সুন্নত মুবারক তা’লীম
দাঁড়িয়ে পানাহার করা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার খিলাফ
, ২২ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৯ ছানী, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৮ জুলাই, ২০২৫ খ্রি:, ০৩ শ্রাবণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
মুসলমান হিসেবে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক পালন করা আমাদের জন্য সর্বক্ষেত্রে আবশ্যক এবং সর্বপ্রকার নিয়ামত-রহমত, বরকত লাভের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। আর মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক পালন করতে হলে, আগে আমাদেরকে সে সম্পর্কে ইলিম অর্জন করতে হবে।
অসংখ্য-অগণিত মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারকের মধ্যে অন্যতম একখানা হচ্ছে, আহার করা। আহার করার ক্ষেত্রেও অসংখ্য মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক রয়েছে।
বর্তমান সমাজে দেখা যায় অনেকে, বাসা-বাড়িতে, হোটেল-রেস্তোরাঁয়, দোকানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খাবার খায়। যা, কোনভাবেই পবিত্র কুরআন শরীফ-পবিত্র সুন্নাহ শরীফ সম্মত নয়। কিন্তু কোন কোন ক্ষেত্রে অনেকে এটাকে গুরুত্ব তো দেয়-ই না বরং দাঁড়িয়ে আহার করাকে জায়িজ মনে করে। নাউযুবিল্লাহ!
উল্লেখ্য, যে কোন ধরনের পানাহার বসে করাই মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। যার স্বপক্ষে বহু দলীল রয়েছে।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى أَنْ يَشْرَبَ الرَّجُلُ قَائِمًا. فَقِيلَ الأَكْلُ قَالَ ذَاكَ أَشَدُّ.
অর্থ: হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে কাউকে দাঁড়িয়ে থাকাবস্থায় পান করতে নিষেধ করেছেন। দাঁড়িয়ে খাওয়া-দাওয়া করার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি ইরশাদ মুবারক করেনঃ এটাতো অত্যধিক খারাপ। (তিরমিযী শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ, মুসলিম শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَجَرَ عَنِ الشُّرْبِ قَائِمًا .
অর্থ: হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দাঁড়িয়ে পান করাকে তিরস্কার করেছেন অর্থাৎ শক্তভাবে নিষেধ করেছেন। (মুসলিম শরীফ : পবিত্র হাদীছ শরীফ নং; ৫১৬৯)
দাঁড়িয়ে পানাহার করা এতোটাই নিকৃষ্ট কাজ। কেননা, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
أَنَّهُ سَمِعَ حَضْرَتْ أَبَا هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَشْرَبَنَّ أَحَدٌ مِنْكُمْ قَائِمًا فَمَنْ نَسِيَ فَلْيَسْتَقِئْ.
অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমাদের কেউ যেন কখনো দাঁড়িয়ে পান না করে। কেউ ভুলে পান করলে সে যেন পরে বমি করে ফেলে। (মুসলিম শরীফ: পবিত্র হাদীছ শরীফ নং; ৫১৭৪)
উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে বুঝা যায় যে, দাঁড়িয়ে খাদ্য-পানীয় আহার করা অনেক বড় অপছন্দনীয় ও নিকৃষ্ট কাজ। কাজেই, কোন ওজর ব্যতিত সর্বক্ষেত্রে বসেই খাদ্য-পানীয় আহার করতে হবে।
দাঁড়িয়ে পানাহার করার ক্ষতিসমূহঃ
দাঁড়িয়ে পান করার অপকারিতা অনেক। যথাঃ
(১) এতে বদ-হজম হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে,
(২) জিইআরডি-তে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে,
(৩) অ্যাংজাইটি মাত্রা বেড়ে যায়,
(৪) পানি পান করলেও তেষ্টা থেকেই যায়,
(৫) কিডনি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়,
(৬) পাকস্থলীতে ক্ষত সৃষ্টি হয়,
(৬) অ্যাসিড মাত্রায় তারতম্য দেখা দেয়,
(৭) আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
দাঁড়িয়ে খাবার গ্রহণ করলে তা সরাসরি পাকস্থলীতে চলে যায়। এতে খাবার সঠিকভাবে হজম হয় না ও পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা দেখা দেয়। আর খাদ্যনালি, পাকস্থলীতে কোনো সমস্যা না থাকলেও হতে পারে অ্যাসিডিটির সমস্যা। খাবার ঠিকমতো হজম না হলে এর প্রভাব পুরো শরীরে পড়ে। কারণ বদহজম নানা সমস্যা সৃষ্টি করে। বদহজম হলে গ্যাস, পেট ফাঁপা, খাবার জমাট হয়ে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, বুক জ্বালা ও অবসাদ দেখা দেয়।
উল্লেখ্য, সর্বপ্রকার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারকের মধ্যেই রহমত, বরকত, নেয়ামত, কল্যাণ, উপকার রয়েছে। আর বিপরীতে অর্থাৎ মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারকের খিলাফ বিষয়গুলোতে ক্ষতি, অকল্যাণকর, অস্বাস্থ্যকর বিষয়গুলো রয়েছে। কাজেই, সকলের জন্য আবশ্যক হলো; সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনুসরণ করা। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে সেই তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (৩)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (১)
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে সম্মানিত ই’তিকাফ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র যাকাত-ফিতরা, উশর আদায়ের হুকুম আহকাম ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতার ও সাহরীতে খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (হাব্বাতুস সাওদা) - ১
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত-সম্পৃক্ত থাকা সকলের জন্য আবশ্যক
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত সন্তুষ্টি মুবারক সকল নেয়ামতের মূল
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












