ করে।
ইলমুদ্দীন তাঁর বন্ধুদের সাথে লাহোরের ‘মসজিদ ওয়াজির খানে’ নামায পড়ছিলেন। নামায শেষে মসজিদে এই বিষয়ে ভাষণ শোনেন। যেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে ব্যঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছিলো। যিনি মুসলমানদের জীবনের চেয়েও অধিক মুহব্বতের, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অপমানেও বিচার না পাওয়ায় অসহায়ভাবে কেঁদে ফেললেন খতীব সাহেব। রসূলী মুহব্বত আর খতীব সাহেবের অসহায়ত্ব ভীষণ নাড়া দেয় ইলমুদ্দীনের অন্তরে।
হঠাৎ এক রাতে ইলমুদ্দীন স্বপ্নে দেখেন এক বুযূর্গ ব্যক্তি তাকে বলছেন, ‘ইলমুদ্দীন এখনো ঘুমিয়ে আছো। তোমার প্রিয় রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অসম্মান কি তোমার দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না? উঠো, জলদি করে এর প্রতিকার করো।’ তৎক্ষণাৎ তার ঘুম ভেঙে যায় ততক্ষণে সকাল হয়ে গিয়েছে। তাই সে তার সঙ্গী শেদার কাছে পৌঁছায় এবং উক্ত স্বপ্নের বিষয় বলে। তখন শেদা জানায় সেও একই স্বপ্ন দেখেছে। তাই সেও নিজ হাতে এই কাজটি সম্পন্ন করতে চায়। যেহেতু বুযূর্গ ব্যক্তি দু’জনকে এই একই আদেশ দিয়েছেন তাই তারা দুজনেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এখন কে তাহলে এই দায়িত্ব পালন করবে। দীর্ঘ সময় আলোচনার পরেও উভয়ে কোনো সমাধানে পৌঁছতে পারেন না বিধায় নিজেদের মধ্যে লটারি করার সিদ্ধান্ত নেন।
এবার লটারিতে প্রথমেই ইলমুদ্দীনের নাম উঠে। শেদা পুনরায় অনুরোধ করে কিন্তু দ্বিতীয়বারেও ইলমুদ্দীনেরই নাম উঠে! শেদা শেষবারের মতো আরো একবার অনুরোধ করে আরেকবার লটারি করার জন্য! কিন্তু শেষবারেও ইলমুদ্দীনের নামই উঠে ফলে ইলমুদ্দীন নিশ্চিত হয়ে যান এবং মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে নেন যে, তিনি এই গুরুদায়িত্ব নিজ হাতেই সম্পন্ন করবেন! এরমধ্যে পুনরায় একই স্বপ্ন দেখেন ইলমুদ্দীন। তাই আর দেরী না করে শেদার সাথে সাক্ষাৎ করে! শেষ স্মৃতিস্বরূপ একটি ছাতা ও ঘড়ি উপহার দেন শেদাকে। রাতে ইলমুদ্দীনের ঘুম আসে না ছটফট করে কোনো রকমে রাতটুকু কাটিয়ে দেন। (অসমাপ্ত)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ২৭
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ২৬
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ২৫
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (৮)
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ক্বওল শরীফ
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র রওযা শরীফ উনার বেমেছাল শান-মান, মর্যাদা মুবারক
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ২৪
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ২৩
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ক্বওল শরীফ
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












