পবিত্র যাকাত আদায় না করার ভয়াবহ কঠিন অবস্থা!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম দুয়া মুবারক উনার উসীলায় অতি দরিদ্র এবং এক নিঃস্ব ব্যক্তি ছা’লাবা ইবনে হাতিব অঢেল সম্পদের মালিক হওয়ার পর পবিত্র যাকাত অস্বীকার তথা আদায় না করার কারণে কুখ্যাত মুনাফিক এবং চির জাহান্নামী হয়ে যায়। নাউযুবিল্লাহ! (২)
, ২১ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২৩ আশির, ১৩৯২ শামসী সন , ২২ মার্চ, ২০২৫ খ্রি:, ৭ চৈত্র, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা

একদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন-
مَا فَعَلَ ثَعْلَبَةُ
ছা’লাবা কি করছে? ছা’লাবার খবর কি? হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তার বকরী সংখ্যা এত বৃদ্ধি পেয়েছে যে এক বিশাল উপত্যকায় তার স্থান সংকুলান হতে পারে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বললেন-
يَا وَيْحُ ثَعْلَبَةَ يَا وَيْحُ ثَعْلَبَةَ يَا وَيْحُ ثَعْلَبَةَ
হায়! ছা’লাবার দুর্ভাগ্য! হায় ছা’লাবার দুর্ভাগ্য! হায় ছা’লাবার বদনসীব! অর্থাৎ ধ্বংস ছা’লাবার। নাউযুবিল্লাহ!
এরপর পবিত্রতম যাকাত সংক্রান্ত পবিত্রতম আয়াত শরীফ-
خُذْ مِنْ اَمْوَالِـهِمْ صَدَقَةً
অর্থ: আপনি তাদের অর্থাৎ উম্মতের মাল-সম্পদের পবিত্র যাকাত গ্রহণ ও বন্টন করুন। (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ: ১০৩)
এই পবিত্রতম আয়াত শরীফ নাযিল হলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বনু সুলাইম গোত্রের এক ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও জুহাইনা গোত্রের এক ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের দু’জনকে সম্মানিত যাকাত উনার হুকুম-আহকাম লিখে দিয়ে ছা’লাবা ইবনে হাতিব ও সুলাইম গোত্রের এক ব্যক্তির সম্পদের পবিত্র যাকাত আদায়ের জন্য প্রেরণ করলেন।
নির্দেশ মুবারক পেয়ে উভয় ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা ছা’লাবার কাছে গিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্রতম ফরমান মুবারক পড়ে শুনালেন এবং পবিত্র যাকাত আদায় করতে বললেন। সে সবকিছু শুনে বললো, এতো জিযিয়াই, এতো জিযিয়ারই সমগোত্রীয়, এতো জিযিয়ারই মতো। নাউযুবিল্লাহ! আপনারা অন্যের কাছে যান কাজ শেষ করে আমার কাছে আসুন আমি ভেবে দেখছি কি করা যায়। নাউযুবিল্লাহ! উনারা সুলাইম গোত্রের একজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার কাছে গেলেন তিনি অত্যন্ত খুশি হয়ে তা’যীম-তাকরীম করে পবিত্র যাকাত দিয়ে দিলেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর স্বতঃস্ফুর্তভাবে উনার দেয়া পবিত্র যাকাত নিয়ে ছা’লাবার কাছে আসলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পাঠানো মহাপবিত্রতম ফরমান মুবারক পড়ে-পূর্বের কথাই বললো, এতো জিযিয়াই দেখতে পাচ্ছি, এতো জিযিয়ারই অনুরূপ নাউযুবিল্লাহ! অতঃপর সে বললো, আপনারা চলে যান আমি বিষয়টি ভেবে দেখি কি করা যায়। নাউযুবিল্লাহ!
অতঃপর ঐ দু’জন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা পবিত্র মদীনা শরীফে গিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অবহিত করার পূর্বেই তিনি পূর্বের কথা মুবারক উচ্চারণ করলেন-
يَا وَيْحُ ثَعْلَبَةَ يَا وَيْحُ ثَعْلَبَةَ يَا وَيْحُ ثَعْلَبَةَ
অর্থ: হায় দুর্ভাগ্য ছা’লাবার! হায় আফসূস ছালাবার! হায় ধ্বংস ছালাবার! এই কথা মুবারক তিনি তিনবার উচ্চারণ করলেন। অতঃপর ঐ দু’জন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ছা’লাবার সব ঘটনা অবহিত করার পর মহান আল্লাহ পাক তিনি এই আয়াত শরীফ নাযিল করলেন-
وَمِنْهُم مَّنْ عَاهَدَ اللهَ لَئِنْ اَتَانَا مِن فَضْلِهٖ لَنَصَّدَّقَنَّ وَلَنَكُوْنَنَّ مِنَ الصَّالِحِيْنَ. فَلَمَّا اتَاهُمْ مِّنْ فَضْلِهٖ بَخِلُوا بِهٖ وَتَوَلَّوا وَّهُم مُّعْرِضُوْنَ. فَأَعْقَبَهُمْ نِفَاقًا فِيْ قُلُوبِهِمْ إِلٰى يَوْمِ يَلْقَوْنَهٗ بِمَا أَخْلَفُوا اللهَ مَا وَعَدُوْهُ وَبِمَا كَانُوا يَكْذِبُوْنَ.
অর্থ: তাদের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে, যারা মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে অঙ্গীকার করেছে যে, যদি মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজ অনুগ্রহে আমাদের সম্পদ দান করেন, তাহলে আমরা অবশ্যই দান খয়রাত করবো এবং অবশ্যই নেককারদের অন্তর্ভুক্ত হবো। অতঃপর যখন (মহান আল্লাহ পাক তিনি) তাদেরকে সম্পদ দান করলেন, তখন তারা এই বিষয়ে বখীলী তথা কার্পণ্য করলো ও মুখ ফিরিয়ে নিলো এবং তারা অস্বীকারও করলো। নাঊযুবিল্লাহ! এর পরিণামে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের অন্তরে শাস্তিস্বরূপ মুনাফিকী সৃষ্টি করে দিলেন তথা বদ্ধমূল করলেন মহান আল্লাহ পাক উনার সাক্ষাৎ দিবস পর্যন্ত। (অর্থাৎ মুনাফিকদের সাথে কস্মিনকালেও মহান আল্লাহ পাক উনার সাক্ষাৎ হবে না। কাজেই মুনাফিকদের শাস্তি অনন্তকাল পর্যন্ত চলতেই থাকবে) কারণ তারা মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে যে অঙ্গীকার তথা ওয়াদা করেছিল তা ভঙ্গ করেছিলো এবং এই কারণে যে তারা মিথ্যা বলতো। (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ, আয়াত শরীফ: ৭৫, ৭৬, ৭৭) (চলবে)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত যাকাত উনার আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (৯)
৩০ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ছবি তোলা হারাম ও নাজায়িয
৩০ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
৩০ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
তারা প্রত্যেকেই মূর্তিপূজারী ও মুশরিক হয়ে কাট্টা কাফির ও মুরতাদ হয়েছে (২৫)
৩০ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সারাবিশ্বে এক দিনে ঈদ পালন সম্ভব কি? একটি দলীলভিত্তিক বিশ্লেষণ.... (৬)
৩০ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সম্মানিত যাকাত উনার আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (৮)
২৯ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
২৯ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৯ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
তারা প্রত্যেকেই মূর্তিপূজারী ও মুশরিক হয়ে কাট্টা কাফির ও মুরতাদ হয়েছে (২৪)
২৯ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সারাবিশ্বে এক দিনে ঈদ পালন সম্ভব কি? একটি দলীলভিত্তিক বিশ্লেষণ.... (৫)
২৯ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত যাকাত উনার আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (৭)
২৬ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ছবি তোলা হারাম ও নাজায়িজ
২৬ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)