সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে অনন্তকালব্যাপী আয়োজিত বিশেষ মাহফিলে আজিমুশ্বান নছীহত মুবারক:
নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কারো মতো নন এই আক্বিদা প্রত্যেকের অন্তরে সিলমোহর মেরে রাখতে হবে
, ০১ জুলাই, ২০২৫ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মহিলাদের পাতা
আল ইহসান ডেস্ক:
প্রতিদিনের ন্যায় পবিত্র সুন্নতী জামে মসজিদে অনন্তকালব্যাপী জারীকৃত সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়াদ শরীফ উনার সম্মানে বিশেষ মাহফিল মুবারক অনুষ্ঠিত হয়। বিগত ৪ঠা মুহররমুল হারাম শরীফ ১৪৪৭ হিজরী সাইয়্যিদুনা মামদুহ হযরত মুরশিদ কিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বাদ ইশা কুল কায়িনাতের সকলের উদ্দেশ্যে বিশেষ নছীহত মুবারক করেন। নছীহত মুবারক উনার শুরুতে তিনি মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসার উন্নয়ন শৃঙ্খলা বিষয়ে প্রদত্ত সিদ্ধান্ত সমূহের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চান।
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলতানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন- যেকোন কাজ নগদ নগদ করতে হবে। বাকী রাখলে বাকী থাকে। দোকানে লেখা থাকে, আজ নগদ কাল বাকী। প্রতিদিন আসলেই আজ হবে তাই নগদই দিতে হবে, কাল আর আসবেনা তাই বাকীও আর রাখা যাবেনা। তাই সব কাজ দ্রুতগতিতে নগদ নগদ করে নিতে হবে।
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলতানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন- মানুষকে একদিনে সব মাসয়ালা শিখানো যাবেনা। একদিনে সব শিখতে পারবেনা, মনেও রাখতে পারবেনা। ওজু গোসল তায়াম্মুম এগুলো আলাদা আলাদা শিখাতে হবে। একটা একটা করে শিখাতে হবে। ওজুর ফরজ সুন্নত মুস্তাহাব এভাবেই শিখাতে হবে। প্রত্যেকটি ভালো করে বুঝিয়ে বললে তাহলে শিখতে সহজ হবে।
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলতানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন- যিকির আযকার দরুদ শরীফ না পড়লে জীবনে কেউ কিছু হাসিল করতে পারবেনা। প্রতিদিন নিয়মিত এবং রীতিমত সবক ঠিক রাখতে হবে। মানুষ অধিকাংশ দুনিয়াদার যার জন্য দ্বীনের জন্য তাদের কোন মুহব্বত নাই। দ্বীনের জন্য যে কিছু করতে হবে সেই ফিকির তাদের নাই। একটা মানুষ চব্বিশ ঘন্টা দুনিয়ার মধ্যে থাকে। দুনিয়ার বদ তাছির থেকে বেচে থাকা খুবই কঠিন। দুনিয়ার ওয়াসওয়াসা, শয়তানের ওয়াসওয়াসা, নফসের ওয়াসওয়াসাতো আছেই। মানুষ সারাদিন একজন আরেকজনকে কুফরী ওয়াসওয়াসা দেয়। সবাই কাফেরদের দ্বারা এমনভাবে প্রতারিত যে, কাফেরদের নিয়ম কানুন পালন করলে কোন বাধা দেয়না কিন্তু সুন্নত মুবারক আমল করলে ঠিকই তারা বাধা দেয়। তারা বলে এত সুন্নত পালন করার দরকার নাই। নাউজুবিল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলতানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন- আকিদা হুসনে যন রাখার বিষয়টি খুবই কঠিন। আদব শরাফত না থাকলে কিছুই হবেনা। এজন্য সবার জন্য প্রথম ফরজ হলো- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সর্বোচ্চ আদব, সর্বোচ্চ সম্মান, সর্বোচ্চ হুসনেযন, সর্বোচ্চ বিশুদ্ধ আকিদা পোষণ করা। প্রত্যেকের জন্য এটা হলো প্রথম ফরজ বিষয়। উনার সুমহান শান মুবারক সম্পর্কে সবাইকে অবশ্যই বিশুদ্ধ আকিদা পোষণ করতে হবে। তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন-এমন আকিদাই উনার সুমহান শান মুবারকে পোষণ করতে হবে। । এজন্য প্রথমেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বিশুদ্ধ আকিদা হুসনে যন পোষণ করতে হবে এবং উনার মুহব্বত মুবারক হাসিল করতে হবে। কারণ তিনি কারো মতো নন এই আকিদা প্রত্যেকের অন্তরে সিলমোহর মেরে রাখতে হবে। সব কিতাবের সবকিছু গ্রহণ করা যাবে না। নিসবত কুরবত ছাড়া সহীহ সমঝ হবেনা। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে কারো কোন প্রকার তুলনা করা চলবে না, উনার প্রতি বিশুদ্ধ থেকে বিশুদ্ধ হসনে যন রাখতে হবে। হযরত উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের নিয়েও কোনপ্রকার চুচেরা কিল-কাল করা যাবেনা।
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলতানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন- সমস্ত নবী রাসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত অতএব উনাদের জবান মুবারক দ্বারা শয়তান কিভাবে কথা বলতে পারে। কেউ যদি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বপ্নে বিভিন্ন ছুরতে দেখে তবে সেটা তার অবস্থা অনুযায়ীই দেখে। তবে উনাকে যে দেেেখছে সে সত্যিই দেখেছে, এটাই বাস্তব, এটা বিশ্বাস করতে হবে। এক বুজর্গ ওলীআল্লাহ তিনি প্রায়শই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বপ্নে দেখতেন এবং সেটা প্রকাশ করার কারনে মানুষ চু-চেরা নানা প্রকার কথা বলতো। সেই বুজর্গ ব্যাক্তি তখন মুবারক খিদমতে বিষয়টি পেশ করলে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- কেউ যদি আমাকে স্বপ্নে দেখার বিষয়টি বিশ্বাস না করে তবে সে অবশ্যই ইহুদী নাসারা হয়ে মারা যাবে। নাউজুবিল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলতানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন- তোমাদের আল আওলাদেরকে তিনটা আদব শিক্ষা দাও, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি আদব, হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি আদব ও পবিত্র কুরআন শরীফ তিলওয়াত তথা পবিত্র কুরআন শরীফের আমল শিক্ষা দাও। সুবহানাল্লাহ! হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত মুবারক হাসিল করতে পারলেই পবিত্র কুরআন শরীফ পড়ে বিশুদ্ধ সমঝ পয়দা হবে। আর যে ব্যাক্তি হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে সে অবশ্যই গজবপ্রাপ্ত ইহুদী হয়েই মারা যাবে। উনাদের শান মুবারকে কিতাবপত্রে এলোমেলো লেখার কারনেই নাস্তিক মুরতাদরা সেগুলো হতে দলীল দেয়। সুরা তাহরিম শরীফ, সুরা নজম শরীফ, সুরা মুমতাহিনা শরীফ হতে অনেক অপব্যাখ্যা তাফসীর করা হয়েছে, এমনকি সুরা ফাতিহা শরীফের তাফসীরেও প্রায় সকল মুফাসসিরে কিরাম ভুল করেছেন। ‘সিরাতুল মুস্তাকীম’ এর ব্যাখ্যায় হযরত নবী রাসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের উদ্দেশ্য করা হয়েছে অথচ কখনোই নবী রাসূল আলাইহিমুস সালাম হবেন না বরং এখানে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেই বুঝানো হয়েছে। সুরা ইয়াসিন ও অনেক বিশুদ্ধ হাদীস শরীফ উনাদের মধ্যে বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এককথায় সরল পথের মালিক হলেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই এজন্য সর্বাবস্থায় উনাকেই ইত্তেবা অনুসরণ অনুকরণ করতে হবে।
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলতানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন- সবার জন্য ফরজ হলো মহান আল্লাহ পাক উনার দিকে এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের দিকে রুজু হওয়া। উলীল আমর উনাদের মধ্যে যিনি উনাদের দিকে রুজু রয়েছেন উনার আদেশ নিষেধ পালন করা সাধারণ লোকের জন্য দায়িত্ব কর্তব্য। সাধারণভাবে একজন মুসলমান বা একটা কাফেরও আদেশদাতা হতে পারে, তাই বলে তাদেরকে অনুসরণ অনুকরণ করা যাবে না। বরং যেই উলীল আমর সবদিকে হতে সবচাইতে বেশী মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে রুজু হয়েছেন উনাকে অনুসরণ অনুকরণ করতে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে নির্দেশ মুবারক দেয়া হয়েছে। যাকে তাকে অনুসরণ করা বা যাকে তাকে উলীল আমর বলাও যাবে না বা মানা যাবে না। মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের আদেশ নিষেধের প্রতি যেই উলীল আমর ইস্তেকামত রয়েছেন উনাকেই অনুসরণ অনুকরণ করা যাবে, উনার কথাই মানতে হবে। কারণ, উলীল আমর হতে হলে অবশ্যই প্রথম শ্রেণীর অর্থাৎ চরম পর্যায়ের মুত্তাকী হতে হবে এবং ইলমে লাদুন্নী প্রাপ্ত হতে হবে।
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলতানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন- কাফেররা কখনো মুসলমানদের বন্ধু হতে পারেনা সেখানে তারা ভাই হয় কি করে। অথচ কাফেরদেরকে ভাই হিসেবে বলেছে দেওবন্দের কথিত আলেমরা। ভোট নির্বাচন তন্ত্রমন্ত্র করার সব বদ রছম, কুফরী শেরকী আমল এরাই জারী করেছে। সমস্ত কুফরী এরাই প্রচার করেছে। এদের কুফরী গুমরাহি হতে সবাইকে সতর্ক সাবধান থাকতে হবে। এজন্য সবাইকে বেশী বেশী যিকির আযকার করে, সোহবত মুবারক ইখতিয়ার করে অন্তরকে পরিশুদ্ধ করতে হবে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাছ দোয়া মুবারক পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম পবিত্র যাকাত আদায়
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পারিবারিক তা’লীম ও তার তারতীব
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দুনিয়ার চাকচিক্যে মোহগ্রস্ত হয়ে বদ আমল করার কারণে মানুষকে পরকালে পাকড়াও হতে হবে (২)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাছ দোয়া মুবারক পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম পবিত্র যাকাত আদায়
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত রমাদ্বান শরীফ মাস হচ্ছে তাক্বওয়া হাছিলের মাস, নেক দোয়া করার মাস এবং কাফির মুশরিকদের বিরুদ্ধে বেশী বেশী বদ দোয়া করার মাস
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












