নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে অবমাননাকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (২১)
, ০৯ই রবিউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৩ খমীছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ০২ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রি:, ১৮ আশ্বিন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
ইহুদী নেতা কা’ব বিন আশরাফ:
এই খবর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট পৌঁছলো। তিনি হযরত মুহম্মদ বিন মাসলামাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে ডেকে পাঠালেন। তিনি যখন আসলেন উনাকে জিজ্ঞেস করলেন- আপনার কি হয়েছে? এটা কি সত্য যে, আপনি পানাহার করা বন্ধ করে দিয়েছেন? তিনি উত্তর দিলেন, জী হ্যাঁ। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে জিজ্ঞেস করলেন, কেন? তিনি বললেন, আমি আপনার নিকট একটি অঙ্গীকার করেছি। কিন্তু আমি চিন্তিত যে, আমি সেই অঙ্গীকার পূরণে সক্ষম হবো কিনা।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে বললেন-
إِنَّمَا عَلَيْكَ الْـجَهْدُ
‘নিশ্চয়ই আপনার দায়িত্ব হচ্ছে, চেষ্টা করা। ’ হযরত মুহম্মদ বিন মাসলামাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তাহলে আমাকে কিছু কৌশলের আশ্রয় নিতে হবে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আপনার যা ইচ্ছা করুন। কেননা আপনারা সবকিছু থেকে মুক্ত।
হযরত মুহম্মদ বিন মাসলামাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নেতৃত্বে একদল হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা প্রস্তুত হয়ে গেলেন, কা’ব বিন আশরাফকে জমীন থেকে বিদায় করার জন্য। উনাদের মধ্যে ছিলেন- হযরত আব্বাদ বিন বিশর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত আবূ নাইলাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত হারিছ বিন আউস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত আবূ আবস বিন জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম প্রমুখ। উল্লেখ্য, হযরত আবূ নাইলাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ছিলেন কা’ব বিন আশরাফের দুধভাই।
হযরত মুহম্মদ বিন মাসলামাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি কা’ব বিন আশরাফের সাথে সাক্ষাত করতে গেলেন। সেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে ইঙ্গিত করে কা’বকে বললেন-
-তিনি আমাদের কাছে যাকাতের মাল তলব করেছেন। তিনি আমাদেরকে একেবারে বিরক্ত করে ফেলেছেন!
-মালউন কা’ব বিন আশরাফ কিছুটা খুশি হয়ে বললো, মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! তিনি আপনাদেরকে আরও বিরক্ত করবেন। নাঊযুবিল্লাহ!
-হযরত মাসলামাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, আমরা তো উনার আনুগত্য করে ফেলেছি। এখন আমরা উনাকে ততক্ষণ পর্যন্ত পরিত্যাগ করতে চাই না, যতক্ষণ না আমরা উনার শেষ দেখতে পাই। আমরা তোমার কাছ থেকে কিছু ধার নিতে চাই।
-সে বললো, হ্যাঁ! তবে আমার কাছে কিছু বন্ধক রাখতে হবে।
-তিনি জিজ্ঞেস করলেন, বন্ধক হিসেবে তুমি কি চাও?
-সে বললো, আমার কাছে আপনারা আপনাদের যারা আহলিয়া রয়েছেন উনাদেরকে বন্ধক হিসেবে রাখুন!
-তিনি বললেন, আমরা কিভাবে তোমার কাছে আমাদের আহলিয়া উনাদেরকে বন্ধক রাখি, অথচ তুমি আরবের সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষ?
-তাহলে আমার কাছে আপনাদের ছেলেদের বন্ধক রাখুন!
-হযরত মাসলামাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, আমরা কিভাবে আমাদের ছেলেদেরকে তোমার কাছে বন্ধক রাখি? এরকম করলে, বাকি জীবন উনাদের প্রত্যেককেই গালি শুনতে হবে। উনাদেরকে গালি দেয়া হবে- আপনার পিতা আপনাকে সামান্য বিনিময়ের জন্য বন্ধক রেখে দিয়েছিলেন! বিষয়টা আমাদের জন্য লজ্জাজনক। বরং আমরা তোমাকে হাতিয়ার (তরবারী) বন্ধক দেবো!
এরপর হযরত মাসলামাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি পুনরায় হাতিয়ার নিয়ে আগমন করার ওয়াদা দিলেন।
হযরত আবূ নাইলাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনিও হযরত মুহম্মদ বিন মাসলামাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মতো ফন্দি আঁটলেন। তিনি কা’ব বিন আশরাফের কাছে এলেন। উভয়ে কবিতার কিছু পংক্তি আবৃত্তি করলেন। এরপর বললেন-
-হে কা’ব বিন আশরাফ! তোমার ধ্বংস হোক, আমি তোমার কাছে একটি প্রয়োজনের তাকিদে এসেছি। আমি সেটা তোমাকে বলতে চাই। তবে এটাও চাই যে, তুমি বিষয়টা গোপন রাখবে।
-সে বললো, ঠিক আছে, আমি গোপন রাখবো।
-তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ইঙ্গিত করে বললেন, উনার আগমন আমাদের জন্য একটা বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে! পুরো আরব আমাদের শত্রু হয়ে গেছে। আমাদের দূরে নিক্ষেপ করে দিয়েছে। আমাদের সাথে সম্পর্কের সব রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি আমাদের সন্তানাদি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমরা অনেক কষ্ট করেছি। হযরত আবূ নাইলাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার কথা-বার্তার ফাঁকে এ কথাও বললেন, যে আমার কিছু সঙ্গী-সাথী আছেন; উনারাও আমার মতো দৃষ্টিভঙ্গি লালন করেন। আমি উনাদেরকেও তোমার কাছে নিয়ে আসার ইচ্ছা করছি। তুমি উনাদের সাথেও ভালোভাবে ব্যবসা করবে।
হযরত মুহম্মদ ইবনে মাসলামাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত আবূ নাইলাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা উনাদের উদ্দেশ্য-সাধনে পুরোপুরি স্বার্থক হলেন। কেননা, কা’ব বিন আশরাফ উনাাদের সাথে হাতিয়ার (তরবারী) নিয়ে আসতে এবং আরও কিছু সঙ্গী-সাথী নিয়ে উপস্থিত হতে রাজী হয়েছে। (অসমাপ্ত)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত আশূরা শরীফ উনাকে যারা সম্মান করবে তাদের জন্য-
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা মতে কুলাঙ্গার ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী (১)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পৃথিবীকে পরিবর্তন করার চেয়ে নিজেকে পরিবর্তন করা সহজ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিষয় কেবল তিনটি অবস্থায়ই জানা যায়।
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












