জুলাই ঘোষণাপত্রের প্রতিক্রিয়া জানালো বার্গম্যান
, ১২ ছফর শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৮ ছালিছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৭ আগস্ট, ২০২৫ খ্রি:, ২৪ শ্রাবণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) দেশের খবর
নিজস্ব প্রতিবেদক:
জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ব্রিটিশ সাংবাদিক বার্গম্যান। অনলাইনে দেয়া এক বিশ্লেষণমূলক পোস্টে বার্গম্যান তার অভিমত তুলে ধরে।
বার্গম্যান লিখেছে, ১. ঘোষণাপত্রে উপস্থাপিত ইতিহাসের অধিকাংশ অংশই প্রবলভাবে পক্ষপাতদুষ্ট এবং একতরফাভাবে উপস্থাপিত। বিশেষত, আওয়ামী লীগকে নিয়ে যে ভাষ্য দেওয়া হয়েছে, তা দলটির প্রতি গভীর বিরূপ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। এই বিরূপতা শুধু ক্ষমতায় থাকাকালীন সরকারের কর্মকা-কে কেন্দ্র করে নয়; বরং আওয়ামী লীগ সম্পর্কে দীর্ঘস্থায়ী একটি রাজনৈতিক বিদ্বেষ থেকেই উৎসারিত বলে মনে হয়। পুরো ঘোষণাপত্র পড়লে মনে হয়, এটি যেন দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করে আসা একটি গোষ্ঠীর রাজনৈতিক বিবৃতি।
২. ঘোষণাপত্রের রাজনৈতিক পক্ষপাত স্পষ্ট এবং তা আরও গভীরভাবে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আওয়ামী লীগ যে দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ইতিহাস ব্যাখ্যা করেছিল, এই দলিলটি যেন সেই পক্ষপাতিত্বের জবাবে আরও একটি পক্ষপাতদুষ্ট ইতিহাস দাঁড় করাতে চায়। আওয়ামী লীগ সরকারে থাকাকালেই সেই ইতিহাসের পক্ষে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। অথচ এই ঘোষণাপত্র সেই বিতর্কিত ব্যাখ্যাকে সরিয়ে দিয়ে, তার চেয়েও বেশি রাজনৈতিকভাবে রঙচঙে আর একতরফা বয়ান হাজির করছে। মনে হয়, ৫ আগস্টের মূল উদ্দেশ্যই ছিল সেই বিকল্প বয়ান প্রতিষ্ঠা করা।
৩. ইতিহাসের এই বয়ানে নিচের বিষয়গুলো উপেক্ষা করা হয়েছে, ত্রুটি রয়েছে এবং ভুল উপস্থাপনা করা হয়েছে:
-ঘোষণাপত্রে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শাসনকালকে শুধু একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশালের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে। যুদ্ধপরবর্তী জাতি গঠনে আওয়ামী লীগ যেসব কার্যক্রম গ্রহণ করেছিল, সেগুলো উপেক্ষা করা হয়েছে। (অনুচ্ছেদ ৪)
-এতে বরং ১৯৭১- পরবর্তী ‘জনগণের আকাঙ্খা পূরণে আওয়ামী লীগের ব্যর্থতার’ দায় ‘সংবিধানের খসড়া তৈরির প্রক্রিয়া ও কাঠামোর দুর্বলতার’ ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে আওয়ামী লীগের যতটা সফল হওয়ার কথা ছিল, ততটা না হওয়ার পেছনে নিঃসন্দেহে অনেক কারণ রয়েছে। তবে আমি কখনোই শুনিনি, সংবিধানের ‘খসড়া তৈরি’ ও ‘কাঠামো’ সেসব কারণের একটি। (আমার মনে হয়, ‘সংবিধান নিয়ে’ এই বিতর্ক উঠে এসেছে বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কাছ থেকে। বাংলাদেশে তারা এখন ক্ষমতাশালী এবং নতুন একটি সংবিধানকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য কারণ খুঁজে বের করতে চায়)।
-ঘোষণাপত্রে ১৯৭৫ সালের আগস্টে সেনাসদস্যদের হাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিব ও তার পরিবারের ১৬ জন সদস্যের হত্যার কথা উল্লেখ করা হয়নি। এই হত্যাকা-ের মধ্য দিয়ে বছরের পর বছর ধরে সামরিক শাসন শুরু হয়েছিল। (অনুচ্ছেদ ৪)
-ঘোষণাপত্রে ১৯৭৫ সালের নভেম্বর থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত মুজিব-পরবর্তী সময়ে যখন জিয়াউর রহমান (যিনি পরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতা হন) ক্ষমতায় ছিলেন, ওই সময়টাকে উপেক্ষা করা হয়েছে। আর এটাকে সাধারণভাবে তুলে ধরা হয়েছে ‘সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লব’ হিসেবে, যা ‘বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তনের’ পথ সুগম করেছিল (অনুচ্ছেদ ৪)। এটি সেই সময়ের অতিমাত্রায় বিএনপিপন্থী বর্ণনা।
-ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, ‘১/১১’- যখন ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে তত্ত¦াবধায়ক সরকারকে সরিয়ে সামরিক বাহিনী-নিয়ন্ত্রিত সরকার এসেছিল, তা ছিল ‘ষড়যন্ত্রমূলক ব্যবস্থার’ ফল (অনুচ্ছেদ ৬)। প্রকৃতপক্ষে এটি হয়েছিল বিএনপি সরকার যখন নির্বাচনে কারচুপি করার চেষ্টা করছিল। আর এই কারচুপি থামানোর একমাত্র পথ ছিল সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ। দৃশ্যত সে সময় এ সিদ্ধান্ত খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল।
-ঘোষণাপত্রের আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে ১/১১-এর পেছনের ‘ষড়যন্ত্রমূলক ব্যবস্থা’ আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় এনেছিল (অনুচ্ছেদ ৬ ও ৭)। তবে ২০০৯ সালের নির্বাচনে কিছু কারচুপির ঘটনা ঘটলেও এই নির্বাচনকে সাধারণত বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনগুলোর একটি হিসেবে দেখা হয়। সে সময় স্পষ্টভাবেই আওয়ামী লীগ ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয় দল (২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকাকালে বিএনপি তাদের সুনাম হারিয়েছিল)।
-২০০৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছিল তা উল্লেখ না করে ঘোষণাপত্রে এই ধারণা দেওয়া হয়েছে যে ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকাকালে দলটি ‘ফ্যাসিবাদী, অগণতান্ত্রিক ও গণবিরোধী’ ছিল (অনুচ্ছেদ ৭)। এটি একেবারেই অসত্য। বাস্তবতা হলো, ক্ষমতায় থাকার সময় যতই গড়িয়েছিল, ততই অগণতান্ত্রিক ও কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। .....
.... ৬. যদিও এটা ঠিক যে ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ‘আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র ও জনতাকে’ ভবিষ্যতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার শিকার হওয়া থেকে একধরনের ‘আইনি সুরক্ষা’ দেওয়া উচিত (অনুচ্ছেদ ২৪), তবে শব্দের ব্যবহার দেখে মনে হয়েছে আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দায়মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে (যে পরিস্থিতিতে সেই হত্যাকা-গুলো ঘটুক না কেন)। ‘আইনের শাসনের’ দিক দিয়ে এখানে সমস্যা রয়েছে, যে আইনের শাসন বাংলাদেশের মানুষ আশা করে বলে ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। (সংক্ষেপিত)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
অতিভারী বৃষ্টি আরও পাঁচদিন
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
১ হাজার টাকার জন্য মারধরে বৃদ্ধ নিহত, আটক ২
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হিন্দুত্ববাদী প্রতারক হরিদাস গ্রেফতার
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বন্যায় চট্টগ্রামে সাপের উপদ্রব
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দেশ পুনর্গঠনে সরকার কোনো বাধা মানবে না -প্রধানমন্ত্রী
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দন্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে শেখ হাসিনাকে জেলেই যেতে হবে -পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত না করায় তোপের মুখে শিক্ষামন্ত্রী
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মডেল মসজিদ নির্মাণের ব্যয় তদন্তে আজই নির্দেশ দেয়া হবে -স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সিজারিয়ান সংস্কৃতি কমিয়ে স্বাভাবিক প্রসবে জোর দিচ্ছে সরকার -স্বাস্থ্যমন্ত্রী
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
চীনের অর্থায়নে ২০ হাসপাতাল, যুক্ত হবে ২১ হাজার শয্যা
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সব হারিয়ে পরের ঘরে তারা, মেলেনি ত্রাণের সহায়তা
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বাড়ছে আমদানি, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে চাপের আশঙ্কা
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












