সম্পাদকীয়-১
তাগুতী সরকারের মত বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও ছিটমহলবাসীদের প্রতি বৈষম্য করছে। গত ১০ বছরে মানচিত্রের অন্তর্ভূক্তি ছাড়া ছিটমহলবাসীর জীবন জীবিকার কিছুই উন্নয়ন হয়নি। ছিটমহলে আলাদা ইউনিয়ন ও উন্নয়নে নজর দিন।
, ০৯ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৩ সাদিস, ১৩৯৩ শামসী সন , ০১ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ১৬ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) সম্পাদকীয়
সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
স্থলসীমান্ত চুক্তি (ছিটমহল বিনিময়) ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়। সে হিসেবে এ চুক্তির ১০ বছর পূর্ণ হলো। বাংলাদেশ পায় লালমনিরহাটে ৫৯টি, পঞ্চগড়ে ৩৬টি, কুড়িগ্রামে ১২টি, নীলফামারীতে ৪টিসহ মোট ১১১টি ছিলমহল বা ১৭১৬০.৬৩ একর জমি এবং প্রায় এক লাখ লোক। ভারত পায় কুচবিহারে ৪৭টি, জলপাইগুড়িতে ৪টিসহ মোট ৫১টি ছিটমহল বা ৭১১০.০২ একর জমি এবং জনসংখ্যা প্রায় ৫ লাখের উপরে।
ছিটমহলগুলো নাগরিকত্ব, এনআইডি, ভোটাধিকার- সবই মিলেছে, তবু জীবনব্যবস্থায় পরিবর্তনের ছোঁয়া নেই। ছিটমহলবাসীর ভাষায়, ‘মানচিত্রে ঠাঁই হলেও বাস্তবে আমাদের কষ্টের ঠিকানা বদলায়নি। ’
দাশিয়ার ছড়া ছিটমহল ঘুরে দেখা যায়, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে একাধিক সড়ক, ব্রিজ ও সরকারি স্থাপনা। কিন্তু বাস্তবে এসবের অনেকটাই অকার্যকর বা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। আইসিটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ হলেও সেখানে নেই কোনো প্রশিক্ষক, নেই কর্মসূচি- ভবনটি তালাবদ্ধ পড়ে রয়েছে দীর্ঘ দিন ধরে। একইভাবে কমিউনিটি ক্লিনিক চালু হলেও নেই চিকিৎসক, নেই ওষুধ। সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে পাশের ইউনিয়ন বা উপজেলা সদরে গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
সরকারিভাবে চারটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এমপিওভুক্ত হলেও বাস্তবতা করুণ। অধিকাংশ বিদ্যালয়ের ভবন জরাজীর্ণ, কোথাও নেই শৌচাগার বা বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা। শিক্ষক সঙ্কটও প্রকট। স্থানীয় যুবক-যুবতীরা শিক্ষিত হলেও তাদের এমপিওভুক্ত স্কুলে নিয়োগ না হওয়ায় বেকারত্বের হার দিন দিন বাড়ছে।
এখনো রাস্তা কাঁদায় ডুবে থাকে, হাসপাতালে গেলে ওষুধ নেই। ” ‘স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়েও তারা রাষ্ট্রের সব সুযোগ থেকে বঞ্চিত। ’
ছিটমহলবাসী আজ বাংলাদেশের নাগরিক হলেও, বাস্তবে তারা এখনো প্রান্তিক ও বঞ্চিত। উন্নয়নের কয়েকটি দৃষ্টান্ত থাকলেও মৌলিক চাহিদাগুলো রয়ে গেছে অপূর্ণ।
দশ বছরেও যদি স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান নিশ্চিত না হয়- তবে স্বাধীনতার স্বাদ শুধু নথিতে সীমাবদ্ধ থাকে।
সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি ছিটমহলবাসীর একটাই আবেদন-“আমাদের কষ্টটা দেখুন, প্রতিশ্রুতি নয়, কাজ দিন। ”
ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় কমিটির সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বলেন, “সড়ক ও বিদ্যুৎ খাতে কিছু উন্নয়ন দৃশ্যমান হলেও অধিকাংশ উন্নয়ন আজও ফাইলের স্তূপে চাপা পড়ে আছে। প্রতিশ্রুতি অনেক দেয়া হলেও বাস্তবায়ন হয়েছে সামান্যই। ভূমি জরিপ করা হলেও তা ছিল ত্রুটিপূর্ণ। বহু জমি ভুলভাবে রেকর্ড করা হয়েছে, ফলে মানুষ এখন জমির মালিক হয়েও আইনগতভাবে নিজস্বতা প্রমাণ করতে পারছে না। এতে দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। ”
ছিটমহলবাসী জানান, এক হাজার ৬৪৩ দশমিক ৪৪ একর আয়তনের সাবেক ছিটমহল দাসিয়ারছড়াকে তিন ভাগ করে ফুলবাড়ী সদর, ভাঙ্গামোড় ও কাশিপুর ইউনিয়নের সাথে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। “ছিটমহলটিকে একটি স্বতন্ত্র ইউনিয়ন পরিষদ গঠনের দাবি বহুদিনের। এতে প্রশাসনিক সেবা যেমন সহজ হবে, তেমনি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নেও গতি আসবে। কিন্তু এ দাবি আজও বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। ”
বিগত তাগুতী সরকার বৈষম্যের সরকার ছিলো বলে, এ বিষয়ে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু সংস্কারের দাবীদার অন্তর্বর্তী সরকার ছিটমহল সংস্কারের ক্ষেত্রে অন্ধ, বধির এবং বোবা কেন? তাদের এ উদাসীনতা ও নিস্ক্রিয়তা ছিটমহলবাসীদের প্রতি চরম বৈষম্য। যা জুলাই অভ্যুত্থান তথা বৈষম্য বিরোধী চেতনার সাথে এবং উপদেষ্টাদের শপথের সাথে সাংঘর্ষিক। নিজেদের ক্ষমতার বৈধতার স্বার্থেই অন্তর্বর্তী সরকার ছিটমহলবাসীর উন্নয়নে শীঘ্রই ব্যবস্থা নিতে এখন জনপ্রত্যাশা।
ছহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
শীতের সবজি, গ্রীষ্মের ফল, ফসল এখন বর্ষায় অকল্পনীয় বাম্পার ফলন হয়
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! পাশাপাশি আখাছছুল খাছ আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার সম্মানিত আ’দাদ শরীফ। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
তেরো হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাধারণ প্রসব প্রক্রিয়ায় সরকারের শুভবুদ্ধি তখন শুদ্ধ হবে যখন সিজার সিন্ডিকেটকে সরকার শক্ত হাতে নির্মূল করতে পারবে
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
৬০ হাজার কোটিতেও ঢুকছে বন্যার পানি বছরে ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের রফতানির সম্ভাবনার সব বাধা দূর করে সোনালী সমৃদ্ধি এনে সর্বনাশা ঋণের খপ্পর থেকে দেশকে বাচাতে সরকারকে সক্রিয় হতে হবে।
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সব সরকারের আমলেই নেয়া পানিবদ্ধতা নিরসনের সব টাকা পানিতেই যায়।
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়ার হালাল পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ সাড়া দিতে হবে
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
চায়ের কাঙ্খিত উৎপাদন বৃদ্ধিতে অন্য সব ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সমতলেও চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে।
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কিন্তু বর্তমান সরকার জনগণের মালিকানা থেকে অন্যায্যভাবে সেবককে বাড়তি অর্থ দিচ্ছে। বেতন-ভাতা বাড়াচ্ছে ১৪০%। এই বৈষম্য ও অন্যায় সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বিরোধী।
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদু শাবাবী আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম সিবতু রসূল আছ ছানী আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
১২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












