পারিবারিক তালিম:
নিজে বাঁচুন এবং পরিবার পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাতে কোশেশ করুন
, ২০ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২০ হাদি আশির, ১৩৯২ শামসী সন , ১৯ এপ্রিল, ২০২৫ খ্রি:, ৬ বৈশাখ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মহিলাদের পাতা
শিশুরা স্বভাবতই অনুকরণপ্রিয়। বড়দের মধ্যে তার অন্তর যাকে পছন্দ করে, সে তাকেই অনুকরণ করে থাকে। জন্মের পর থেকে সে তার পিতা-মাতা, ভাই-বোন এদেরকেই অত্যন্ত কাছে এবং অতি আপন করে পেয়ে থাকে। ফলত শিশুকালে একটি মেয়েকে তার মায়ের অনুকরণ করে শিশু লালন-পালন, ঘর-বাড়ি, ঝাড়া-মোছা, ছোট ছোট হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে রান্নাবান্না করতে দেখা যায়। পাশাপাশি বড়দের দুনিয়াবী গাল-গল্প শোনা, পরচর্চা, পরনিন্দা, চালাকী, দুষ্টমী করে মিথ্যা বলা এই ধরনের বদস্বভাবগুলোও তার নিজের অজান্তেই তার মধ্যে গড়ে উঠে। তাছাড়া শিশু বয়সে সে খেতে না চাইলে তাকে হারাম টিভি দেখিয়ে ভুলিয়ে খাওয়ানো হয়, বেপর্দাভাবে তাকে যে কোনো অনুষ্ঠানে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রতিটি শিক্ষণীয় বিষয়ে সে আগ্রহী হওয়া সত্ত্বেও সে কোথাও ধর্মীয় আলোচনা খুঁজে পায় না। ফলশ্রুতিতে হারাম, হালাল সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞান সে অর্জন করতে সক্ষম হয় না। নিজেদের ধর্মের অস্তিত্ব খুঁজে না পেয়ে পরধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে এবং ঢালাওভাবে পহেলা বৈশাখ, থার্টিফার্স্ট নাইট, হাত ধোয়া দিবস ইত্যাদি হারাম দিবস পালনে সে উৎসাহ বোধ করে। নাঊযুবিল্লাহ! বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষণীয় যে, শিশুকালের অনেক স্মৃতিবিজড়িত ঘটনাই শিশুর কোমল অন্তরে গভীরভাবে রেখাপাত করে যা তার পরবর্তী বাস্তব জীবনে অনেকাংশে প্রভাব বিস্তারে সাহায্য করে।
যেমন ধরুন এর উল্টোটা যদি হয়, কোনো শিশু তার ছেলেবেলা থেকেই বাসায় নামায-কালামের চর্চা, ইলম চর্চাসহ পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে রোযা রাখা, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ, হারাম ছবি তোলা, রাখা, আঁকাসহ খেলাধুলা, গান-বাজনা, বেপর্দা ইত্যাদি সম্পর্কে সঠিক দ্বীন ইসলাম উনাকে অনুসরণ করতে দেখে তবে সেও সেভাবেই নিজেকে গড়ে তুলবে।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার অনুযায়ী, “যে ব্যক্তি যাকে মুহব্বত করবে তার হাশর-নশর তার সাথেই হবে। ” এখন কোনো ‘মা’ কি চান উনার আজকের অতি আদরের এই শিশুর হাশর হোক একজন কাফিরের সাথে? না, কখনোই না। তাহলে আসুন, আমরা সকলেই যারা আগামীতে একদিন মা হবো, দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত হই, ইসলামী আদর্শের অনুসরণ করি আগামী প্রজন্মকে করাতে শেখাই। দেশকে একটি সুস্থ, স্বাভাবিক, বিবেকবান জাতি উপহার দেই। পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার “নিজের জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচ এবং পরিবার-পরিপজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও” এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মিছদাক্ব হই। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলের নেক আরজুসমূহ কবুল করুন। (আমীন)।
-উম্মে হুসাইন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মেহমানদারী করার মাধ্যমে উদযাপনে শাফায়াত মুবারক লাভ
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সকল বিপদ-আপদে মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেই স্বরণ; এবং তাতেই মুক্তি
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
শাহিদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশ্তে প্রবেশ করবে না
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












