নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে অবমাননাকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (২৬)
, ১৫ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৯ সাদিস, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৭ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২২ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
মালউনটাকে হত্যার পরবর্তী ঘটনা:
বদবখত রাম গোপালকে হত্যা করার পর গ্রেফতারের জন্য মুরীদ হুসাইন নিজেই আত্মসমর্পণ করলেন। উনাকে উনার স্বীকারোক্তি থেকে ফিরানোর জন্য অনেক চেষ্টা করলেন মুসলমানগণ। কিন্তু সফল হওয়া যায়নি। সর্বশেষ উনার জান বাঁচানোর জন্যে কিছুদিন লাহোরের মানসিক হাসপাতালেও রাখা হলো। কিন্তু কিছুতেই তিনি পাগল সাজতে রাজি হলেন না। কারা জীবনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দীদার মুবারকে ধন্য হয়েছেন মুরীদ হুসাইন রহমতুল্লাহি আলাইহি। তখন তিনি নিয়মিত নামায আদায় করতেন, পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করতেন এবং ইসলামী বইপত্র অধ্যয়ন করে সময় কাটাতেন। শাহাদাতের দিন ধার্য হওয়ার জন্য তিনি সীমাহীন বেকারার ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
শাহাদাতের দিন ধার্য হওয়ার পর উনাকে উনার পৈতৃক জেলা জহলম কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ঢাঙ্গার বাসিন্দা (মস্তি বাহাউদ্দীন নামের) এক শিখ আসামিও ফাঁসির অপেক্ষায় ছিলো। সে গাজি মুরীদ হুসাইন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং তিনি তার নাম রেখেছেন গোলাম রসূল। কারা জীবনে গাজি মুরীদ হুসাইন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কয়েকটি কারামত প্রকাশ পেয়েছে। উনার পাশের কুঠরিতে এক শিখ ঘাতক বন্দী ছিলো, সে রাতের অধিকাংশ সময়ই দেখতো, মুরীদ হুসাইন উনার কুঠরিতে অসংখ্য বাতি জ্বলছে এবং অনেক মানুষ পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম পাঠ করছেন। শিখটা উনাকে জিজ্ঞাসা করলো, আচ্ছা আপনার কাছে প্রতিদিন কে আসেন? তিনি বললেন, আমার মুনীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে নিয়ে আসেন এবং উনার মজলিসে পবিত্র দুরুদ শরীফ ও সালামের অজীফা পড়া হয়। উনার এই কথা বলা মাত্র শিখ নিজ থেকেই বে-ইখতিয়ার বলে উঠলো-
لآ اِلَهَ اِلّا اللّهُ مُحَمَّدٌ رَسُوُل اللّهِ صلى الله عليه وسلم
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’। এরপর সে ওছীয়ত করে গেলো আমি গাজী মুরীদ হুসাইন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছি। সুতরাং আমাকে শিখদের গোরস্থানে দাফন না করে মুসলমানদের গোরস্থানে দাফন করবে। সে আরো অছীয়ত করলো, আমার লাশ যেন জহলমের প্রসিদ্ধ ব্যক্তি জনাব আব্দুল লতিফের হাওয়ালা করা হয়। তিনি আমাকে ইসলামী রীতি-নীতি অনুযায়ী জানাযা পড়ে জহলমের গোরস্থানে দাফন করবেন। পরে তার ওছীয়ত মতই সব করা হলো।
গাজি মুরীদ হুসাইন উনার সম্মানিত শায়েখ ও পীর সাহেব মামলা চলাকালে উনার সঙ্গে সাক্ষাত করতে গিয়ে বললেন, গাজী সাহেব! আমি তো আসলে কিছুই ছিলাম না। কিন্তু তুমি এমন মাক্বামে পৌঁছে গেছো যে, আমি তোমার জুতা বহন করাকেও আমার জন্য গর্বের বিষয় মনে করি। এরপর তিনি গাজী সাহেবকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কিছু দেখেছো কি? গাজী সাহেব উত্তর দিলেন, যখন ঐ অসভ্যকে জাহান্নামে পাঠালাম, তখন স্বপ্নে দেখলাম, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাশরীফ মুবারক নিয়ে আসলেন এবং বললেন, গাজী! ফিরে যাচ্ছো, না আমার কাছেই থাকছো? আমি আরজ করলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার পবিত্র নূরুদ দারাজাত পাকে (কদমতলে) থেকেই দোজাহানের কামিয়াবী অর্জন করতে চাচ্ছি। সুবহানাল্লাহ!
শহীদে ইশক্বে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুরীদ হুসাইন উনার আশা-আকাঙ্খার বাগানে এখন পূর্ণ বসন্ত যৌবন। মহান মাহবূব উনার সান্নিধ্যে যাওয়ার তারীখ নির্ধারণ করা হয়েছে পবিত্র ৮ই রজবুল হারাম শরীফ ১১৫৬ হিজরী মুতাবিক ১৪ই সেপ্টেম্বর ১৯৩৭ খৃষ্টাব্দ পবিত্র জুমুআবার। ফাঁসির রশিতে ঝুলানোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত, পবিত্র দুরূদ শরীফ ও পবিত্র কালিমায়ে তাইয়্যেবা উনার যিকিরে কারাগারের শেষ রাত অতিবাহিত করেছেন। মুসলিম কয়েদিরাও উনার মুহব্বত উৎকণ্ঠায় রাতটি জেগে থেকে পার করলেন। গাজী সাহেব রাতের কিছু অংশে শুকরানা নামাযও আদায় করলেন। বর্ণিত রয়েছে, কারাগার দায়িত্বশীল কয়েকজন পাহারাদারসহ উনার কামড়ার সামনে এসে দাঁড়ালো। তারা বললো, ফাঁসির সময় ঘনিয়ে এসেছে। মুহব্বতের নজরানা পূর্ণতা দানের জন্য আমাদের সঙ্গে গন্তব্যের পথে চলুন। উনার ঠোঁটে মুচকি হাসির অপূর্ব ঝলক। তিনি বললেন, আলহামদুলিল্লাহ! চলুন আমি উপস্থিত। জানবাজ আশিক্ব বাইরে বের হয়েই নারায়ে তাকবীর ধ্বনি তুললেন, সমস্ত কয়েদি সুউচ্চ কণ্ঠে উনার জবাব দিলেন। আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে আকাশ বাতাস মুখরিত হয়ে উঠলো। গাজী সাহেব ইশক্বী সাগরে ভাসতে ভাসতে বীরবেশে শির উঁচু করে বুক টান করে দ্রুত পদে নাতে মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পড়তে পড়তে ফাঁসির মঞ্চের দিকে এগিয়ে গেলেন।
(অসমাপ্ত)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে নিসবত মুবারক স্থাপন করতে পারলে, মূল সব নিয়ামত পরিপূর্ণটা হাছিল সম্ভব। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথেই আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সরাসরি মহাসম্মানিত নিসবত মুবারক
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘এক নাম্বার আক্বীদাহ্ হচ্ছে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সৃষ্টির কারো মতো নন’
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত বুছা মুবারক দেয়া
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে ঊলা বা প্রথমা, কুবরা বা মূল, বড়, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মূল এবং সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনারও মূল
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের দায়েমীভাবে এমন মহাসম্মানিত নিসবত মুবারক রয়েছেন যেখানে সৃষ্টির কারো কোনো স্থান সঙ্কুলান হয় না
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
উম্মু আবীহা, আন নূরুর রবি‘আহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুত তাকরীর মুবারক অর্থাৎ অত্যন্ত খুশি মুবারক প্রকাশ
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৪২)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আর রবি’ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম উনার একখানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ই’জায শরীফ
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারাই বলেছেন উনাদের মহাসম্মানিত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক আলোচনা করার জন্য
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












