তালাকদাতা ও তালাকপ্রার্থিনী উভয়ের জন্য রয়েছে অসন্তুষ্টি (৩)
, ২৫ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৬ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ০১ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মহিলাদের পাতা
তাছাড়া মুখে তালাক উচ্চারণ না করলেও এমন কতিপয় গোনাহের কাজ রয়েছে, মু’মিন-মু’মিনাগণ যদি তা হালাল বা জায়িয মনে করে তাহলে তাদের অজান্তেই তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়। তখন স্বীয় স্ত্রীর সাথে অবস্থান করা জায়িয থাকে না। সেক্ষেত্রে সে প্রতি সেকেন্ডে সেকেন্ডে কবীরা গুনাহে লিপ্ত হয়। সন্তান হলে সে সন্তানের বৈধতা থাকবে না। এরূপ সন্তানই পিতা-মাতার অবাধ্য হয়। মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নাফরমানী করে। বিরূদ্ধাচরণ করে। নাউযুবিল্লাহ!
তারাই বেদ্বীন-বদদ্বীন, ইহুদী-নাছারা, মজুসী, মুশরিকদের অনুসরণ করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করে। নাউযুবিল্লাহ! এরাই মুসলমান নাম দিয়ে, মুসলমানদের ঘরে জন্মগ্রহণ করেও ইহুদী, নাছারা, মজুসী, মুশরিক, হিন্দু, বৌদ্ধদের দালালী করে। নাউযুবিল্লাহ!
অতএব, তালাক এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞান হাছিল করা সকলেরই দায়িত্ব কর্তব্য তথা ফরযে আইন উনার অন্তর্ভুক্ত।
طلاق (তালাক) - এর শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ:
طلاق এর আভিধানিক অর্থ: খুলে দেয়া, ছেড়ে দেয়া, বিবাহ বন্ধন ছিন্ন করা।
সম্মানিত শরীয়ত উনার পরিভাষায় নির্ধারিত শব্দাবলী দ্বারা হালান (সাথে সাথে) অথবা মালান (মাল-সম্পদের মাধ্যমে) বিবাহ বন্ধন বিচ্ছিন্ন করাকে তালাক বলা হয়। (বাহরুর রায়িক, আলমগীরী)
طلاق - এর হুকুম-আহকাম: যদি রাজঈ তালাক হয় তাহলে ইদ্দত (তিন স্বাভাবিক মাজুরতা) খতম বা শেষ হওয়ার পর পরস্পর জুদা বা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
আর যদি তালাকে বাইন হয়, তখন ইদ্দত খতম বা শেষ হওয়া ব্যতীতই সাথে সাথেই জুদা বা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। (ফাতহুল কাদীর, আলমগীরী)
আর যদি তিন তালাক পূর্ণ হয়ে যায়, তখন এই স্ত্রীকে হিলা (অন্য কারো সাথে বিবাহ দেয়ার পর তার থেকে বিচ্ছিন্ন) না হওয়া পর্যন্ত কখনো সে বিবাহ করতে পারবে না। (আল বাহরুল মুহীত লিচ্ছুরুখসী, আলমগীরী)
উল্লেখ্য যে, তিন তালাক রাজঈ হয় না। এমনকি “তালাকে রাজঈ” নাম উচ্চারণ করা সত্ত্বেও তিন তালাক হয়ে গেলে আর স্বামীর কোন ক্ষমতা বা কর্তৃত্ব থাকে না। তা তালাকে মুগাল্লাযা হয়ে যায়।
এজন্য পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে তিনি তালাক দেয়ার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কারণ, তালাক এতই নিকৃষ্ট কাজ যে, যদি কেউ এক তালাক দিয়ে রাজায়াত বা পূনরায় ফিরিয়ে নেয় কিংবা বিবাহ দোহরাইয়া ২/৩ বছর পর পূনরায় এক তালাক দেয় এবং তারপর ২/৩ বছর পর আবার এক তালাক দেয় তাহলে সব মিলে যোগ হয়ে তালাকে মুগাল্লাযায় পরিণত হয়ে সম্পূর্ণভাবে তালাক হয়ে যায়। একজন পুরুষ একজন স্ত্রীর উপর তিন তালাক দেয়ার অধিকার প্রাপ্ত হয়ে থাকে।
طلاق -এর প্রকারভেদ: ফক্বীহ বা ফিক্বাহ শাস্ত্রবিদগণের মতে হুকুমের দিক দিয়ে তালাক তিন প্রকার:
১। তালাকে রাজঈ : এমন তালাক যা প্রদান করলে স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার থেকে যায়। স্বামী ইচ্ছা করলে স্ত্রীকে সাথে সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া ব্যতীত পূনরায় নিজের বন্ধনে ফিরিয়ে আনতে পারে। অর্থাৎ উক্ত স্ত্রীর সাথে নিরিবিলি অবস্থান করা কিংবা নিরিবিলি অবস্থানের দিকে আকর্ষনকারী কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়া, অথবা খাহেশাতের সাথে স্পর্শ বা বুছা দেয়া কিংবা আমি তোমাকে ফিরিয়ে নিলাম বললেও রাজায়াত বা ফিরিয়ে আসে। উল্লেখ্য যে, সরীহ বা সুস্পষ্ট তালাক (তালাক শব্দ উচ্চারণের মাধ্যমে) এভাবে বলা যে, “তুমি তালাক” কিংবা “আমি তোমাকে তালাক দিলাম।” এ সকল শব্দ দ্বারা তালাক দিলে তালাকে রাজঈ পতিত হয়।
২। তালাকে বায়িন : এমন তালাক যা প্রদান করলে স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার থাকে না। বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। তবে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের সম্মতিক্রমে (হিলা ব্যতীত) নতুনভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে।
উল্লেখ্য যে, তালাকের সাথে যদি কোন প্রকার অতিরিক্ততা বা কঠোরতার গুণ যুক্ত করা হয় তাহলে তালাকে বায়িন হয়। যেমন- কেউ বললো, তোমার প্রতি তালাকে বায়িন কিংবা তোমাকে অকাট্য তালাক। তবে তিন তালাকের নিয়ত করলে তিন তালাকই পতিত হবে। অন্যথায় এক তালাকে বায়িন হবে।
৩। তালাকে মুগাল্লাযা : এমন তালাক যার কারণে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। এবং স্ত্রী অপর কোন ব্যক্তির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া, অতঃপর ঐ স্বামী তার সাথে নিরিবিলি অবস্থান করার পর তালাক দিলে অথবা স্বামী মৃত্যুবরণ করলে পুনরায় উক্ত স্ত্রী প্রথম স্বামীর সাথে উভয়ের সম্মতিক্রমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে।
সংকলন-সম্পাদনায় : মুফতি সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হুব্বে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নছীহত মুবারক: ইলিম হাছিল করতে হবে একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের জন্য (৩)
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল উনার ইন্তিজামকারী বিনা হিসাবে সম্মানিত জান্নাতে প্রবেশ করবেন
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হাক্বীক্বী পর্দা না করার কারণেই মহিলারা লাঞ্ছিত হয়, কষ্ট পায়
১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












