তালাক দেয়ার অধিকারী কে? চেয়ারম্যান, মেম্বার নাকি আহাল বা স্বামী? (৪)
, ০৮ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৩ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২২ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ০৭ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মহিলাদের পাতা
আর এই তারতীব অবলম্বন করে তথা সালিস দুই ব্যক্তির মাধ্যমে সংশোধনের সর্বাত্মক কোশেশও যদি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। বিচ্ছেদ ছাড়া কোনো পথ না থাকে তাহলে কিভাবে ত্বালাক্ব বা বিচ্ছেদ ঘটাবে তারও বর্ণনা মহান আল্লাহ পাক তিনি সুনিপুনভাবেই দিয়েছেন। তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ وَاَحْصُوا الْعِدَّةَ ۖ وَاتَّقُوا اللّٰهَ رَبَّكُمْ
অর্থ: “যখন তোমরা আহলিয়াদেরকে (স্ত্রীদেরকে) ত্বালাক্ব দেয়ার ইচ্ছা করবে তখন তাদেরকে ইদ্দতের মধ্যে ত্বালাক্ব দিবে এবং ইদ্দত গণনা করবে। আর এ ব্যাপারে তোমাদের মহান রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করবে।” (পবিত্র সূরা ত্বালাক্ব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১)
উল্লেখ্য একসাথে তিন ত্বালাক্ব দিবে না। যদি ত্বালাক্ব দিতে হয় তবে কোন তারতীবে দিবে, তা নি¤েœ বর্ণনা করা হলো।
ত্বালাক্ব দানের তৃতীয় তারতীব:
ত্বালাক্ব দেয়ার আর একটি তারতীব রয়েছে, যে তারতীবে ত্বালাক্ব দিলে ত্বালাক্ব কার্যকর হবে বটে। তবে ত্বালাক্ব দাতা গোনাহগার হবে। আর সেটা হচ্ছে, একই তুহুরে তিন ত্বালাক্ব দেয়া কিংবা যে তুহুরে ওত্বী বা নির্জনে অবস্থান করেছে সে তুহুরে এক ত্বালাক্ব দেয়া। তাছাড়া যার সাথে ওত্বী করা হয়েছে এমন আহালিয়াকে তার স্বাভাবিক মাজুরতার সময় তাকে এক ত্বালাক্ব দেয়া। এ তারতীবে ত্বালাক্ব দেয়াকে তালাকে বিদয়ী বা বিদয়াত ত্বালাক্ব বলে।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে-
عن حضرت ابن عمر رضى الله تعالى عنه انه طلق امراته تطليقة وهى حائض ثم اراد ان يتبعها بطلقتين اخراوين عند القرئين الباقيين فبلغ ذلك النبى صلى الله عليه وسلم فقال يا ابن عمر رضى الله تعالى عنه ما هكذا امر الله اخطأت السنة والسنة ان تستقيل الطهر فتطلق لكل قرء فامرنى رسول الله صلى الله عليه وسلم فراجعتها ثم قال اذا هى حاضت ثم طهرت فطلق عند ذالك و امسك فقلت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم لو طلقتها ثلاثا كان لى ان اراجعها قال لا كانت تبين منك وتكون معصية
অর্থ: “হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি উনার আহলিয়াকে স্বাভাবিক মাজুর অবস্থায় এক ত্বালাক্ব দেন। এরপর তিনি ইচ্ছা করেন যে, পরবর্তী দুই তুহুর বা পবিত্রতায় তাকে বাকি দুই ত্বালাক্ব দিবেন। তার পূর্বে বিষয়টি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে পৌঁছে যায়। তখন তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হে হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! মহান আল্লাহ পাক তিনি এভাবে ত্বালাক্ব দেয়ার নির্দেশ মুবারক দেননি। আপনার দ্বারা সম্মানিত সুন্নত উনার খিলাফ কাজ সংঘটিত হয়েছে। সম্মানিত সুন্নত হলো- আপনি তুহুর বা পবিত্রতার জন্য অপেক্ষা করবেন এবং প্রত্যেক তুহুর বা পবিত্রতায় একবার ত্বালাক্ব দিবেন। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশ মুতাবিক আমি আমার আহলিয়াকে রাজায়াত করলাম বা ফিরিয়ে নিলাম। অতঃপর তিনি আমাকে বলেন, যখন আপনার আহলিয়া স্বাভাবিক মাজুর হবে এবং এরপর পবিত্র হবে তখন আপনি তাকে ত্বালাক্ব প্রদান করবেন এবং নিজেকে আহলিয়ার সাথে নিরিবিলি অবস্থান করা থেকে বিরত রাখবেন। আমি বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যদি আমি তাকে তিন ত্বালাক্ব দিতাম তাহলে কি আর ফিরিয়ে নিতে পারতাম? তিনি বললেন, না। সেক্ষেত্রে সে স্থায়ীভাবে আপনার থেকে পৃথক হয়ে যেত এবং এভাবে ত্বালাক্ব দেয়া গুনাহের কারণ হতো। (দারুকুতনী ও তাবারানী শরীফ, ফিক্বহুস সুনান ওয়াল আছার-২/৭৪)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত আছে-
عن حضرت على عليه السلام قال سمع النبى صلى الله عليه وسلم رجلا طلق البتة فغضب وقال يتخذون ايات الله هزوا. من طلق البتة الزمناه ثلاثا لا تحل له حتى تنكح زوجا غيره
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শুনতে পেলেন যে, এক ব্যক্তি তার আহলিয়া বা স্ত্রীকে “আলবাত্তা” বা চুড়ান্ত ত্বালাক্ব দিয়েছে। তখন তিনি জালালী শান মুবারক প্রকাশ করলেন এবং ইরশাদ মুবারক করলেন, তারা মহান আল্লাহ পাক উনার আয়াতসমূহকে তামাশার বিষয় বানিয়ে নিচ্ছে। যেব্যক্তি “আল বাত্তা” বা চুড়ান্ত ত্বালাক্ব দিবে আমরা তার সেই ত্বালাক্ব কে তিন ত্বালাক্ব হিসেবে গণ্য করবো। সেই আহলিয়া তার জন্য হালাল হবে না, যতক্ষণ না সে অন্য কোনো আহালকে (স্বামী) বিবাহ করবে। (নাসায়ী শরীফ, দারু কুতনী শরীফ, ফিকহুস সুনান ওয়াল আছার-২/৭৫)
স্মরণীয় এক সাথে তিন ত্বালাক্ব দেয়াকে তালাকে মুগাল্লাজা বলে। মুগাল্লাজা ত্বালাক্ব দিলে ত্বালাক্ব কার্যকরী বা পতিত হবে। তবে ত্বালাক্ব দাতা গুনাহগার হবে। কেননা যে উদ্দেশ্যে সম্মানিত শরীয়ত তালাকের বিধান দিয়েছেন সে বিধানকে সে রাগ বা গোসসা দমনের উপকরণ বানিয়েছে। যারা ত্বালাক্ব কে রাগ প্রশমনের উপকরণ বানায় তারা জাহিল ও গুনাহগার। কাজেই, ত্বালাক্ব দাতাকে খালিছ তওবা ইস্তিগফার করতে হবে।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য, ত্বালাক্বের যে তারতীব বর্ণনা করা হয়েছে, যদি ত্বালাক্ব দেয়ার একান্ত প্রয়োজনই হয় তাহলে সে তারতীব অনুযায়ী ত্বালাক্ব দিতে পারবে।
তবে আরো উল্লেখ্য, সম্মানিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে-
عن حضرت ابن عمر رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ابغض الحلال الى الله الطلاق
অর্থ: হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট হালালের মধ্যে সবচেয়ে অপছন্দনীয় হচ্ছে ত্বালাক্ব দেয়া। (আবূ দাউদ শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ, দারু কুতনী শরীফ, বাইহাক্বী শরীফ)
পবিত্র হাদীস শরীফ বর্ণিত আছে-
تزوجوا ولا تطلقوا فان الطلاق يهتز له عرش الرحمن
অর্থঃ সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা বিবাহ করো, তবে তালাক্ব দিওনা । কেননা তালাক্ব দিলে পরম করুনাময় মহান আল্লাহ পাক উনার আরশ মুবারক কেঁপে উঠে। নাঊযুবিল্লাহ। অর্থাৎ প্রয়োজনে চারটি বিবাহ করো তবুও তালাক্ব দিওনা।
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
২২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শানে সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম
২১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
“যিনি সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনাকে বিশেষ মর্যাদা দিলেন, তিনি অবশ্যই ঈমান নিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিবেন এবং বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবেন”
২১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
২০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হাশরের ময়দানে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককেই দিতে হবে
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
“প্রত্যেককে মু’মিনে কামিল হতে হবে” (১ম পর্ব)
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












