নামাযে মহান আল্লাহ পাক ও বান্দার মাঝে কথোপকথন
, ১৫ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১২ আউওয়াল, ১৩৯৩ শামসী সন , ১১ জুন, ২০২৫ খ্রি:, ২৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
ছলাত বা নামায সর্বশ্রেষ্ঠতম ইবাদত। নামাযের মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি বান্দার সাথে কথোপকথন করেন।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা তিনি বর্ণনা করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, একদিন হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম তিনি এসে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি আপনাকে সালাম দিয়েছেন। আর বলেছেন, কোন বান্দা যখন নামাযের জন্যে মহান আল্লাহ পাক উনার দরবার শরীফে দাড়িয়ে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে, তখন আমার এবং ঐ বান্দার মধ্যেকার পর্দা উঠিয়ে দেয়া হয়।
নামাযী যখন বলে: الحمد (আলহামদু) অর্থাৎ সকল প্রশংসা।
মহান আল্লাহ পাক তিনি তখন বলেন- لمن الحمد (লিমানিল হামদ) অর্থাৎ (কার জন্যে প্রশংসা)?
নামাযী বলে: لله (লিল্লাহি) অর্থাৎ (আল্লাহর জন্যে)।
মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন- من الله (মানিল্লাহ) অর্থাৎ (আল্লাহর পরিচয় কি)?
নামাযী বলে- رب العالمين (রব্বিল আলামীন) (অর্থাৎ তিনি বিশ্ব প্রতিপালক)।
মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন- ومن رب العالمين অর্থাৎ (ওয়ামার রব্বুল আলামীন) অর্থাৎ (বিশ্ব প্রতিপালক তিনি কে)?
নামাযী বলে- الرحمن الرحيم (আর রহমানির রহীম) (অর্থাৎ তিনি অনন্ত অসীম দয়াময়)।
মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন- ومن الرحمن الرحيم (অমানুর রহমানুর রহীম) অর্থাৎ (কে অনন্ত অসীম দয়াময়?)
নামাযী বলে- مالك اليوم الدين (মালিকি ইয়াও মিদ্দীন) অর্থাৎ (তিনি বিচার দিনের মালিক)।
মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন- يا عبدى أنا مالك اليوم الدين (ইয়া আবদী আনা মালিকি ইয়াও মিদ্দীন) অর্থাৎ (হে আমার বান্দা, আমিই বিচার দিনের মালিক)।
নামাযী বলে- ايام نعبد واياك نستعين (ইয়্যাকা না’বুদু অইয়্যাকা নাছতায়ীন) অর্থাৎ (ও আমরা শুধু আপনারই ইবাদত করি এবং আপনার কাছেই সাহায্য চাই)।
মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন- يا عبدى اعبدلي واستعن (ইয়া আবদী উ’বুদলী অছতায়িন) অর্থাৎ (তুমি আমারই ইবাদত করো এবং আমারই কাছে সাহায্য চাও)।
নামাযী বলে- اهدنا (ইহ দিনা) অর্থাৎ (আমাদেরকে পথ দেখান)।
মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন- الصراط المستقيم (আছ ছিরাতুল মুছতাকীম) (অর্থাৎ সরল সঠিক পথ, অর্থাৎ কোন্ পথ তুমি চাও)?
নামাযী বলে- صراط الذين أنعمت عليهم (ছিরাত্বল্লাজীনা আন আমতা আলাইহিম) (অর্থাৎ তাদের পথ যাদের আপনি নিয়ামত দান করেছেন)।
মহান আল্লাহ পাক তিনি তখন হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে লক্ষ্য করে বলেন, আপনারা সাক্ষী থাকুন, আমি আমার বান্দাকে নিয়ামতপ্রাপ্ত বান্দা তথা নবী, ছিদ্দীক্ব ও শহীদগণের দলভুক্ত করে নিলাম। সুবহানাল্লাহ!
নামাযী বলে- غير المغضوب عليهم ولا الضالين (গায়রিল মাগদুবি আলাইহিম অলাদ্দল্লীন) (অর্থাৎ তাদের পথ নয়, যাদের উপর আপনি গজব নাজিল করেছেন এবং যারা পথভ্রষ্ট)।
মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে বলেন, আপনারা সাক্ষী থাকুন আমি তাকে নিয়ামতপ্রাপ্ত বান্দাগণের দলভুক্ত করেছি। আর গযবপাপ্ত ও তিরস্কৃত লোকদের অন্তর্ভুক্ত করিনি।
নামাযী বলে- আমীন! (হে মহান আল্লাহ পাক! আপনি কবুল করুন)।
তখন হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারাও বলেন, (আমীন) (হে মহান আল্লাহ পাক! আপনি কবুল করুন)। (তাফসীরে নূরুল কুরআন ১/১৮৮, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ, নামায প্রশিক্ষণ-০৩)
-আল্লামা মুফতি সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুলতান আব্দুল হামিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলদিজ প্রাসাদে ইফতার আয়োজনের স্মৃতিকথা
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৬)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের অনবদ্য তাজদীদ মুবারক-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের হাঁচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৬)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












